page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

“এই বইটার সাড়া, টিনেজদের মধ্যে ভালো।”—তাবাস্‌সুম আরজু

সাঈদ রূপু: শৈশব কোথায় কাটছে আপনার?

তাবাস্‌সুম আরজু: ঢাকা, আমি ঢাকায় বড় হয়েছি।

সাঈদ: ঢাকা কোথায়?

তাবাস্‌সুম: ঢাকা আমার সোবহানবাগ, সোবহানবাগ কোয়ার্টারে বড় হয়েছি। এখন আমরা পশ্চিম রাজাবাজারে এসেছি।

 

boimela-logo-2016

সাঈদ: এটা কি আপনার প্রথম বই?

তাবাস্‌সুম: এটা আমার প্রথম বই।

সাঈদ: এর আগে লেখালেখি করতেন?

তাবাস্‌সুম: এর আগে আমি বণিকবার্তায় কাজ করেছি। বণিকবার্তায় ফিচার এবং আন্তর্জাতিকে কাজ করেছি।

সাঈদ: এই বইটা কীসের?

tabssum arju 1তাবাস্‌সুম: এই বইটা হচ্ছে বিখ্যাতদের চিঠি। বিখ্যাতদের চিঠি, একেকটা চিঠি একেকটা সময়কে উপস্থাপন করে।

সাঈদ: বিখ্যাত বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?

তাবাস্‌সুম: বিখ্যাত বলতে যাদেরকে আমরা বিখ্যাত বানিয়েছি তারা।

সাঈদ: দুই একজানের নাম?

তাবাস্‌সুম: যেমন আমরা চে কে বিখ্যাত বানিয়েছি, সে বিপ্লবী। আমরা সার্ত্রেকে বিখ্যাত বানিয়েছি সে দার্শনিক। অনেক দার্শনিক আছে, কিন্তু আমরা যাকে বিখ্যাত বানিয়েছি ওদের চিঠি।

সাঈদ: আপনার বইতে কাদের নিয়ে কাজ করছেন?

তাবাস্‌সুম: আমার বইটা আন্তর্জাতিক। আন্তর্জাতিক, এশিয়া না। বেশির ভাগই হচ্ছে ইউরোপ, বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র, না হলে লাটিন আমেরিকা। চার্লস ডিকেন্স আছে, এমিলি ডিকিনসন আছে।

সাঈদ: আপনার এই কাজের ধারাটা কীভাবে? মানে বর্ণনা করছেন কি চিঠি, শুধু কি উনাদের চিঠি একত্রে করে, নাকি আপনার…?

তাবাস্‌সুম: হ্যাঁ, উনাদের চিঠি একত্রে করে, উনাদের চিঠি একত্র করেই।

সাঈদ: আপনার অ্যাকসেপশনাল জায়গাটা কী?

তাবাস্‌সুম: সমালোচনা। ওদের একটা চিঠি, যে চিঠিটার জন্যে ওদের সমালোচনার ঝড় বইতে হইছে।

সাঈদ: কোন ধরনের সমালোচনা?

তাবাস্‌সুম: যেমন সার্ত্রের চিঠি আছে। যে সার্ত্র বোভোয়ারকে বলতেছে, তুমি খালি আমার সাথে প্রেম করছো কেন? তুমি একটা নারীর সাথেও প্রেম করো। আমার কোনো সমস্যা নেই। তো এটাতে একটা সমালোচনা হয়েছিল। তারপর হচ্ছে চে। চেকে আমি বিপ্লবী হিসাবে চিনি, কিন্তু বাবা চেকে আমি চিনি? আপনে চিনেন? বাবা হিসেবে চে কেমন? এই বাবা হিসেবে চে একটা চিঠি লিখেছিল যে তুমি যখন চিঠিটা পাবা ততক্ষণে আমি মরে যাবো। ও আসলেই মরে গিয়েছিল। চিঠিটা লেখার পরে। পরের দিনই ওকে শুট করা হয়েছে। এ ধরনের সমালোচনাই। সমালোচানাটা হচ্ছে আমি এইখানে কেন্দ্র করেছি।

সাঈদ: কয়জনের সমালোচনা এইখানে আপনার বইতে আসছে?

তাবাস্‌সুম: এখানে আপনের ৪৫ জন।

সাঈদ: ৪৫ জন কি সারাবিশ্বের, একেক জন ধরে বাহিরের। বাংলাদেশের?

তাবাস্‌সুম: না বাংলাদেশের নেই এখানে। এশিয়া নেই, এশিয়া নিয়ে পরে কাজ করবো।

সাঈদ: তো আপনি কি পরবর্তীতে কি এই ধরনেরই কাজ করবেন, নাকি তাছাড়া বের হয়ে অন্য কোনো কাজ?

তাবাস্‌সুম: পরবর্তীতে আমি চাচ্ছি যে আমি একটু কথাসাহিত্য নিয়ে কাজ করবো। মানে নিজের মৌলিক লেখা আমি চর্চা করতে চাই। অনুবাদ আমি চালিয়ে যাবো। অনুবাদে আমার কিছু সাক্ষাৎকার করা আছে। কিন্তু আমি আসলে মৌলিক লেখায় যাবো।

সাঈদ: আচ্ছা আপনার প্রিয় লেখক, যদি জানতে চাই?

