আঙুল বা হাড়ের জয়েন্ট ফোটানোর ক্ষেত্রে আসলে কী ঘটে

আঙুল ফোটানো—অনেকের জন্যই ব্যাপারটি আরামের, আড়মোড়া ভাঙতে ও কাজের একঘেয়েমি দূর করতে অনেকেরই আঙুল ফোটানোর অভ্যাস রয়েছে।

আপনি আঙুল ফোটানোর ব্যাপারটি পছন্দ করেন অথবা ঘৃণা করেন, কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন আসলে কী কারণে আঙুল ফোটানোর ক্ষেত্রে এরকম শব্দ হয়?

বিজ্ঞানীরা শেষপর্যন্ত এর কারণ বের করেছেন। একজন ব্যক্তির হাড়ের সংযোগস্থলে এমআরআই স্ক্যানার ব্যবহার করে তা ভিডিও করেছেন, গবেষকরা দেখেছেন যে হাড়ের জয়েন্টের চারদিকে যে ফ্লুইড বা তরল থাকে সেখানে দ্রুত ক্যাভিটি তৈরি হওয়ার কারণে এই শব্দ হয়। এই গবেষণার ফলাফল প্লস ওয়ান (PLOS ONE) অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

Untitled-10 copy

এই শব্দ তৈরি হওয়ার ব্যাপারটিকে গতানুগতিক মনে হলেও আঙুল বা হাড় ফোটানোর কারণে শব্দ হওয়ার উৎস সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বিতর্ক রয়েছে। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই শব্দের উৎস দেখার জন্য রেডিওগ্রাফি ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে তারা বলেছিলেন হাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানগুলি পরিষ্কার হওয়ার কারণে বা বুদবুদের উৎপত্তির কারণে এই শব্দ হয়। পরবর্তী ২৫ বছর এই ধারণাই প্রতিষ্ঠিত ছিল।

৭০ এর দশকে একদল বিজ্ঞানী এই পরীক্ষাটি আবার করেন। যদিও তারা একইভাবে পুনরায় পরীক্ষাটি করেছিলেন কিন্তু তারা ভিন্ন একটি মতামত দেন—বুদবুদ তৈরি হওয়ার কারণে না, বরং বুদবুদ ভেঙে যাওয়ার কারণে এই শব্দ হয়।

পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষকদের দল যখন আরো বিভিন্ন ধারণা প্রস্তাব করে তখন ব্যাপারটি জটিল হয়, যেমন লিগামেন্টের সামনে আসা-যাওয়ার কারণে অথবা ক্যাভিটি বাষ্পের কারণে এই শব্দ হয়।

যেহেতু কেউ একদম চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসছিল না, তাই আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আরো ডিটেইলে একটি পরীক্ষা আয়োজন করেন। এই পরীক্ষাটির নাম দেওয়া হয়েছিল—‘পুল মাই ফিঙ্গার স্টাডি’ বা ‘আমার আঙুল টানো—গবেষণা’। তারা রিয়াল টাইম সফটওয়্যারে সিনে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (MRI) ব্যবহার করে হাড়ের জয়েন্টের ভিডিও করেন। এই পরীক্ষায় গবেষক দলের একজন MRI মেশিনের ভিতর মুখ দিয়ে রাখেন এবং বাইরে একটি তার দিয়ে শব্দ না হওয়া পর্যন্ত তার আঙুল টানা হয়। এই ঘটনাটির সময়কাল ছিল ৩১০ মিলি সেকেন্ড।


ইউটিউব ভিডিও – Pull my finger: Why joints crack

প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা যায় হাড়ের সংযোগ স্থানের চারদিকে যে তরল পদার্থ বা ফ্লুইড থাকে তার মধ্যে গ্যাসপূর্ণ ক্যাভিটি তৈরি হওয়ার কারণে এই শব্দ হয়। শব্দ শেষ হওয়ার পরেও এই ক্যাভিটি দেখা যাচ্ছিল।

প্রধান গবেষক গ্রেগ কশাক বলেন, এটা অনেকটা শূন্যস্থান তৈরি হওয়ার মত। জয়েন্টের চারদিক যখন হঠাৎ আলাদা হয়ে যায় তখন জয়েন্টের আয়তন বেড়ে যায়, এবং এই আয়তন পূর্ণ করার জন্য আর কোনো ফ্লুইড অবশিষ্ট থাকে না, ফলে ক্যাভিটি তৈরি হয় এবং শব্দ হয়।

গবেষকরা হাড়ের জয়েন্টে শব্দ হওয়ার একেবারে আগের মুহূর্তে অস্থায়ী সাদা আলোর ফ্লাশ দেখেছেন। তারা এখনো নিশ্চিত নন যে এটি কী। তারা আশা করেন আরো বিস্তারিত গবেষণায় হয়ত এর রহস্য ভেদ করা সম্ভব হবে।

গবেষকরা এই শব্দের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত। তারা আশা করেন আরো গবেষণার মাধ্যমে এই জয়েন্ট ফোটানোর উপকারিতা বা ক্ষতি সম্পর্কে জানা যাবে। আর্থরাইটিসের সাথে এর সম্পর্ক আছে কিনা সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া যাবে। কশাক বলেন, জয়েন্টের স্বাস্থ্য কেমন তার ওপর হয়ত নির্ভর করে জয়েন্ট ফোটানোর সামর্থ্য।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply