আপনার ইনফরমেশন যেভাবে ফেসবুক হয়ে হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যায়!

শেয়ার করুন!

ফেসবুক বলে থাকে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষা করা ফেসবুকের বড় একটি কাজ। তবে আপনার কিছু তথ্য ফেসবুকে না দেওয়াটাই ভাল।  যেমন বাড়ির ঠিকানা, কোন স্কুলে পড়েছেন ইত্যাদি।

কয়েকদিন আগে পরিচয় গোপন করে একজন হ্যাকার বলেন, লোকজন ফেসবুকে প্রশ্নোত্তর পোস্টে যেসব তথ্য দেয় এবং ফ্রেন্ডদের ট্যাগ করে, সেসব তথ্য হ্যাকাররা সহজেই ব্যবহার করতে পারে। এসব পোস্টে এমন কিছু তথ্য থাকে যা থেকে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়। যেমন, ডাক নাম, পোষা প্রাণীর নাম অথবা প্রিয় সিনেমার নাম। নিচে তালিকা থাকছে ১২টি জিনিসের, যা পারতপক্ষে ফেসবুকে না দেওয়াই নিরাপত্তার জন্যে ভাল।

১. জন্মদিন

আপনার জন্ম তারিখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আপনার জন্ম তারিখ থেকে আপনার নাম ও ঠিকানাও বের করা সম্ভব। আর এগুলি থেকে খুব সহজেই আপনার ব্যাংক একাউন্টের ইনফরমেশন ও ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া সম্ভব।

২. ফোন নাম্বার

যদি ফোন নাম্বার দেন তাহলে সর্বোচ্চ ভাল যেটা হতে পারে যে নতুন একজন ভালো বন্ধু পাবেন। আর সর্বোচ্চ খারাপ যা হতে পারে: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কেউ বের করতে পারে, কেউ আপনাকে লাগাতার ফোন বিরক্ত করতে পারে।

৩. আপনার বেশিরভাগ ‘ফেসবুক-ফ্রেন্ডস’

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির প্রফেসর রবিন ডানবার তত্ত্ব দিয়েছেন যে মানুষ প্রায় ১৫০টি স্থিতিশীল সম্পর্ক মেইনটেইন করতে পারে।

৩,৩৭৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে পর্যবেক্ষণ করে ডানবার দেখেছেন যে তাদের ফেসবুক ফ্রেন্ডদের মধ্যে মাত্র ৪.১ শতাংশ নির্ভরযোগ্য এবং ১৩.৬ শতাংশ ইমোশোনাল কষ্টের সময় সহানুভূতি প্রদর্শন করে।

কাজে আসে না এমন মরাকাঠদের বাদ দিয়ে দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্টার‍্যাকশন আরো স্বাস্থ্যকর হবে।

৪. আপনার সন্তান বা পরিবারের ছোট সদস্যদের ছবি

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ভিক্টোরিয়া ন্যাশ এই বিষয়ে সুন্দর একটি প্রশ্ন সামনে এনেছেন:

আজকের শিশুরা বড় হয়ে তাদের ছোটবেলার কোন ইনফরমেশনগুলি অনলাইনে দেখতে চাইবে?

আগের জেনারেশনের হয়ত এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই, তবে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বাস্তবতায় এই প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সম্পর্কে যে ইনফরমেশনগুলি শেয়ার করা হয় সেগুলি যদি তারা বড় হয়ে মেনে নিতে না পারে?

৫. আপনার সন্তানেরা বা পরিবারের শিশুরা কোন স্কুলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়

যুক্তরাজ্যের NSPCC এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে তালিকাভুক্ত যৌন আক্রমণের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে:
যুক্তরাজ্যে ২০১৩/২০১৪ সালে পুলিশ শিশুদের বিরুদ্ধে ৩৬,৪২৯টি যৌন আক্রমণের ঘটনা তালিকাভুক্ত করেছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডে গত এক দশকে পুলিশ সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন আক্রমণের ঘটনা তালিয়াকভুক্ত করেছে।

আপনার সন্তান কোন স্কুলে যায় সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে দেওয়ার অর্থ আপনি যৌন আক্রমণকারীদের পথ দেখাচ্ছেন।

৬. লোকেশন সার্ভিসেস

অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা আইফোনে লোকেশন সার্ভিস আছে।

২০১৫ সালে, টেকক্রাঞ্চ প্রকাশ করেছে যে ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক ইউজার শুধু তাদের মোবাইল ফোন দিয়েই ফেসবুকে প্রবেশ করে। এর মানে হল, প্রায় একই সংখ্যক ইউজার হয়ত তাদের লোকেশন অনলাইনে প্রকাশ করে। এখন আপনার ক্ষতি করতে চায় বা না চায়, যে কেউই জানে আপনি কোথায় আছেন।

৭. আপনার ম্যানেজার

এই জিনিসটা ক্লাসিক। ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এক দিক দিয়ে, আপনি বেশিরভাগ ইন্টার‍্যাকশনই হয়ত রিল্যাক্সড হওয়ার জন্য করেন।

তবে আপনার অফিসের বা কর্মস্থলের বস বা উর্ধ্বতন ব্যক্তি আপনার ওয়ালে আসতে পারে, আপনার প্রতিটা স্ট্যাটাস, পোস্ট আপডেট দেখতে পারে। এই পোস্টগুলির মধ্যে হয়ত আপনার অফিস বা কাজ নিয়ে করা আক্ষেপ আছে, অভিযোগ আছে।

আপনি এই ধরনের পোস্ট বা আপডেটে প্রাইভেসি সেট করে আপনার বসকে এগুলি দেখা থেকে বিরত রাখতে পারেন, তবে তাতেও কি চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে?

৮. লোকেশন ট্যাগ করা বন্ধ করুন

আপনি যখন বাড়িতে বসে ফেসবুকিং করছেন তখন লোকেশন ট্যাগ করার মধ্য দিয়ে আপনি আসলে আপনার বাড়ির ঠিকানা জানাচ্ছেন।

৯. ছুটি কাটানোর জন্য আপনি কবে কোথায় যাচ্ছেন

‘দিস ইজ মানি’ নামের একটি ফিন্যান্সিয়াল ওয়েবসাইটের মতে, যেসব ট্রাভেলার তাদের বেড়ানোর প্ল্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তারা বেড়াতে গিয়ে যদি চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের শিকার হয়, তাহলে  তারা তাদের ইনস্যুরেন্স দাবি করলে তা পায় না।

১০. আপনার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস

আপনি যদি আপনার নতুন কোনো রিলেশনশিপ বা রিলেশনশিপের অ্যানিভার্সারি সেলিব্রেশন করতে চান তাহলে ফেসবুকে করবেন না।

ফেসবুকে না করলে আপনার হয়ত ভালো লাগবে না, তবে এর ফলাফল হিসেবে যেগুলি ঘটার সম্ভাবনা আছে সেগুলির অনুভূতি এই ভালো না লাগার তুলনায় কিছুই না।

১১. ক্রেডিট কার্ডের ডিটেইলস

কখনোই না। কোনোভাবেই এটা করবেন না।

১২. বোর্ডিং পাসের ছবি

যখন কোথাও যাচ্ছেন, সেটা প্রকাশ করার জন্য হয়ত বোর্ডিং পাসের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। এই কাজ করবেন না। আপনার বোর্ডিং পাসে যে বারকোড থাকে সেটা একেবারে ইউনিক। আপনি ফ্লাইট কোম্পানিকে যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলি এই বারকোড বা বারকোডের ছবি থেকে বের করা সম্ভব।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here