page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

উত্তর কোরিয়ার ‘ম্যানিয়াক’ প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী ডোনাল্ড ট্রাম্প

রয়টার্সের সাথে এক ইন্টারভিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ১৭ মে, ২০১৬ তে বলেছেন তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে দেখা করে তাদের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

তিনি বলেছেন, আমি ওনার সাথে কথা বলব। ওনার সাথে কথা বলতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

kim-joong-un-09

গত বছর সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প কিম জং উনকে ‘ম্যানিয়াক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

অবশ্য এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে একটি ডিবেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘ম্যানিয়াক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের মন্তব্য—পাওয়ারফুল বিদেশী নেতাদের ব্যাপারে ট্রাম্পের ‘উদ্ভট’ আসক্তি আছে।

 

আরো পড়তে পারেন: কিম জং উন—উত্তর কোরিয়ার নবীন ডিকটেটর

 

ফক্স নিউজের সাথে আরেকটি ইন্টারভিউয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার নয় মাস ব্যাপী ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে তার অবশ্যই অনুশোচনা আছে, কিন্তু তিনি এইভাবে নিজেকে পরিচালনা না করলে তিনি সফল হতে পারতেন না।

নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্য ভ্রমণেও যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

২০১৬ এর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো হতে যাচ্ছে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চাওয়ার ব্যাপারে  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও লন্ডনের নতুন মেয়র সাদিক খান ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন।

 

চীনের ওপর চাপ

রয়টার্সের সেই ইন্টারভিউয়ে ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক পদক্ষেপ তিনি অনুমোদন করেন না।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি পুতিনকে সম্মান করেন।

নর্থ কোরিয়ার বিষয়ে বক্তব্যে ট্রাম্প আরো বলেছেন তিনি চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন। বর্তমানে চীন নর্থ কোরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা।

ট্রাম্প বলেন, আমি চীনের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করব। কারণ অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর আমাদের মারাত্মক ক্ষমতা রয়েছে। লোকজন সেটা বুঝতে পারে না।

বর্তমানে নর্থ কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আমলাতান্ত্রিক বা পররাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নেই।

 

‘মেয়েছেলে’ মন্তব্য

২০১৫ এর আগস্টে একটি টিভি ইন্টারভিউয়ের পর ফক্স চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপিকা মেগান কেলির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচণ্ড বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধের শুরু হয়েছিল নারীদের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের কারণে।

magyn-kelly-5

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্টারভিউ করছেন মেগান কেলি। ট্রাম্প টাওয়ারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার তার সেই পুরাতন শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিলেন।

মেগান কেলি আবার সেই পুরাতন বিষয়ে ফিরে গিয়েছিলেন।

তিনি ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছেন ট্রাম্প কেন বারবার তাকে আক্রমণ করে টুইট করেছেন এবং তাকে ‘মেয়েছেলে’ বলেছেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ক্ষমা চান নি, তবে বলেছেন, এক্সকিউজ মি।

তিনি উত্তর দিয়েছেন তিনি একবার টুইট করাই পছন্দ করেন, কিন্তু পুনরায় টুইট করলে বা ‘রি-টুইট’ করলে ব্যাপারটি বেশি তীব্র ও শক্তিশালী হয়।

 

আরো পড়তে পারেন: মেক্সিকানদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্য

 

মেগান কেলি আরো জিজ্ঞেস করেছেন, তার নয় মাস ব্যাপী ক্যাম্পেইন নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা আছে কিনা?

ট্রাম্প উত্তর দিয়েছেন, অবশ্যই আমার অনুশোচনা আছে। আমি কিছু জিনিস অন্যভাবে করতে পারতাম, আমি হয়ত অন্য ভাষা ব্যবহার করতে পারতাম। কিন্তু এই পদ্ধতিতে যে আউটকাম এসেছে তাতে আমাকে খুশি হতেই হবে। আমি যদি নিজেকে এভাবে পরিচালনা না করতাম তাহলে আমি সফল হতাম না।

১৭ মে, মঙ্গলবার, অরেগনে প্রাথমিক রিপাব্লিকান হিসেবে ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছেন। আর ডেমোক্রেটিক থেকে বার্নি স্যান্ডার্স বিপুলভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

কেন্টাকিতে প্রাথমিকভাবে শুধু ডেমোক্রেটিকই প্রতিদ্বন্দ্বী তা করেছে। তবে খুব অল্প ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটন বিজয়ী হয়েছেন।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক