page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

ইউটিউবের সকল রেকর্ড ভেঙে ৩ বিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে ‘দেসপাসিতো’!

পুয়ের্তো রিকান গায়ক লুইস ফন্সি ও র‍্যাপার ড্যাডি ইয়াঙ্কি’র কণ্ঠে ‘দেসপাসিতো’ ইউটিউবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ভিউ অতিক্রম করেছে। ইউটিউবে সবচাইতে বেশি লাইক এবং অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে প্রায় ৪৬০ কোটি বারেরও বেশি প্লে হওয়ায় সারা বিশ্বেই গানটি রয়েছে শীর্ষে।

ড্যাডি ইয়াঙ্কি ও লুইস ফন্সি

এ উপলক্ষে লুইস ফন্সি তার ইন্সটাগ্রামে গানটির সাফল্য উদযাপন করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এর ক্যাপশনে তিনি বলেন, “এটি অনেক বড় সম্মানের বিষয়। ইতিহাসের সবচাইতে বেশিবার দেখা ভিডিও এবং প্রথম ভিডিও হিসাবে ৩ বিলিয়নে পৌঁছানো… তাও আবার স্প্যানিশে!”

ইউনিভার্সেল মিউজিক ল্যাটিনের পরিবেশনায় ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি স্প্যানিশ ভাষার এই গানের মিউজিক ভিডিও অনলাইনে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর গানটি ৪৫টি দেশে চার্টের শীর্ষে এবং বাকি ৯ দেশের টপ টেনে প্রবেশ করে নেয় সহজেই। কিন্তু এপ্রিল মাসে জাস্টিন বিবার এই গানের রিমিক্স সংস্করণে গলা মেলালে তা ইংরেজি ভাষাভাষী দুনিয়ায় এর জনপ্রিয়তা নিয়ে যায় তুঙ্গে। যদিও এর ফলে রিমিক্সের বদলে মূল গানটির প্রতিই মানুষ আগ্রহ বাড়তে থাকে বেশি।

ইউটিউবে মাত্র ৯৭ দিনে ১ বিলিয়ন ভিউ পার করে দেসপাসিতো। এরপর দ্রুততম গান হিসাবে ২ বিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে যায় ১৫৪ দিনের মাথায়। দক্ষিণ কোরিয়ান মেগাহিট ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ টানা প্রায় পাঁচ বছর সবচেয়ে বেশিবার দেখা ভিডিও তালিকার শীর্ষে থাকার পর ২০১৭ সালের ১১ জুলাই চার্লি পিউথ ও উইজ খালিফার ‘সি ইউ এগেইন’ এর পেছনে পড়ে যায়।

অথচ এক মাস যেতে না যেতেই ৪ আগস্ট এই দুই গান পার করে এক নাম্বার স্থানে চলে আসে দেসপাসিতো। আর তার একদিনের মাথাতেই ছুঁয়ে ফেলে ৩ বিলিয়নের অনন্য মাইলফলক।

গায়ক লুইস ফন্সি যদিও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া ল্যাটিন তারকাদের মাঝে প্রথম কেউ নন—কিন্তু এনরিকে ইগলেসিয়াস, শাকিরা বা রিকি মার্টিনদের মত তার পূর্বসূরিরা সেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মূলত ইংরেজি ভাষা অবলম্বন করেই। “গোটা বিশ্ব এখন স্প্যানিশে গান গাইছে। সবাই গুগলে সার্চ করছেন, ‘দেসপাসিতো’ মানে কী?” এভাবেই নিজের উৎফুল্লতা প্রকাশ করেন ফন্সি, “আমি এই গানের সাথে কোনো রাজনৈতিক আবহ জড়াতে চাই না; আমাদের মাঝে ভালোলাগার বোধ আনার জন্যে গানটা পারফেক্ট। কিন্তু আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে অনেকে আমাদের বিভক্ত করে দিতে চাইছেন আর কেউ কেউ চান দেয়াল তৈরি করতে—অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি আমরা চারিদিকে। এরকম সময়ে স্প্যানিশ একটা গান এক নম্বরে আছে দেখলেই তো ভাল লাগে।”

জঁনরার দিক থেকে দেসপাসিতো ‘রেগ্যাতন’ ও জ্যামাইকান ‘ডান্সহল’ মিউজিকের সমন্বয়। এই জঁনরার উৎপত্তি ঘটে মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন আফ্রো-সম্প্রদায়ের মাঝে।

১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝিতে পুয়ের্তো রিকান সরকার সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার দায়ে রেগ্যাতন সংস্কৃতির সাথে জড়িত গোষ্ঠীকে আটক করা শুরু করে। তাই এই সম্প্রদায় রেগ্যাতনকে তাদের সাংস্কৃতিক মুক্তির প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করে নেয়।

ইসাবেলিয়া হেরেরা নামের একজন অনলাইন ল্যাটিনো সঙ্গীত সম্পাদক মনে করেন, মিডিয়ায় দেসপাসিতো তাদের প্রতিনিধিত্ব করলেও ল্যাটিনো কমিউনিটির প্রকৃত রাজনৈতিক সমস্যাগুলির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণে তা তেমন ভূমিকা রাখবে না।

তবে ল্যাটিনো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্যে দেসপাসিতো নিঃসন্দেহে নতুন সব অঙ্গন খুলে দিয়েছে। ল্যাটিন গায়কদের সাথে সম্মিলিত উদ্যোগে গান গাইতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।

২০১২ সালে ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ ২ বিলিয়নের মাইলফলক ছুঁয়ে যে ইতিহাস গড়েছিল, তার সাথে বর্তমান সময়ের তুলনা টানা বোকামি। ইউটিউব ও ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান পরিধির কথা চিন্তা করলে এমনটা ভাবা ছাড়া কোনো উপায় নেই আসলে। দেসপাসিতো’র ৩ বিলিয়ন ভিউ স্রেফ একটা দরজা খুলে দিয়েছে, যা দিয়ে আরো অনেক ভিডিও এগিয়ে আসবে খুব দ্রুতই।

সূত্র : বিলবোর্ড, এনপিআর, বিবিসি

Luis Fonsi – Despacito ft. Daddy Yankee:

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply