page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

অভিষেকের সাথে ব্রেক আপ সামলাতে আমাকে বিয়ে করে কারিশমা—সঞ্জয় কাপুর

এক মাস আগে কারিশমা কাপুর ডিভোর্স পিটিশন থেকে নিজের সম্মতি উঠিয়ে নেন, এরপর তার স্বামী সঞ্জয় কাপুর আদালতে নতুন একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। নতুন পিটিশনে সঞ্জয় কাপুর দাবি করেছেন কারিশমা তাকে টাকার জন্য বিয়ে করেছিলেন।

karishma-2

কারিশমা ও অভিষেক

karishma-1

কারিশমা, সঞ্জয় ও তাদের মেয়ে

কারিশমা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুরের ডিভোর্স নিয়ে জটিলতা দিন দিন বাড়ছে। বেশ অনেক দিন ধরেই এই দম্পতির ডিভোর্স হওয়ার কথা চলছে।

এক মাস আগে কারিশমা কাপুর ডিভোর্স পিটিশন থেকে নিজের সম্মতি উঠিয়ে নেন, এরপর তার স্বামী সঞ্জয় কাপুর আদালতে নতুন একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। নতুন পিটিশনে সঞ্জয় কাপুর দাবি করেছেন কারিশমা তাকে টাকার জন্য বিয়ে করেছিলেন।

মুম্বাই মিররের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুর বলেছেন কারিশমা তাকে খুব হিসাব-নিকাশ করেই বিয়ে করেছিলেন। সঞ্জয় কাপুর তাদের বিয়ে নিয়ে ঝামেলা হওয়ার জন্য কারিশমা কাপুরকে দায়ী করেছেন। সঞ্জয় কাপুর আরো বলেছেন অভিষেক বচ্চনের সাথে ব্রেকআপের ধাক্কা সামলানোর জন্যই কারিশমা তাকে বিয়ে করেছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ২০০২ সালে অভিষেক বচ্চন ও কারিশমা কাপুরের বাগদান হলেও কয়েক মাস পরেই তা ভেঙে যায়।

পিটিশনে সঞ্জয় আরো বলেছেন, কারিশমা শুধু স্ত্রী ও পুত্রবধূ হিসাবেই ব্যর্থ না, মা হিসেবেও তিনি ব্যর্থ।

পাঁচ বছর ধরে সঞ্জয় ও কারিশমা আলাদা বাস করছেন। তাদের দুই সন্তান, মেয়ে সামাইরা ও ছেলে কিয়ান। ডিভোর্সের পর তাদের কাস্টডি কে পাবেন তার মীমাংসা এখনো হয় নি।

সঞ্জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কারিশমা তাদের ছেলে কিয়ানকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং আরো বেশি টাকা দাবি করে তার বাচ্চাদেরকে সঞ্জয়ের পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয় নি। এমনকি পিতা হিসেবে তার বাচ্চাদেরকে তার সাথেও দেখা করতে দেয় নি কারিশমা।

সঞ্জয় জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে চেষ্টা করেও বাচ্চাদের সাথে তার দেখা করার সুযোগ মিলে নি।

সন্তানদের কাস্টডি পাওয়া ছাড়াও সন্তানদের জন্য দুজন মিলে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে তোলার কথা রয়েছে। কারিশমাকে একমাত্র ট্রাস্টি বানানোর ব্যাপারে সঞ্জয় সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের জন্য ফান্ডের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলো কিনা সেই ব্যাপারে দায়ী থাকার শর্তে কারিশমা তাতে রাজি হন নি।

পিটিশনে আরো বলা হয়েছে, কারিশমা তার বোন কারিনা কাপুরকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছেন, কিন্তু এতে সঞ্জয় ও তার পক্ষের আপত্তি রয়েছে। সে জন্য তার ওপরে আস্থা স্থাপন করা সম্ভব নয়।

সঞ্জয় দাবি করেছেন, কারিশমা পরিবারের চেয়ে ক্যারিয়ারকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বারবার অনুরোধ করা স্বত্ত্বেও দিল্লীতে ফিরে যান নি। কারিশমা সঞ্জয়কে প্রতারণাকারী, মদ্যপ ও মাদকাসক্ত ইত্যাদি মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ও তার পরিবারকে মিডিয়ার সামনে খারাপভাবে উপস্থাপন করেছেন ।

তবে কারিশমার আইনজীবী ক্রান্তি সাথে বলেছেন, সঞ্জয়ের অভিযোগগুলি বানোয়াট। ক্রান্তি সাথে বলেন, আমরা আদালতে বলব তিনি মিথ্যা গল্প ছড়িয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের ক্ষতি করছেন। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার চাই না।

২০০৩ সালে সঞ্জয় ও কারিশমার বিয়ে হয়, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। পরের কয়েক বছরে কারিশমা ও সঞ্জয় উভয়েই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। ২০১০ সালে কারিশমা সঞ্জয়ের দিল্লীর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসে স্থায়ীভাবে মুম্বাইতে থাকা শুরু করেন।

২০১৪ সালে তারা দুইজনই ১২ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষ করে ডিভোর্সের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক