না খেয়ে খেয়ে হাড্ডিসার হয়ে গেছে কুকুরটা। কেউ চাইলেও ভীত কুকুরটাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারছে না।

মাউন্ড রেইনিয়ারে না খেয়ে প্রায় মরতে বসা এক কুকুরের জীবন বাঁচালো আমান্ডা গুয়ারাশিও ও তার গার্লফ্রেন্ড ডিলান পারকিনসন।

ফেসবুকে খবর পেয়ে ডিলান ও আমান্ডা উদ্ধার করে হারিয়ে যাওয়া কুকুরটিকে। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তাদের কুকুর উদ্ধারের কাহিনি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে এ নিয়ে নিউজ হয় পত্রিকাগুলিতে।

বুদ্ধি করে আহত হওয়ার অভিনয় করে কীভাবে কুকুরকে বশে এনেছিল আমান্ডা গুয়ারাশিও তার পুরো বর্ণনা দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে তারা। তাদের কুকুর উদ্ধারের কাহিনি:

ইভান্স ক্রিকের কুকুরটার আপডেট!!

কালকে রাতে ফেসবুকে একজন আমাকে একটা পোস্টে ট্যাগ করেছিল। পোস্টটা ছিল একটা স্ট্রে ডগ নিয়ে।  কুকুরটাকে ইভান্স ক্রিক-এর আশেপাশে দেখা গেছে।  না খেয়ে খেয়ে হাড্ডিসার হয়ে গেছে কুকুরটা। কেউ চাইলেও ভীত কুকুরটাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারছে না।

ইভান্স ক্রিক হলো ভাঙা পাথরের সেই রাস্তাটা যেটা সোজা মাউন্ট রেইনিয়ারের দিকে চলে গেছে। ইভান্স ক্রিকে লোকজন অফ-রোডিং করতে আসে।

পোস্টটা দেখেই আমি আর ডিলান সারারাত ড্রাইভ করে সেখানে চলে যাই। ফেসবুক পোস্টের মেয়েটা যে জায়গার কথা বলেছে, মানে যেখানে সে কুকুরটিকে দেখেছিল, আমরা গিয়ে কুকুরটিকে সেখানেই পাই। রাস্তার ধারে কেমন মন খারাপ করে বসে ছিল সে। খাবার-টাবার দিয়ে ঘণ্টাখানেক ধরে আমরা কুকুরটিকে পটানোর চেষ্টা করলাম। কোনো লাভ হল না।

প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শহরে ফিরে এসে কিছু হটডগ কিনে নিই আমরা। তারপর আমাদের আরেক ফ্রেন্ড আমান্ডাকে [অন্য আমান্ডা] সাথে করে আবার আগের জায়গাটায় যাই। আমান্ডা আমাদের সাথে রাত ৩টা পর্যন্ত ছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করি কুকুরটাকে ট্রাকে তোলার জন্য। কিন্তু কোনো সুবিধা করতে পারি না। আমরা কাছে গেলেই সে পালিয়ে যায়। তবে মাঝেমধ্যে আমার হাত থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছিল কুকুরটা।

আমি আর ডিলান আজ আরও প্রিপারেশন নিয়ে যাই সেখানে। পকেটভর্তি বলোনি সসেজ নিয়ে গিয়েছিলাম আমরা কুকুরটার জন্য!

সে ঠিক আগের জায়গাটাতেই ছিল। অনেকেই জানায়, কুকুরটাকে সপ্তাহখানেক ধরে এই জায়গাটাতেই দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ নাকি ওকে খাবার-টাবারও দিয়েছে।

কুকুরটার একটু দূরে, আমরা আমাদের ট্রাকটাতে বসে রইলাম। আর মাঝেমধ্যে টুকটাক খাবার ছুঁড়ে দিতে থাকলাম। আমরা চাচ্ছিলাম ও যেন একটু কমফোর্ট ফিল করা শুরু করে আমাদের সাথে।

একটা সময়ে এসে ডিলান আমাকে ট্রাক থেকে নেমে আবার চেষ্টা করতে বলে। কারণ ওর মনে হয়েছে কুকুরটা আমার সাথে কমফোর্ট ফিল করতে শুরু করেছে।

আমি ট্রাক থেকে নেমে ট্রাকের পিছনে চলে যাই এবং ভাঙা পাথরের রাস্তায় শুয়ে পড়ি। গুটিশুটি পাকিয়ে গোল হয়ে শুয়ে থাকি আমি। আমার পিঠ ছিল কুকুরটার দিকে। কুকুরটা প্রথমে একটু গোঁ গোঁ শব্দ করছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে সে আমার কাছে চলে আসে আর নাক দিয়ে আমাকে শুঁকে দেখা শুরু করে। আমি প্রায় ২০ মিনিট এইভাবে শুয়ে ছিলাম। এক সময় কুকুরটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে আর দূরে সরে যায়।

শরীর গরম করার জন্য এরপর আমি ট্রাকে উঠে পড়ি। কুকুরটা রাস্তার ধারে একটা ঘাসঅলা জায়গায় শুয়ে পড়ে। ডিলান তখন আমাকে রাস্তায় নামিয়ে ট্রাকটা নিয়ে একটু দূরে চলে যায়। বাইরে তখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। এতই ঠাণ্ডা যে কিছুক্ষণের মধ্যেই তুষার পড়া শুরু করে।

ততক্ষণে আমরা ওর একটা নামও দিয়ে ফেলেছি। ‘বেবি বিয়ার’।

তো ডিলান ট্রাকটা নিয়ে একটু দূরে সরে গেলে আমি আবারও বিয়ার-এর দিকে পিঠ রেখে মাটিতে শুয়ে পড়ি। তারপর খুব আস্তে আস্তে ক্রল করে করে ওর দিকে এগোতে থাকি।

বিয়ার যখনই একটু সন্দেহ করা শুরু করে, আমি আবারও গুটিশুটি পাকিয়ে গোল হয়ে যাই আর একদম চুপচাপ শুয়ে থাকি। এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে আমি অল্প অল্প করে ওর কাছে যেতে থাকি।

ডিলান ততক্ষণে রাস্তার ওপাশে চলে গেছে। সে দূর থেকে আমাদের দেখছিল আর সেই পথে আসা মানুষজনকে সতর্ক করছিল যে তার তারছিঁড়া গার্লফ্রেন্ড রাস্তার ওই পাশে শুয়ে আছে।

অনেক কষ্টে আমি বিয়ারের খুব কাছে চলে যাই। আমাকে এত কাছে দেখে শুরুতে সে একটু একটু গোঁ গোঁ শব্দ করছিল। ফলে আমিও কুকুরদের মতো করে বিভিন্ন শব্দ করতে থাকি যেগুলা আসলে শান্ত হওয়ার সিগন্যাল। আমি ধীরে ধীরে ওর আরো কাছে যেতে থাকি। এভাবে একসময় আমি বেবি বিয়ারের শরীরের স্পর্শ পাই আর ওর শরীর ঘেঁষে শুয়ে থাকি। (একটা সময় সে আমাদের জন্য একটা শেলটার খোঁজা শুরু করে দিয়েছিল। আমাকে দেখে ওর মেবি মনে হয়েছে যে আমি একটা প্যাথেটিক মানুষ মেয়ে যার কোনো সার্ভাইভাল স্কিল নেই। এজন্য সে আমাকে দেখাশোনার দায়িত্ব তুলে নিয়েছিল নিজ কাঁধে!)

যাই হোক। আমি ওকে হাত বুলিয়ে আদর করা শুরু করি। ধীরে ধীরে ওর সন্দেহ আর অস্বস্তি চলে যেতে থাকে। আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করতে শুরু করে সে। আরেকটু আরাম পাওয়ার জন্য সে নিজেই গা ঘেঁষাঘেঁষি শুরু করে দেয়।

আমরা ওকে প্রায় পেয়েই গিয়েছিলাম। আমি কোনো তাড়াহুড়া করছিলাম না। ও ভয় পেয়ে যাবে ভেবে আমি ওকে হাত দিয়ে ধরতে চাই নি। আমি ওর ভরসা হারাতে চাই নি।

কিন্তু ঠিক তখনই সাঁই করে একটা বিশাল বড় ট্রাক ছুটে যায় আমাদের পাশ দিয়ে আর সে ভয় পেয়ে দূরে সরে যায়।

***

সন্ধ্যে ৭টার দিকে আমরা বাসায় ফিরে আসি। আবার যখন যাই, দেখি বিয়ার ঠিক আগের জায়গাটাতে শুয়ে আছে যেখানে আমি আর ও একসাথে শুয়ে ছিলাম। ডিলান আমাকে ট্রাক থেকে নামায়, আর আমি সোজা বিয়ারের কাছে চলে যাই। খুব ধীরে।

আমি বিয়ারের পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসি আর শরীরে হাত বুলিয়ে আদর করতে শুরু করি। সে ভয় পেল না। আমি প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে ওর সাথে কথা বলতে বলতে ওকে আদর করতে থাকলাম। আর অনেক কষ্টে একটা বেল্ট পরাতে পারলাম ওকে।

বেবি বিয়ারের সঙ্গে আমান্ডা গুয়ারাশিও ও ডিলান পারকিনসন।

বেল্ট পরানোর কাহিনিটাও মজার। তখন পুরাপুরি অন্ধকার আর আমিও খুব টায়ার্ড। তাই আমি আসলে ঠিকঠাক দেখতে পাচ্ছিলাম না কী করছি না-করছি। বেল্টটা ওর নাকে লাগে আর ভুলে আমার হাত চলে যায় ওর নাক আর মুখে। ও যদিও খুব মজা পাচ্ছিল না, কিন্তু আমাকে থামাচ্ছিলও না।

ঠিক তখনই আমি বুঝলাম, ও ডিসাইড করে ফেলেছে যে আর দূরে সরে যাবে না।

তখন রাত ৯টা। এরপর আর যেখানেই গেছি, বিয়ার ছিল আমার কোলে। আমি ওকে কোলে করে ট্রাকে তুলেছি। ভেট ডাক্তারের কাছে পৌঁছা পর্যন্ত ট্রাকে বসে আমরা খুনসুটি করেছি। তারপর ট্রাক থেকে নেমে আমিই ওকে কোলে করে ভিতরে নিয়েছি। পুরো ২৬ কেজি ওজনের বিয়ার আমার কোলে!

যাই হোক। গুড নিউজ হল, বেবি বিয়ার এখন সুস্থ। আমরা ওর মালিককে খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে না পাই তাহলে বিয়ারকে কোনো রেসকিউ দলকে দিয়ে দেব। তখন সে নতুন আরেকটা ঠিকানা পাবে নতুন কোনো ফ্যামিলির সাথে।

***

তবে তার আগে আমরা অবশ্যই তার পুরনো পরিবারকে খোঁজার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাব। যদি সে ভুল করে হারিয়ে যাওয়া কোনো কুকুর হয়ে থাকে, আমরা অবশ্যই তাকে সেই ফ্যামিলির কাছে ফিরিয়ে দেব। সব ধরনের কুকুর আশ্রয়দাতা সংস্থা এবং ভেট ডাক্তারদের সাথেও যোগাযোগ করছি আমরা। এছাড়াও, গত দুই বছরের কুকুর হারানোর অ্যাডগুলাতেও চোখ রাখছি।

ইয়া বেবি বিয়ার!!
ভালোবাসা
এঅ্যান্ডডি