page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

ইউনিট ৭৩১: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জীবাণু হামলায় জাপানি নৃশংসতার নতুন প্রমাণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল যুদ্ধ চালনার জন্য ১৯৩৫ সালে চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হারবিনে একটি গোপন গবেষণা ঘাঁটি স্থাপন করে জাপান। এর নাম ছিল ‘ইউনিট ৭৩১’।

১৮ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে সেই জীবাণু যুদ্ধে জাপানের পরিচালিত নৃশংসতার নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ব্যাসিলাস প্লেগ সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত একটি ইনকিউবেটর দেখাচ্ছেন ‘মিউজিয়াম অফ এভিডেন্স অফ ওয়ার ক্রাইমস’- এর কিউরেটর।

ওইদিন হারবিনের ‘মিউজিয়াম অফ এভিডেন্স অফ ওয়ার ক্রাইমস’ ইউনিট ৭৩১ এর বরাত দিয়ে বেশ কিছু লিখিত জবানবন্দি, পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা মানুষদের যাতায়াতের রেকর্ড ও ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা প্লেগরোগ সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত ইনকিউবেটর প্রদর্শন করে। সেই সাথে ইউনিটের কিছু পুরানো সৈনিকের ছবিও দেখানো হয়।

জীবাণু ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বোমা ও অন্যান্য রাসায়নিক বোমা জীবিত মানুষদের ওপর পরীক্ষা করে দেখত এই ইউনিটের গবেষকরা।

ম্যাপে চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশ ও জাপান

চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, কোরিয়ান উপদ্বীপ ও মঙ্গোলিয়ার বহু বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে জাপানিজ বিজ্ঞানীরা। তাদের মাঝে অনেকেই ছিল শিশু।

ইউনিট ৭৩১ অন্তত তিন হাজার মানুষকে তাদের গবেষণার নামে ব্যবহার করে। আর সমগ্র চীন জুড়ে প্রায় তিন লাখ মানুষকে হত্যা করা হয় বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের সাহায্যে।

মিউজিয়ামের একজন কর্মীর হাতে ইউনিট ৭৩১ এর এক যুদ্ধাপরাধীর লিখিত জবানবন্দি।

ইউনিট ৭৩১- এ অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষ্য ও ১৯৪৯ সালে খাবারভস্ক যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার তথ্য ব্যবহার করে জাপানের ‘এনএইচকে টেলিভিশন’ গত ১৩ আগস্ট একটি ডকুমেন্টারি সিনেমার মাধ্যমে সেই ভয়াবহতার জীবন্ত রূপ তুলে ধরে।

 

১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের পর ইউনিট ৭৩১ তাড়াহুড়া করে চীন থেকে সরে আসে। কিন্তু ব্যবহৃত নানা যন্ত্রপাতি এবং প্রায় তিন হাজার শিশুকে ফেলে আসে তারা। জাপানিজ এই শিশুদের অনেককেই পরবর্তীতে চাইনিজ পরিবারগুলি প্রতিপালন করেছিল।

সূত্র. চায়না ডেইলি, ১৯ আগস্ট ২০১৭

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক