page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

অস্ট্রেলিয়ার আদালতে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের গোপন চিঠি প্রকাশের আবেদন

অস্ট্রেলিয়ার আদালতে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের গোপন চিঠি প্রকাশ করার আবেদন করলেন এক ইতিহাসবিদ।

ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক জেনি হোকিং ২০১৭ সালের জুলাই মাসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের গোপন চিঠি প্রকাশ করার আবেদন জানান অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে। ৪০ বছর আগে রানী এলিজাবেথের প্রতিনিধি তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ার সরকার বাতিল করে দেন। সেই চক্রান্ত সম্পর্কে রানী নিজেও যে ওয়াকবিহাল ছিলেন এ রকম কোনো তথ্যই এই চিঠিগুলি থেকে পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী অস্ট্রেলিয়ার সাংবিধানিক রাজ্যপ্রধান। তবে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল আর্কাইভ জানিয়েছে, তার এবং তার অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধি গভর্নর জেনারেল স্যার জন কেরের মধ্যকার বিনিময় করা চিঠিপত্রগুলি একান্তই “ব্যক্তিগত”। তাই সেগুলি কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ নাও করা হতে পারে।

১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত গফ হুইটল্যাম সরকারের পতন ঘটে ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞীর কর্তৃত্বে। এ রকম ঘটনা ইতিহাসে ওই একবারই ঘটেছিল।

এবিসি নিউজ থেকে জানা যায়, জেনি হোকিং মনে করেন ইতিহাসের স্বচ্ছতার দায়ে এই চিঠিগুলি সম্পর্কে জানার অধিকার অস্ট্রেলিয়ার জনগণের রয়েছে। রানীর অনুমতি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল আর্কাইভ জানিয়েছে, রানী এবং তার অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধি গভর্নর জেনারেল স্যার জন কেরের মধ্যকার বিনিময় করা চিঠিপত্রগুলি একান্তই ‘ব্যক্তিগত’।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে এই ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেন হোকিং। জনগণের পক্ষের উকিলরা বিনা পারিশ্রমিকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা এই মামলা হেরে গেলে আর্কাইভকে খরচের জন্য যে ২৮ হাজার ডলার প্রদান করতে হবে তাও জনগণের কাছ থেকে আদায় করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল এই মামলায় সমর্থন দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ দুইজন ব্যক্তির আলোচনা কখনোই নাগরিকদের কাছ থেকে গোপন থাকা উচিত না।

বছরের পর বছর অনুসন্ধান করে সাংবাদিক এবং ইতিহাসবিদেরা হুইটল্যাম সরকারের পতন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক জেনি হোকিং

গণমাধ্যমে এমন কথাও উঠেছিল যে, অস্ট্রেলিয়ার পাইন গ্যাপে অবস্থিত আমেরিকার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’র (সিআইএ) টপ সিক্রেট স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা থাকায় সিআইএ হুইটল্যামকে কর্মচ্যুত করার নির্দেশ দেয়। ১৯৮৫ সালের শন পেন অভিনীত হলিউড সিনেমা ‘দ্য ফ্যালকন অ্যান্ড দ্য স্নোম্যান’-এর প্লট এরকম কাহিনীর উপর নির্ভর করেই সাজানো হয়েছিল। তবে ১৯৯১ সালে মারা যাবার আগে তার আত্মজীবনীতে কের এই ঘটনা অস্বীকার করেন।

টেম্পল অব হেভেনে গফ হুইটল্যাম, ১৯৭৩।

গভর্নর জেনারেলের পদটি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং তাকে নিয়োগ দেন সম্রাজ্ঞী। ১৯৭৫ সালের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান সরকারে এই পদটিকে নিতান্তই আনুষ্ঠানিক বলে ধরে নেওয়া হত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে দেওয়ার পর সবাই গভর্নর জেনারেলের অলিখিত এই সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহারে বিস্মিত হন। অনেক আইনজীবী এ ক্ষমতার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply