page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

আপনি ‘না’ বলতে পারছেন না?—নিজের জন্যে কিছু সিম্পল নিয়ম তৈরি করুন।

নিজের জন্য একদমই সিম্পল কিছু নিয়ম ঠিক করে রাখাটা আপনাকে আপনার কাজের গুরুত্ব ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এই নিয়মের কারণে অনেক ধরনের অনুশোচনার হাত থেকেও সচরাচর আপনি বেঁচে যান।

একটি জরীপে দেখা গেছে, আগের কয়েক দশকের তুলনায় মানুষের অবসর এখন বেশি। কিন্তু সবাই এত ব্যস্ততার মধ্যে থাকে যে তাদের দেখলে সেটা বোঝা যাবে না।

আধুনিক এই ব্যস্ততার প্রধাণ কারণগুলির তিনটা হলো:

  • ১. একই ধরনের অকাজের মিটিং বা দেখা-সাক্ষাৎ।
  • ২. উপরের লোকদের বিনা-পারিশ্রমিকে কাজ করে দেওয়া।
  • ৩. আপনার নিজের সময়ের উপর অন্যদের অযথা চাহিদা ইত্যাদিকে ‘না’ বলতে পারার অক্ষমতা।

কীভাবে আপনি ধরাশায়ী না হয়েই ‘না’ বলবেন? এজন্যে আগে কিছু নিয়ম বানিয়ে নিতে হবে আপনাকে। এবং তা মানতেও হবে।

আপনি কী করবেন বা কী সিদ্ধান্ত নিবেন তা গাইড করবে আপনার নিজের এই সিম্পল নিয়মগুলি। এগুলি আপনার পার্সোনাল রুলস। সাধারণভাবে দেখলে এগুলি আপনাকে খুব ভদ্রভাবে না বলতে পারার একটা রাস্তা দেখাবে। যেমন আপনি বলতে পারবেন—শুক্রবারে সাধারণত আমি কোনো কাজ রাখি না, কারণ শুক্রবারে আমি ফ্যামিলিকে সময় দেই।

কিন্তু আরেকটু গভীরভাবে দেখলে হঠাৎ করে আসা কোনো অনুরোধের ক্ষেত্রে এগুলি আপনাকে আপনার সিদ্ধান্ত বা কাজের প্রাধান্য নির্ধারণ করে দিবে। এই নিয়মগুলি যে কোনো কথায়ই ‘হ্যাঁ’ বলে দেওয়া এবং তার জন্য পরে অনুশোচনায় ভোগার হাত থেকে বাঁচাবে আপনাকে।

say-no-4

আপনি না চাইলেও যে আপনাকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হয় তার হয়ত যথার্থ কারণ আছে। কাউকে “না” বললে হয়ত পরে আপনাকে উদ্বিগ্ন হতে হয়, অপরাধবোধে ভুগতে হয়, আপনার খারাপ লাগে।

অনেক সাইকোলজিস্টরা বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক আবেগ আপনাকে সতর্ক করে যে আপনি হয়ত করতে চান না এমন কিছু আপনাকে করতে হচ্ছে।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের সাইকোলজির প্রফেসর ক্রিস্টিন সমার বলেন, এক সময় আমাদের টিকে থাকার জন্য সম্পর্ক তৈরি ও রক্ষা ছিল ফান্ডামেন্টাল কাজ। কাউকে ‘না’ বলাটা আমাদের এই মৌলিক প্রবণতার বিরুদ্ধে যায়। ব্যক্তিগত নিয়মগুলি কাজে লাগে, কারণ এই নিয়মগুলি এইসব ইকুয়েশনের ক্ষেত্রে বাতিল করা বা ‘না’ বলার ব্যাপারটি উহ্য রাখে।

মানে, আপনি কাউকে আসলে ‘না’ বলছেন না, আপনি শুধু আপনার নিজের নিয়ম মেনে চলছেন।

say-no-3

হার্ভার্ড নেগোসিয়েশন প্রজেক্টের কো-ফাউন্ডার উইলিয়াম উরি বলেন, নিজের জন্য এইসব নিয়মগুলি শক্ত ভাবে মেনে চললে তা অন্যদেরকে আপনার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সিগনাল দেয়। আর কার্যকরী ব্যক্তিগত ও প্রফেশনাল সম্পর্ক গঠনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে এই সিগনাল।

নিজের জন্য নিয়মগুলি যেভাবে শুরু করতে পারেন

  • আপনার কাজের প্রায়োরিটি নির্ধারণ করুন—যেমন, ফ্যামিলির সাথে ডিনার করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে।
  • যে জিনিসটি আপনার জন্য বিপত্তি তৈরি করে তার নাম বলুন—যেমন, সন্ধ্যায় অফিসে মিটিং।

এইসব জিনিসগুলিকে কেন্দ্র করে নিজের জন্যে একটা নিয়ম বানান। অন্যদেরকে জানান—আমি সন্ধ্যা ছয়টার পরেই বাড়ি ফিরি, এ সময় সম্ভব না।

সাহিত্য সমালোচক অ্যাডমান্ড উইলসনকে কিছু কাজ করতে বলা হয়েছিল, যার কারণে তিনি আর লেখালেখি করতে পারছিলেন না। এ সময় তিনি নিজের হয়েই আনুষ্ঠানিক চিঠিতে জবাব দেওয়া শুরু করেন। তিনি লিখতেন, “অ্যাডমান্ড উইলসন খুব দুঃখিত যে এখন এটা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না কারণ:”, এরপর তিনি সেই চিঠিতে অনেকগুলি কাজের লিস্ট দেখিয়ে দিতেন।

edmand-letter-2

“অ্যাডমান্ড উইলসন খুব দুঃখিত যে এখন এটা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না কারণ:”

গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে, নিজের জন্যে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকলে তা ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনেও সাহায্য করে, যেমন, ওজন কমানো। ২০১২ তে জার্নাল অব কনজ্যুমারে কয়েকটি ধারাবাহিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলিতে বলা হয়েছে, আপনি যদি বলেন, “আমি জিম করা বাদ দিতে পারবো না”, এর চেয়ে বেশি কার্যকরী হয়, আপনি যদি বলেন, “আমি জিম করা বাদ দেই না।”

২২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ৩০ জন নারীর ওপরে একটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ১০ দিন বেশি ব্যায়াম করা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। এই নারীদেরকে ৩ টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। একটি গ্রুপকে বলা হয়েছে “আমি করি না” এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে, আরেকটিকে বলা হয়েছে ‘আমি পারবো না’ ব্যবহার করতে এবং তৃতীয় গ্রুপটিকে নিজেদের কোনো ধরনের উদগ্রীবতাকে “না” বলতে বলা হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন এই নারীদেরকে ই-মেইল করে মনে করিয়ে দিতেন তাদের কী পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

“আমি পারবো না” গ্রুপের মাত্র ১০ শতাংশ তাদের লক্ষ্য ধরে রাখতে পেরেছিলেন। আর “আমি করি না” গ্রুপের ৮০ শতাংশ নিজেদের লক্ষ্য ধরে রেখেছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব হাউসটনের মার্কেটিং এর প্রফেসর ভ্যানেসা প্যাট্রিক ছিলেন এই গবেষণার প্রধান। তিনি বলেন, কেউ যখন নিজের জন্য নিয়ম তৈরি করে নিয়ে বলে “আমি এমন একজন ব্যক্তি যে জিম করা বাদ দেই না” তাহলে তা আত্মনিয়ন্ত্রণে কাজে লাগে এবং লক্ষ্যে অবিচল থাকতে সাহায্য করে।

একই গবেষকরা আরেকটি গবেষণায় দেখেছেন, যারা “আমি করি না” বলে তারা “আমি পারবো না বা পারি না” বলা লোকদের চেয়ে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী।

প্রফেসর প্যাট্রিক বলেন, এরপর কেউ যদি আপনাকে কিছু করতে বা কোনো কিছুর জন্য জোরাজুরি করে তাহলে বলবেন, “আমি এটা করি না।”  আপনি যদি “আমি পারবো না” বলেন তাহলে তাতে প্রমাণ হয় আপনি আসলে ঠেলতে পারছেন না। লেখিকা সারাহ নাইট বলেছেন, নিজের জন্য মেনে চলা নিয়মগুলি এত নির্দিষ্ট যে দেখবেন, কেউ আর আপনার সাথে সেই ব্যাপারে জোরাজুরি করবে না—উলটো তারাই ভয় পাবে যে আপনাকে তারা আঘাত দিয়ে ফেলল কিনা।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক