page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

আমেরিকান বিলিয়নিয়ার মার্ক কিউবানের ‘ব্যবসা শুরুর ১২ নিয়ম’

যারা কোনো ব্যবসা শুরু করেছেন তাদের নিজস্ব নিয়ম-কানুন ও গাইডলাইন থাকবে। নিচের এই ১২টি নিয়ম কেবল যারা কোম্পানি তৈরি করেছেন তাদের জন্যেই নয় বরং সেখানে যারা কাজ করবেন তাদের জন্যেও।

১. কোনো কোম্পানি শুরুই করবেন না যদি সে কোম্পানির প্রতি আপনার টান না থাকে।

২. কোম্পানি থেকে সরে পড়ার রাস্তা ঠিক রাখার অর্থ ঐ কোম্পানিতে আপনার টান নাই।

৩.  যারা আপনার কোম্পানিতে কাজ করতে পছন্দ করে কেবল তাদেরকেই নিন

৪. বিক্রি থেকেই সব ঠিকঠাক হবে। জানুন, কোম্পানি কীভাবে পয়সা কামাবে এবং আপনি কীভাবে আসলে বিক্রিটা করবেন।

৫. আপনার আসল দক্ষতা কোন কাজে তা জানুন এবং সে বিষয়ে সেরা হওয়ায় মনোযোগ দিন। মূল দক্ষতার লোকদেরকে ঠিক মত পয়সা দিন। ভাল করতে চাইলে মূল দক্ষতার বাইরের লোক যখন নিবেন কম পয়সায় সারার চেষ্টা করুন।

৬. অফিসে চা-কফির ব্যবস্থা রাখুন। কর্মীদের জন্যে লাঞ্চ হচ্ছে অফিসের বাইরে যাওয়ার এবং কথা বলার একটা সুযোগ। দিনে ২৪ ঘণ্টা সময়। কর্মীরা যদি তাদের কাজ ভালোবাসে তবে তারা নিজেরাই যত বেশি সময় সম্ভব কাজ করার উপায় বের করে নিবে।

৭. উন্মুক্ত অফিস সবাইকে কাজের ধরন অনুযায়ী একটা সুরে প্রাণবন্ত রাখে। এর বাইরে যদি কেউ প্রাইভেসি চায় বা নিজের মতো চলতে চায় তাকে বাথরুম ব্যবহার করতে বলুন। কোম্পানির শুরুতে কাজের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বলে কিছু নেই। এটা অফিসে এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেয়া থেকে দূরে থাকারও একটা ভালো উপায়, কারণ কোম্পানির শুরুতে এক্সিকিউটিভরা সফলভাবে কাজ করতে পারে না। এমন কাউকে নিয়োগ দিবেন না যিনি অফিসে তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইবেন।

৮. প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আপনি যতটা জানেন ততটুকু থাকুন। এই পদ্ধতি সবসময়ই বাড়তি খরচ কমায়। যেহেতু কোম্পানির শুরু সুতরাং সেখানে অল্প কয়েকজন কর্মচারী থাকবে। কর্মচারীরা প্রযুক্তির যা জানে তাদেরকে ততটুকুই ব্যবহার করতে দিন।

৯. প্রতিষ্ঠানটিকে সমান রাখুন। এই অর্থে যে, যদি শুরুতেই ম্যানেজারদের তত্ত্বাবধান করার জন্য আরো ম্যানেজার থাকে তাহলে আপনি ব্যর্থ হবেন। আর শুরুতেই ম্যানেজারদের দেখাশোনার করার জন্য আরো ম্যানেজার রাখলেপ্রতিষ্ঠানে পলিটিক্স শুরু হবে।

১০. ব্যবসার শুরুতেই কোম্পানির লোগো বা ডিজাইন পাবলিককে খাওয়ানোর জন্যে উঠেপড়ে লাগবেন না। যদি কেউ শুরুতেই তাদের কোম্পানির লোগোওয়ালা পোলো শার্ট আপনাকে পাঠায় তবে বুঝবেন এটা তাদের ব্যর্থতার নিশ্চিত সংকেত। আপনার কোম্পানির লোকজন যদি জনসম্মুখে বা মিডিয়ায় যায় তাহলে আপনার কোম্পানির লোকদের জন্য তা ঠিক আছে। কিন্তু যদি আপনি আসলেই মনে করেন লোকজন বাইরে আপনার কোম্পানির লোগো দেওয়া পোলো শার্ট বা পোশাক পরবে তাহলে আপনি ভুল করছেন এবং কীভাবে টাকা খরচ করতে হবে সে ব্যাপারে আপনার ধারণা নাই।

১১. কোনো জনসংযোগ ফার্ম বা পিআর (পাবলিক রিলেশন) ফার্মকে নিয়োগ দিবেন না। সাধারণত একটা জনসংযোগ ফার্ম কল করবে বা ইমেইল পাঠাবে যে পত্রিকা আপনি আগেই পড়েছেন বা যে অনুষ্ঠানগুলি আপনি আগেই দেখেছেন বা যে ওয়েবসাইটগুলি আপনি আগেই ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেছেন সেসব জায়গায়। তখন এসব জায়গার লোকজনেরা আপনার কোম্পানি বা ইভেন্টের কথা প্রচার করবে।

যখন আপনার কোম্পানি বা কাজের ক্ষেত্রে নতুন কিছু ঘটবে সেসব তথ্য আপনি নিজেই ওইসব জায়গায় পাঠিয়ে দিন। সাথে আপনার কোম্পানি এবং আপনার পরিচয় জানিয়ে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিন। এরপর তারা নিজেরাই খুঁজে খুঁজে বাকি কাজটুকু করবে। কোনো জনসংযোগকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে তথ্য জানতে তারা বেশি আগ্রহী হবে। এসব জায়গার লোকজনের সাথে আপনার একবার যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেলে কোম্পানি বা কাজ নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকুন। এবং তাদের একটি উৎস হিসেবে কাজ করুন। আপনি স্মার্ট হলে তারা নিজেরাই আপনাকে ব্যবহার করবে।

১২. কর্মীদের জন্যে কাজকে আনন্দময় করুন। কাজের চাপের ক্ষেত্রে সঙ্গতি বজায় রাখুন এবং আপনার কর্মচারীদের খুশির ওপর নজর দিন। তাদের পুরস্কৃত করুন।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply