আড়াই দিন হসপিটাল

0
12
শেয়ার করুন!

অ্যানেসথেসিয়া কাইটা যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, আমারে হাই কেয়ারে রাখা হইছে। প্রথমে কী মনে আসছিল, একুরেটলি এখন আর মনে পড়ে না।

একটু পর বোধ হইল যে আমার অপারেশন হইয়া গেছে। গলায় ব‍্যান্ডেজ। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই যে আমি টেরই পাইলাম না আর আমার গলার মধ্যে একটা অস্ত্রোপচার হইয়া গেল, ব‍্যাপারটা অবাক হওয়ার মত।

ঠিক কোন সময় অচেতন হইছি তা মনে করতে নিলে দেখি, একজন দাড়িওয়ালা লোক দাঁড়ায়ছিলেন আমার মাথার পাশ দিয়া আর আমার বাম হাতে কী যেন করতেছিলেন বা করবেন বইলা ধরছেন, এরপর প্রশ্ন করতেছেন, “আমার নাম কী”, “কীসে পড়ি” এইসব। স্পষ্ট ভাবে মনে পড়ে না কিছু।

এরপর আর কিছুই নাই। এখন দেখি দুনিয়ার এক হসপিটালের মধ্যে আমি শুইয়া আছি।

কিন্তু আমারে এই মাস্কটা কেন পরায় রাখছে!

একটু পর অনুভব করলাম আমার বা হাতেও কিছু চলতেছে, ভার ভার লাগতেছে। তারপর দেখলাম স্যালাইন লাগানো হইছে সেই হাতে। কিন্তু যেভাবে আমাকে শোয়ায় দেওয়া হইছে সেভাবেই পইড়া থাকব, না নড়াচড়া কইরা নিজের অ্যাঙ্গেলে শোব ভাবতে ভাবতে কিঞ্চিৎ এদিক-সেদিক করলাম দেহটারে। ততক্ষণে আমার শীতও লাগা শুরু করছে পাশের ফ‍্যানটার কারণে। তার উপর আবার এসি চলতেছে। আর অনেকক্ষণ পানিও খাই নাই ফলে বেশ পিপাসা পাইছে।

কিন্তু মাস্ক পইরা কথা বলার কোনো উপায় বুঝলাম না। তখনো আমি জানি না আমার গলা যে কথা বলার অনুপযোগী।

সামনে দেখি কিছু মানুষ হাঁটাহাঁটি করতেছেন, একজন কাছাকাছি আসতে আমি নার্স ভাইবা ডান হাত নাড়তে থাকলাম। দেইখা উনি কাছে আসলেন। কথা বলতে চাই বুঝতে পাইরা উনি মাস্ক ওঠাইলেন। কিন্তু গলা এমন ভাবে জমছে যে কিছুই বলতে পারলাম না। কোনো মতে ভাঙা গলায় বললাম, শীত করতেছে। আর বুঝাইলাম পানি খাইতে চাই। এরপর নার্স আর কিছু না বইলা ফ‍্যান বন্ধ কইরা মাস্ক খোলা রাইখাই গেলেন গা। আর আমার ভয় লাগল এই ভাইবা যে মাস্ক কি আর পরার দরকার নাই, নাকি উনি ভুলে আমারে মাস্কহীন রাইখা চইলা গেলেন?

এরপর আরও অনেকক্ষণ কোনো নার্সই আর এদিকে আসে না।‌‌ বেশ খানিক সময় তেমনিতর পইরা থাকলাম আর সময় আন্দাজ করতে চাইলাম। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়ার পর আন্দাজ কইরা সময় ঠাহরানো মূলত সম্ভব না আর এই ধরনের রুমে দেয়াল ঘড়ি থাকারও কথা না। ফলে না বললে আমার জানার উপায় নাই যে পৃথিবীতে এখন সময় কত!

আর আমার অপারেশনটা যে ঠিক কোন সময় হইছে, তার কতক্ষণ পর আমার চেতনা হইছে, আর কতক্ষণই বা আমারে থাকতে হবে এই হাই কেয়ারে, তা না জানা পর্যন্ত শান্তি হইতেছিল না। আর আব্বু, আম্মু, আপুই বা কই, হইতে পারে বেশি রাত হইছে বইলা তারা আমারে একলা রাইখাই গেছে গা। অথচ আজকে রাত্রে আম্মুর আমার সাথে থাকার কথা।

তবে যাই হোক, অপারেশনের আগে আমার বোনটারে যথেষ্ট জ্বালানো হইছে।‌ আমার অপারেশন, রিপোর্ট, পরীক্ষা নিয়া যেসব দ্বিধাপূর্ণ প্রশ্ন আমি তারে লাগাতার কইরাই গেছি, তার জন্য সে বেশ কষ্টই পাইছে আর আমারে নরম গলায় বলছে, “শৈলী, তোমার আমাদের দেশের রিপোর্টে এত অনাস্থা কেন?” আর আমিও এটা বুঝাইতে চাইছি যে আমি কেবল জানতে চাই চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে, আর তারে ছাড়া কার কাছেই বা আমি অবলীলায় আমার সব প্রশ্ন করতে পারব?

ওই নার্সটাই আবার দেখি এদিকে আসছে। হাত নাইড়া মনে করাইলাম যে আমি পানি খাইতে চাইছিলাম। উনি কারে যেন জিজ্ঞাসা করলেন, “বারোটার আগে তো পানি খাওয়া যাবে না, না?” আমার দিকে তাকাইয়াও সেই রকম ইঙ্গিত দিলেন।

আমি কিছু বললাম না,পারিও না যেহেতু বলতে। কিন্তু পানি দেয়া যাবে না, আগে বললেই পারতেন, এতক্ষণ অকারণে আমি পানির আশায় থাকলাম। কিন্তু “বারোটা বাজতে আর কতক্ষণ বাকি?” এত বড় লাইনটা জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা যে আমার নাই তা বুঝতে পাইরা তেমনিভাবে শুইয়া থাকলাম।

রোগীদের মধ্যে কেউ কেউ কথা বলতেছেন। এই-সেই, দরকারি-অদরকারি কথা। নার্সরাও কথা বলেন। একজন মেয়ে নার্স শুনলাম বলতেছেন যে উনি খাইতে বসবেন। তারপর এক ছেলে কণ্ঠ বললেন যে উনিও নাকি খাবেন মেয়েটার সাথে। মেয়েটা কি একটু অন্য ভাবে হাসলেন? লজ্জা পাইছেন হয়ত বা আমার ধারণাও হইতে পারে। ততক্ষণে আবার ছেলেটা মেয়েটাকে অবাক ভরে জিজ্ঞাসও করলেন যে, “আপনি এখনো খান নাই! তা কেন?” মেয়েটা তখন আবার বললেন যে তখন উনি খাইতে পারেন নাই, তাই এখন খাবার মাখতেছেন খাবেন বইলা।

কিন্তু রমজান মাসে উনি এভাবে খাইতেছেন আর কেউ কিছু বলতেছেও না, তাই আমার মনে হইল ইফতার ততক্ষণে শেষ এবং উনি রাতের খাবার খাইতেছেন। অনেক রাতও হইছে তাইলে, নয়তো মেয়েটার এখনও না খাওয়াতে ছেলেটা অবাক হইলেন কেন? নাকি দেখাইলেন যে অবাক হইছেন?

অপারেশনের আগে আপু হাই কেয়ারে কতক্ষণ থাকতে হইতে পারে তা বলছিল। কিন্তু এখন আর কিছুই মনে নাই ঠিকভাবে।

একটু দূরের বেডের একজন রোগী জিজ্ঞাস করলেন কয়টা বাজে। মেয়ে কণ্ঠ (নার্স মেইবি) বললেন, সাড়ে দশটা। আমি জাইগা আছি মনে হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা হইছে। সেই হিসাবে উঠছি নয়টার দিকে। অপারেশন কখন শেষ হইছে না জানলেও সময় জাইনাও বেশ আনন্দিত হইলাম। যেন এই পৃথিবীর সময় আমি জাইনা গেছি!

শুইয়া শুইয়াই আমার মনে হইল আমি এখন হসপিটালে শুইয়া আছি কিন্তু বাইরে না জানি কত জ‍্যাম, মানুষ অপেক্ষা করতেছে জ‍্যাম ছুটার জন্য। আমি ভাবতেছি তাদের কথা কিন্তু এই হসপিটালের নিচেই যারা আটকায়ে আছেন জ‍্যামে, তারা কি ভাবতেছেন রোগীদের কথা? না নিশ্চয়ই। না ভাবাই স্বাভাবিক। কারণ তাদের তা ভাবার অবকাশ নাই যা আছে রোগীদের। যাই হোক, ছেলেটির অবাক হওয়া-হওয়ি নিয়া আমি আর ভাবলাম না।

আপু বইলা দিছিল যে, হাই কেয়ারে অনেক কেয়ার। একটু পর পর ডাক্তার আসবেন রোগী কেমন আছে দেখতে। একজন ডাক্তার নাকি পারমানেন্টলি থাকবেন। কিন্তু আমাকে এতক্ষণেও কোনো ডাক্তার দেখতে আসে নাই। তবে হইতে পারে যে অন‍্য দিকে ডাক্তার আছেন। আমার এখানে আসার মতো মনে করেন নাই। আর আমি যেহেতু গলা নাড়াইতে পারি না, তাই দেখতেও পারতেছি না।

এর কিছুক্ষণ পর এক ডাক্তার আসলেন। কী কী দেখলেন, স্যালাইন ঠিক আছে কিনা। প্রেশার মাপছিলেন কিনা মনে নাই। তারপর কী সব টুইকা নিলেন উনার খাতার মধ্যে। এর খানিক পরেই আমার অপারেশন যিনি করছেন সেই ডাক্তার আসলেন, সাথে আগের ডাক্তারটিও। ডাক্তার দেইখা বললেন কেমন আছি।

কিন্তু আমার গলা দিয়া শব্দই বাইর হইলো না। আর ডাক্তারও বললেন যে জোরে কইরা বলতে, তাই একটু জোরে চেষ্টা করলাম। তারপর আমারে দেখতে থাকলেন যে সব ঠিক আছে কিনা আর সাথে সাথে ওই ডাক্তার উনার টুইকা রাখা জিনিস  শুনাইলেন। এরপর আমারে বেডে দিয়া দিতে বললেন।

বেডে দিয়া দিবে জানার মাধ্যমে যেহেতু অপেক্ষার অবসান হইল, আমি খুশি হইলাম। কিন্তু সাথে সাথেই বেড দিয়া দিল না। মেয়েটি হয়ত এখনো খাইতেছেন। বেশ কিছুক্ষণ তেমনিতর শুইয়া থাকার পর একটা ট্রলি বেড আইনা আমার বেডের পাশে সমান কইরা রাখা হইল। ধীরে ধীরে ওই বেডে গেলাম। তারপর স্যালাইনসহ আমারে ঠেইলা নিয়া যাইতে থাকলেন দুইজন নার্স। একজন ছেলে অন‍্যজন মেয়ে। সেই সময় আমি খালি ঘরের উপরের দেয়াল দেখতে দেখতে যাইতেছি। হঠাৎ দেখি ‘OT’ লিখা রুম থেকে আমারে বের করতেছে। যেখানে অপারেশনের জন্য আমারে ঢোকানো হইছিল।

মনে পড়ল ট্রলি চেয়ারে কইরা অপারেশন থিয়েটারে নিয়া যাওয়ার সময় আমারে একজন লোক জিজ্ঞাসা করছিলেন, “কীসের অপারেশন?” আমি বলছিলাম, “থাইরয়েড নডিউল।” পরে উনি বললেন, “ও, এইটা তো কোনো ব‍্যাপারই না, একটান দিয়া গলাটা ফেলায়া দিবে।”

‘OT’ রুম থেকে বের হইয়া দেখি আব্বু আর আপু দাঁড়ায়ে আছে। আমি কষ্টে-শিষ্টে আপুর হাত ধরলাম। যেহেতু ঠেইলা নিয়া যাওয়া হইতেছে ফলে হাত ছাইড়া দেওয়া লাগল। এরপর অনেকটা পথ ঘুইরা, দুইটা লিফট বদলাইয়া এবং আরো খানিকটা পথ গিয়া আমাদের ওয়ার্ডে পৌঁছানো গেল। আবার ধীরে ধীরে আমার বেডে গেলাম আমি। এরপর নার্স আইসা বইলা গেলেন কী কী অষুধ খাইতে হবে। এর কিছুক্ষণ পর আপু আর আব্বু চইলা গেল আর যাওয়ার আগে আপু বলল যে আমার ফোন সে নিয়া যাইতেছে। আমি ঘাড় নাইড়া ‘ওকে’ বুঝাইলাম। এরপর হসপিটালে খালি আমি আর আম্মু।

এরপর আর কী করব? দেয়াল দেখি, পর্দা দেখি, পর্দা সরলে অন্য রোগীদের দেখি। লিইখা লিইখা কথা বলার জন্য আপুরে খাতা কলম রাইখা যাইতে বলছিলাম। সে একটা পৃষ্ঠা আর একটা পেন্সিল রাইখা গেছে। পেন্সিল দিয়া পৃষ্ঠার মধ্যে লিখলাম, “আমার বই কই?”

আম্মু কাগজ পইড়া খুবই অসহায় ভাবে বলল, “বই তো তোমার আপু নিয়া গেছে।”

আপু যদিও আমার রেস্টের জন্যই বইটা নিয়া গেছে তাও আমার বেশ অভিমান হইল। মোবাইল নিয়া গেছে ঠিক আছে, কিন্তু বইটাও কেন নিয়া গেল? নিষ্ঠুর দরদী সিস্টার আমার।

খাওয়া নিয়া কিছুটা ঝামেলায় পরতে হইল। প্রথম দিন দেখলাম, পরের দিনও দেখলাম, পানি খাইতে এবং পানি দিয়া অষুধ খাইতে কষ্ট হয়। কয়েকটা অষুধ নষ্টও করলাম। দুইবারে বা তিনবারে একটা অষুধ খাইতে হইল।

পরের দিন দুপুরে একটা বাচ্চা ভর্তি হইল একই ওয়ার্ডে। সারাক্ষণ বাচ্চার ইনজেকশন না দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি, ভয়, চিৎকার এগুলাই শুনলাম। আর মা কতভাবে যে বাচ্চারে ম‍্যানেজ করতে চাইতেছেন তাও শুনলাম। দুইজনের কণ্ঠই সুন্দর। কিন্তু স্বরভঙ্গের পর বাচ্চার গলা কেমনতর হয় ভাইবা একটু চিন্তিত হইলাম।

বিকালে মামা-মামীর পর কাকা-কাকীও আইসা দেইখা গেলেন। কথা বিশেষ কিছুই বলতে পারলাম না। তারাও বললেন, “তোমার কথা বলার দরকার নাই।”

আমারে দেইখা যাইতেছেন ডাক্তাররা। প্রেশার মাপতেছেন, ড্রেন টিউব পরিষ্কার করতেছেন আর জিজ্ঞেস করতেছেন কী সমস্যা আমার। আমিও বলতেছি আমার সমস্যা। প্রথম তিনবার একই ডাক্তার আসলেন। প্রথম বারে খেয়াল করি নাই। দ্বিতীয় বার খেয়াল করার পর ডাক্তারটারে আমার খুবই ভাল লাইগা গেল। এমনকি আমার তার সামনে কথা বলতেও ইচ্ছা করল না কারণ তাইলে আমার ভাঙা, খরখরা কণ্ঠ উনি শুইনা ফেলবেন।

পরবর্তী বেলা আমার পাশের বেডের রোগীর রিলিজ হইয়া গেল। উনার মনে হয় গলব্লাডারের অপারেশন ছিল। যাওয়ার আগে আম্মুরে দেখলাম একজন বইলাও গেলেন। ব‍্যাপারটা খাতিরের মতো। এত খাতির কখন হইল কে জানে!

স‍্যার যখন দেইখা গেলেন আমারে, আমার বেশ লজ্জা লাগল। আপুরে অপারেশনের আগে জিজ্ঞাস করছিলাম, “অপারেশনের সময় ভূমিকম্প হইলে আমারে ফেলায়া সবাই দৌড় দিবে না তো?” আপু আমারে নিয়া কী করবে যেন বুঝতে পারতেছে না এমন ভাবে বললো, “এমন হয় না কখনোই। রোগীরে অপারেশন থিয়েটারে রাইখা দৌড় দেয়া টাইপ হইলে উনারা এত বড় ডাক্তার হইতে পারতেন না।” আর এখন আমার লজ্জা হইতেছে কারণ উনি খুবই যত্ন সহকারে দেখতেছেন আমাকে। অপারেশনটাও করছেন যত্ন নিয়া। আর আমি কী সব অদ্ভুত ভাবনা ভাইবা রাখছি আগের থেইকা।

সন্ধ্যাবেলা ওয়ার্ডে একইসাথে দুইটা বাচ্চা ভর্তি হইলো। ভাই-বোন। দুইজনেরই টনসিল অপারেশন।

এর মাঝে ডাক্তার আইসা আবার দেইখা গেলেন, আগের ডাক্তারটাই। দুইবেলা উনি আসছেন ঠিকই কিন্তু আমি সেভাবে মনোযোগ দিতে পারি নাই। তাই এই বেলা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাইলাম। প্রেশার মাপার সময় তাকায়ে থাকলাম কিছু সময়। কিন্তু একজন মানুষের দিকে কতক্ষণই বা তাকায়ে থাকা যায়! তার উপর আমি আবার তার পেশেন্ট।

সন্ধ্যার পর পরই বাচ্চা দুইটার অপারেশন হইয়া গেল। তারপর তাদের আইসক্রিম দেয়া হইল খাইতে। এরপর এখন কথা বলতেছে, হাসতেছে, ফিরতেছে। ওইদিন আপু আমার সাথে ছিল রাতে। আপু বলল, “অপারেশন হইয়া গেছে তাও বাচ্চা দুইটা কী তাজা দেখছো!”

আসলেই বাচ্চা দুইটাই বেশ সতেজ ছিল। না বললে আমি বুঝতামও না যে তাদের অপারেশন হইয়া গেছে। অথচ আপুদের সময় এমন ছিল না। আপুরও ছোট বেলায় টনসিল অপারেশন হইছিল। তখন তার রিকভার করতে আরো সময় লাগছিল।

সন্ধ্যায় ভাইয়া আইসা দেইখা গেল। বেশিক্ষণ থাকতে পারল না হসপিটালের রেস্ট্রিকশনের জন্য।

সেদিন রাতে পুরা ওয়ার্ডে রোগী মোট চারজন। আমি আর তিনটা ছোট ছোট বাচ্চা। মানে আমার তুলনায় তারা বেশ ছোটই।

রাতে মামার আনা খাবার, আম্মুর আনা খাবার প্লাস হসপিটাল থেকে দেয়া খাবার খাইয়া শুইয়া পড়লাম। ততক্ষণে আমি আমার মোবাইল এবং বই উভয়ই ফেরত পাইছি।

পরের দিন সকালে শুনলাম হসপিটালের কোনো এক রোগী মারা গেছে। দুপুরে আপু বাইরে থেইকা খাবার আনল, খাইলাম।

বারোটা বা একটার দিকে টনসিল ভাই-বোনকে রিলিজ দিয়া দিল। আর দুপুরে ব‍্যান্ডেজ চেইঞ্জ কইরা আমারেও বলা হইল, বাসায় চইলা যাইতে পারি।

ফিরা আসার দিন আর সেই ডাক্তাররে দেখলাম না। হয়ত উনার ডিউটি ছিল না সেদিন।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here