একজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন—”প্রিয় এমপিরা, ৮ কোটি মানুষকে অপমানিত করার জন্য ধন্যবাদ।”

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি’র অভিষেক উপলক্ষে ৫ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে বেশ কয়েকজন বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ইরানে আমন্ত্রিত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান ইতালিয়ান রাজনীতিবিদ ফেদেরিকা মোঘেরিনি। কিন্তু এতজনের মাঝে তার সাথেই ছবি তোলার জন্য সংসদ সদস্যরা যেন উৎসুক ছিলেন বেশি।

ইরানের এমপিরা ডেস্কের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্মার্টফোন হাতে ফেদেরিকার সামনে সেলফি তোলার জন্যে জড়ো হচ্ছেন—এ রকম একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ইরানি জনগণ ইন্টারনেটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাটিকে অভিহিত করা হতে থাকে ‘অবমাননার সেলফি’ নামে।

একজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন—”প্রিয় এমপিরা, ৮ কোটি মানুষকে অপমানিত করার জন্য ধন্যবাদ।”

অন্তত একজন এমপি তার শিষ্টতার ব্যাপারে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তারপরও ৭ আগস্ট ইরানের পত্রিকায় এ নিয়ে ছিল ব্যাপক সমালোচনা।

ইরানের ‘ঘানুন’ পত্রিকায় এডভার্ড মাঞ্চের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘দ্য স্ক্রিম’ এর আদলে একটি ব্যঙ্গচিত্র আঁকা হয়। এতে ফেদেরিকা ছিলেন কেন্দ্রে, আর সবাই তাকে ঘিরে সেলফি তোলায় ব্যস্ত।

এই পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, “ঘটনাটির মাধ্যমে দেশে উপযুক্ত শিক্ষার অভাব প্রকাশ পেয়েছে।”

ইরানের ‘ঘানুন’ পত্রিকায় সেলফি বিতর্কে এডভার্ড মাঞ্চের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘দ্য স্ক্রিম’ এর আদলে একটি ব্যঙ্গচিত্র।

তবে অতি রক্ষণশীল পত্রিকা ‘কায়হান’ গোটা ব্যাপারটাকে অতটা হাস্যরসের সাথে নেয় নাই। তারা বলেছে, “শত্রুদের কাছ থেকে দেশের সকল অধিকার রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব, তারাই লাইন ধরে সেই অধিকার লঙ্ঘনকারীদের সাথে ছবি তুলতে চাচ্ছেন।”

ফেদেরিকা মোঘেরিনি মূলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে রুহানির সাথে আলোচনা করতে এসেছিলেন। তিনি এই সেলফি বিতর্কে কোনো মন্তব্য করেন নি।

সূত্র. বিজনেস ইনসাইডার, ৭/৮/২০১৭