তাবাস্‌সুম: আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আজাদ।

সাঈদ: তাকে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে আপনার?

তাবাস্‌সুম: তাকে নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছা। কিন্তু সে নিজেই এত কাজ করে গেছে আমি তাকে নিয়ে যদি কাজ করতে হয় তাহলে আমি তার শৈশব নিয়ে কাজ করতে চাই। এটা নিয়ে কেউ জানে না। কারণ তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে আমারও বাড়ি মুন্সিগঞ্জ—আমার কাছে মনে হয় আমি কিছু তথ্য পেতে পারি।

সাঈদ: উনার শৈশবের উপর কি আপনার বিচরণ আছে?

তাবাস্‌সুম: না, বিচরণ নেই কিন্তু আমি তথ্য সংগ্রহ করতে পারবো।

সাঈদ: এটা কি পরবর্তী বইমেলাতে আসবে.?

তাবাস্‌সুম: এটা আরোও পরে। কারণ এটা নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। এটা তো আমি একা এক বছরে মনে হয় না পারবো। অনেক কাজ আছে এটায়।

সাঈদ: পরবতীর্তে আপনার কী ইচ্ছা যে পরবর্তীতে বইমেলাতে বা বইমেলা ছাড়া বই বের করবেন কিনা?

তাবাস্‌সুম: হ্যাঁ, অবশ্যই বের করবো। বইয়ের জন্যে তো বইমেলা দরকার নাই, যখন মন চাইবে আপনি বই বের করতে পারেন। কিন্তু মানসম্পন্ন বই হতে হবে। মানে বোদ্ধা পাঠকরা যাতে অন্তত পক্ষে হাতে যায়। তারা বইটা পড়ুক, এইটাই আমার ইচ্ছা।

সাঈদ: আর আপনার এই বইটাতে প্রত্যাশা কী? কবে আসছে এটা।

তাবাস্‌সুম: এটা প্রথম দিনই এসে পড়েছে। এই বইতে প্রত্যাশা মানুষ এই বইটা পড়ুক। মানে মানুষ জানুক, আর কিছু না।

সাঈদ: এ পর্যন্ত এই বইটার সাড়া কী রকম দেখছেন?

তাবাস্‌সুম: এই বইটার সাড়া, টিনেজদের মধ্যে ভালো। ছাত্রদের মধ্যে ভালো। ওরা হচ্ছে জানতে চায়।

সাঈদ: আপনি কি যখন লিখছেন টিনেজদের জন্যই কি?

তাবাস্‌সুম: না, আমি কোনো গৎবাঁধা নিয়মে কারো জন্যে করি নি।

সাঈদ: সবার জন্যই করছেন?

তাবাস্‌সুম: হ্যাঁ সবার জন্যেই করেছি। কিন্তু আমি দেখলাম যে ওরা তো আসলে অনেককে চিনে না, আবার ছবি দেওয়া আছে, ছবি দেখে দেখে মানে আমি ধরেন একজনকে নাম জানি কিন্তু হয়তো বা চেহারা মনে পড়ছে না আসলে এটা কে। কিন্তু চেহারা চিনি নাম জানি না এজন্যে আমি পাশে ছবিও দিয়ে দিছি। দেখে যাতে বোঝা যায় আসলে এই লোকটার চিঠি তুমি পড়তেছো।

সাঈদ: এই যে এখন উনারা আপনার বই পড়ার পরে এক দিকে চলে গেছে যে তরুণদের মাঝখানে টিনেজদের মাঝখানে চলে গেছে এতে কি আপনার নিজের পরিবর্তন হইছে কি, যে আমার বইটা অন্য ধরনের লিখলে হইতো বা…?

তাবাস্‌সুম: না এরকম কিছু না। এখন ওদের যদি আমার বই ভালো লাগে তাহলে ওরা পড়বে। যদি ৬০ বছরের উপরে লোকদের ভালো লাগে তারাও পড়বে। আমার কোনো গৎবাঁধা ধারা নেই। আসলে আপনি যখন বই লিখবেন তখন কি আপনি জরীপ করবেন যে দশ থেকে বিশ বছরের জন্যে এই বই, বিশ থেকে চল্লিশ বছরের জন্যে এই বই!

সাঈদ: এত দিনে তো এটা আসার কথা যেহেতু টিনেজ পাঠক বই কিনছে, সেহেতু আপনার কি মনে হয় যে অন্যরা কেন কিনছে না?

তাবাস্‌সুম: সেটা আমার মনে হয় যে ওরা আসলে এইসব লোকদের চিনে না। এই জন্যে ওরা চিনার জন্য যে খালি তো চিনি হচ্ছে ঐ হলিউডের আমি সব নায়ক-নায়িকা চিনি, এদেরকে তো চিনি না। অন্তত পক্ষে এ আগ্রহটা হইছে। হোক, আরো হোক। আরো বাকি আছে হওয়ার।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ১৭/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।