ইনডিয়ায় হিন্দু কমেছে, মুসলমান বেড়েছে

ইনডিয়ায় ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক শুমারির সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সে দেশে জনসংখ্যায় হিন্দুদের ভাগ কমেছে। বেড়েছে মুসলমানদের ভাগ। ২০১১ সালের এই শুমারির ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে সে দেশের সরকার।

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির মোট জনসংখ্যা ১২১ কোটি। এর মধ্যে ৯৬ কোটি ৬৩ লাখ হিন্দু, শতকরা হারে যা দাঁড়ায় ৭৯.৮ শতাংশ। মুসলমানদের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি, শতকরা হিসেবে ১৪.২।

পাকিস্তানে মুসলমান জনগোষ্ঠী সাড়ে ১৮ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে ২৮ লাখ হিন্দুর বসবাস। দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি মুসলমান জনগোষ্ঠীর বাস ইন্দোনেশিয়ায়—২০ কোটি ৬৬ লাখ।

ভারতে আগের শুমারি (২০০৪ সাল) থেকে মোট জনসংখ্যায় মুসলমানদের ভাগ বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। হিন্দুদের ভাগ কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। শিখদের কমেছে দশমিক ২ শতাংশ আর বৌদ্ধদের কমেছে দশমিক ১ শতাংশ।

ভারতের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৮০ শতাংশের নিচে নামলো হিন্দু জনসংখ্যা।

শুমারি অনুযায়ী, দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় খ্রিস্টানরা, যাদের সংখ্যা ২ কোটি ৭৮ লাখ। তারা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের শুমারির তুলনায় খ্রিস্টানদের শতকরা হার একই আছে। এর পরেই অবস্থান শিখদের (২ কোটি ৮ লাখ)। বৌদ্ধ আর জৈনদের সংখ্যা যথাক্রমে ৮৪ লাখ ও ৪৫ লাখ।

মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি—২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে হিন্দুরা সংখ্যায় বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। আর খ্রিস্টানরা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালের শুরুর দিকেই এই শুমারির ফলাফল সংকলনের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে মনে করে ফলাফল গোপন রাখা হয়েছিল।

গত এপ্রিলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা খ্রিস্টানদের সংখ্যার সমান হয়ে যাবে। এ গ্রহের ইতিহাসে প্রথমবারের মত এটা ঘটবে।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী চার দশকে সব বড় ধর্মের লোকসংখ্যাই বাড়তে থাকবে। তবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণে বিশ্বের এ মুহূর্তের ধর্মীয় জনমিতিক ভারসাম্য অনেকটাই পাল্টে যাবে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশই থাকবে বটে, তবে সেদেশে ইহুদিদের চেয়ে মুসলমানদের জনসংখ্যা বেশি হয়ে যাবে।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply