page contents

এনএলপি

শেয়ার করুন!

আমার বাপ মায়ের বিয়া হইছে ৪০ বছরের কাছাকাছি। উনাদের অসীম প্রেম, এবং ততোধিক অসীম ঝগড়াঝাঁটি। আমার বাপ স্বভাবে আমার মত (নাকি বলা উচিৎ আমার স্বভাব আমার বাপের মত?)—তো উনি সারাদিন অনর্গল বেহুদা কথা কন, এবং সারাদিন বেহুদা ঝগড়াঝাঁটি করেন।

তো এক উত্তেজনাপূর্ণ দিনে আমি দেখি, আমার বাপ ঘাড়ের রগ ফুলায়ে তর্ক কইরা যাইতেছেন, আর আমার মাতাশ্রী জানালা দিয়া কী জানি দেখতে দেখতে ফিক ফিক ফিক ফিক কইরা হাসতেছেন। আমার বাপ আমার মায়ের হাসি দেইখা আরো দ্বিগুণ তিনগুণ রাগে ‘চলে খচ্‌খচ্‌ রাগে গজ্‌গজ্‌ জুতা মচ্‌মচ্‌ তানে, ভুরু কট্‌মট্‌ ছড়ি ফট্‌ফট্‌ লাথি চট্‌পট্‌ হানে’ ভঙ্গিতে মাইক্রোওয়েভ অভেনের ভিতর দ্রুমদ্রাম পপকর্নের মত ফুটতেছেন।

আমি পরে আমার মারে জিগাইলাম উনার হাসির রহস্য কী। আম্মাজান জানাইলেন আমার বাপ গত ৪০ বছর ধইরা একই বিষয় নিয়া ত্যানা প্যাঁচান। এবং সেই ত্যানা পাত্তাযোগ্য কোনো ত্যানা না। তাই বেশিরভাগ সময় উনি এইসব ত্যানা অগ্রাহ্য করার একটা সিস্টেম আবিষ্কার করছেন। আমার বাপ যখনই ত্যানার বান্ডেল নিয়া বসেন, তখনই আম্মাসউদ্দিন অন্য কোনো ফূর্তির বিষয় মনে করার চেষ্টা করেন। উনার স্কুলের কোনো ঘটনা বা বন্ধুদের আড্ডায় বলা কোনো জোক মনে কইরা বা জানলার বাইরের কোনো দৃশ্য দেইখা উনি সেই ত্যানা মারফত বিরক্তি হ্রাস করেন।

পরে জানছি এই সিস্টেম আমার মাদারের আবিষ্কার করা সিস্টেম না। এই সিস্টেমের নাম এনএলপি। নিউরো লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং। বা স্নায়ু-ভাষাগত প্রোগ্রামিং।

১৯৭৬ সালে আমেরিকান প্রফেসার ড. জন গ্রিন্ডলার এবং উনার ছাত্র রিচার্ড ব্যান্ডলার ব্যক্তিগত বিকাশ এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেরে সাইকোথেরাপি দেওয়ার এই মানসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজআবিষ্কার করেন। তারা দাবি করেন অভিজ্ঞতার মারফত অর্জিত আচরণগত যেই ছকদিয়া আমরা চলি, তার সাথে আমাদের স্নায়বিক প্রক্রিয়া এবং আমাদের ভাষার সম্পর্ক আছে; এবং জীবনে নির্দিষ্ট কোনো গোলঅর্জনে বা কোনো লক্ষ্যে পৌছাইতে এদের পরিবর্তন সম্ভব। এনএলপির মাধ্যমে ফোবিয়া, বিষণ্নতা, স্ট্রেস, প্যানিক অ্যাটাক, মনোসামাজিক অসুস্থতা এমনকি অ্যালার্জি, সর্দি কাশির মত রোগ, চোখে কম দেখা ইত্যাদি রোগও সারানো যায় এবং কাউরে নিজের প্রেমে ফেলায়ে ফেলা সম্ভব বইলা তাদের দাবি।

১৯৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিচার্ড ব্যান্ডলার এবং জন গ্রিন্ডার নিউরো লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং (এনএলপি) নামের আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যক্তিগত বিকাশের মনঃসমীক্ষণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

আমাদের পাঁচটা ইন্দ্রিয় মারফত সংগ্রহ করা তথ্য দিয়া আমাদের চারদিকের দুনিয়ারে দেখা এবং বোঝার মাধ্যমে আমরা যেই নিজস্ব এবং ইউনিকমানসিক মানচিত্র তৈরি করি, তাই এনএলপির প্রধান উপাদান।

প্রাথমিকভাবে আমরা প্রত্যেক মানুষ স্বতন্ত্রভাবে আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়া গ্রহণ করা শব্দ, স্পর্শ, স্বাদ, গন্ধ, ছবি দিয়া আশেপাশের দুনিয়া সম্পর্কে একটা মানসিক ধারণা তৈরি কইরা নেই। আমরা প্রত্যেক এক সেকেন্ডে দুই মিলিয়ন বিটস তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা রাখি। সেই দুই মিলিয়ন বিটস থিকা আমরা ১৩৪ হাজার বিটস তথ্য প্রসেসকরি বইলা বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন।

২ মিলিয়ন থিকা মাত্র ১৩৪ হাজার তথ্য প্রসেস করার অর্থ হইলো আমরা প্রচুর তথ্য ডিলিট কইরা দেই। আমরা রাস্তা দিয়া হাঁটার সময় তাকাই, কিন্তু দেখি না, কারণ আমাদের ব্রেইন এইসব তথ্য জেনেরালাইজড কইরা ফেলায়, ‘সব একই রকম সাধারণ মানুষ! সব একই রকম গাছ!’ এইভাবে!

এবং এই জেনেরালাইজ করার প্রক্রিয়া মানুষ ভেদে ভিন্ন। একজনের কাছে যেই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, তা অন্যের কাছে না। সুতরাং একই রাস্তা দিয়া হাঁইটা যাওয়ার সময় আপনি যা দেখবেন আমি তা দেখব না। এরপর আমরা সেই তথ্যের সমষ্টির সাথে আমাদের ব্রেইনে জমা হওয়া আগের তথ্যের সমষ্টি তুলনা করি। যদি আমাদের আগের তথ্যের সমষ্টির সাথে নতুন তথ্যের সমষ্টি মিলা যায়, তাইলে আমরা তার একটা অর্থ দাঁড়া করাইতে পারি। যেমন আমরা আগে জানতাম যার চার চাকা আছে তার নাম গাড়ি, এখন রাস্তায় চার চাকাওয়ালা চলমান বাহন দেইখা আমরা বুঝতে পারি, এই জিনিসের নামই গাড়ি হবে।

এই যে অর্থ দাঁড়া করানোর প্রক্রিয়া, এবং তা শুধু বস্তুর ক্ষেত্রে না, যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রেও—এই প্রক্রিয়া আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থাভেদে আপেক্ষিক। ধরেন আপনি টের পাইতেছেন আপনি উপর থিকা পইড়া যাইতেছেন, কিন্তু কেউ আমার লেখাতে লাইক দেওয়ার অপরাধে আপনারে ধাক্কা দিয়া দশ তলা বিল্ডিং থিকা ফালায়ে দিতেছেন নাকি আপনি নিজের ফূর্তিতে নিজের পায়ে দড়ি বাইন্ধা বানজি জাম্প করতেছেন? এই দুই ঘটনায় আপনার ব্রেইন দুই রকম অর্থ তৈরি করবে বলাই বাহুল্য, অথচ দুই ক্ষেত্রেই আপনার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একইরকম; এই দুই ক্ষেত্রেই আপনার হার্ট রেইট একই রকম থাকবে, দুই ক্ষেত্রেই আপনার শরীর একই ধরনের হরমোন তৈরি করবে। অর্থাৎ আপনি কী অনুভব করবেন সেইটা আপনার শরীর তৈরি করবে না, আপনি কী অনুভব করবেন সেইটা তৈরি করবে আপনার ব্রেইন, আগের তথ্যের সাথে নতুন তথ্য জোড়া দিয়া।

মাথায় রাইখেন আমরা শুধুমাত্র যেকোনো একটা ঘটনায় একইসাথে ৭ +/- ২ এর বেশি কোনো আগের ঘটনার কথা চিন্তা করতে পারি না। অর্থাৎ ২ মিলিয়ন বিটস তথ্য আমাদের মাথায় ঢুকলেও শেষমেশ আমরা যেকোনো একটা ঘটনায় মাত্র ৫টা থিকা ৯টা তথ্য নিয়া চিন্তা করতে সক্ষম। এবং সেই চিন্তাও আমরা যা চিন্তা করতে চাইতার বাইরে কিছু না।

উদাহরণ দেইধরেন আপনি জানেন আজকে আপনারে আপনার বস বিশাল ঝাড়ি দিবেন। আজকে আপনার চাকরি চইলা যাইতে পারে। আপনি গত পাঁচ বছর ধইরা এই অফিসে চাকরি করেন। প্রতিদিন একই রাস্তা ধইরা অফিসে যান। আজকেই আপনার চোখে পড়বে রাস্তার পাশে আরেকটা অফিস যার দরজায় লোক নিয়োগ হবেনোটিস ঝুলানো। এই নোটিস এক মাস আগে লাগানো হইছে, কিন্তু আপনি খেয়াল করবেন আজকেই। একদিন আগেও না, একদিন পরেও না। অর্থাৎ আপনি যা এবং যখন দেখতে চান, আপনি তাই তখন দেখবেন। এইটা আপনার ব্রেইনের ফিল্টারিং। ব্রেইন এই ফিল্টারিং প্রসেস চালায় আপনার চরিত্রের উপর নির্ভর কইরা। আপনার কাছে কী সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? স্বাধীনতা? সুখ? সুস্বাস্থ্য? টাকা? প্রেম?

ধরেন আপনার চরিত্রের সাথে চাকরি বাকরি যায় না, আপনি চাকরি চইলা যাবে এই নিয়া মোটেও উদ্বিগ্ন না, বরং কয়েক মাস ছুটি পাওয়া যাবে এবং আন্দামান ঘুইরা আসতে পারবেন এই নিয়া আপনি খুশি। তখন আপনার চোখে ঐ লোক নিয়োগ হবেনোটিস চোখেই পড়বে না। বরং আপনি দেখবেন ট্রাভেল এজেন্সির অফিস।

কিন্তু ধরেন আরেকজন, যার বাসায় তিন বাচ্চা আছে, তিনি চাকরি চইলা যাওয়া নিয়া উদ্বিগ্ন, উনার চোখে পড়বে পত্রিকাতে বাচ্চাদের অসুধের দাম বাড়ার খবর। এবং সেই উদ্বেগের পরিমাণ বেশি হইলে আপনি শুধু দাম বাড়াটাই দেখবেন, ‘লোক নিয়োগ হবেএই নোটিস আপনার চোখের সামনে থাকলেও তা দেখতে পাইবেন না।

সোজা বাংলায়, আপনি যা দেখেন, যা অনুভব করেন, তা বাস্তবতার একাংশ। এবং সেই একাংশ আপনার নিজের তৈরি করা বাস্তবতা, সম্পূর্ণ বাস্তবতা না। এবং তাই আপনার ব্রেইনের তৈরি করা সমস্ত অর্থই আপেক্ষিক।

এনএলপি বলে আপনার ব্রেইন নিজের যোগ্যতায় যা আপনার হইয়া চিন্তা কইরা দিতেছে, তা আপনি পাল্টানোর ক্ষমতা রাখেন।

অর্থাৎ আপনি কী দেখবেন, কী ভাববেন সেইটা ব্রেইন আপনারে ৫৭ ধারার মাতব্বরের মত ঠিক কইরা দিতে চাইলেও, আপনি তারে থামাইয়া নিজেই ঠিক কইরা নিতে সক্ষম।

আপনি গত পাঁচ বছরে চাকরি খুঁইজা পান নাই, আপনার ব্রেইন আগের স্ট্যাটিস্টিক্স হিসাব কইরা এখন আপনারে দিয়া ভাবায় আপনি যোগ্যতাহীন একজন মানুষ, এবং আপনিও তাই ভাইবা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এনএলপি বলতেছে, আপনি ব্রেইনের আপনার হইয়া এই ভাবনা ভাবানো বন্ধ করতে পারেন।

যদি সংক্ষেপে পুরা প্রসেসটা আবার ব্যখ্যা করি তাইলে বলতে হবে—আমরা ইন্দ্রিয় মারফত পাওয়া তথ্য প্রসেস কইরা এক ধরনের নিজস্বমানসিক ধারণা তৈরি করি এবং এই মানসিক ধারণার উপর নিজস্ব ভাষা আরোপ করি। এই দুইয়ের সংযোগ ঘটার পরে এদের উপর ভিত্তি কইরা আমাদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া ঠিক করি।

এনএলপি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজের প্রয়োজনে এবং আমরা যেই কাজ করি, তা আরো ভালভাবে করতে আমরা নিজেদের ব্রেইনরে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স অ্যালগরিদমব্যবহার কইরা আমাদের নার্ভাস সিস্টেমরে রিপ্রোগ্রামকইরা এই সিস্টেম থিকা বাইর কইরা আইনা আমাদের আচরণরে পরিবর্তন কইরা ফেলতে পারি।

সোজা বাংলায় বলতে গেলে এনএলপির মাধ্যমে যেকোনো একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচাইতে ভাল এবং স্মার্ট এবং যুক্তিযুক্ত একটা অপশন বাইছা নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এমনকি যদি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমাদের সেই অপশনের কথা চিন্তা করার ক্ষমতা নাও থাকে।

আপনি লাইফে কী করতে চান যেইটা আপনি করতে পারতেছেন না? ধরেন আপনি সিগারেট ছাড়তে চান। (আমি চাই না, বাই দ্যা ওয়ে।) আপনারে অনেকে বলছেন উইল পাওয়ারের চাইতে বড় কিছু নাই। আপনিও নিজের উইল পাওয়ারের উপর প্রচণ্ড আস্থা নিয়া তিন দিন সিগারেট খাইলেন না। চারদিনের মাথায় বন্ধুদের আড্ডায় একজনের থিকা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ নিয়া লাজুক মুখে কইলেন, ‘একদিন দুই টান দিলে কিছু হয় না!এবং পাঁচদিনের মাথায় উইল পাওয়ারের বংশ নির্বংশ কইরা আবার ‘তখন কী করি, আমি নিরুপায়! তাড়াতে না পারি, বলি আয় আয়ভঙ্গিতে আবার বিড়ির দোকানের কোনায় গিয়া খাড়ান।

খেয়াল করেন, আপনার ব্রেইন কীভাবে কাজ করে। আপনার একটা সচেতন মন এবং একটা অবচেতন মন আছে। আপনার সচেতন মন ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে কাজ করে। এবং আপনার অবচেতন কাজ করে ঘণ্টায় ১০০ হাজার মাইল গতিতে। যতক্ষণে আপনার সচেতন মন আপনারে সিগারেট কেন খাওয়া যাবে না সেই বিষয়ে ব্যখ্যা দেওয়া শুরু করছে, তার আগেই আপনারে আপনার অবচেতন মন একশএকচল্লিশ বারের মত বইলা ফেলছে, ‘খাও খাও খাও! কিচ্ছু হবে না! খাও খাও খাও!এমনকি আপনার অবচেতন মন আপনার সচেতন মন কী সিদ্ধান্ত নিবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্ততঃ ৭ সেকেন্ড আগেই হিসাব কইরা ফেলতে সক্ষম।

কেমনে সক্ষম? ওয়েল, এইক্ষেত্রে আপনার ব্রেইনের ফাংশান জানতে হবে। ব্রেইনের এমিগডালা বইলা বড় একটা কাঠবাদাম সাইজের যে অংশ আছে, তা আপনার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে, অপরপক্ষে ফ্রন্টাল লোব হইল আপনার ব্রেইনের যুক্তিবাদী অংশ যা আপনারে কারণ দর্শায়—কী করা উচিত, কী বলা যাবে না ইত্যাদি। আপনি যখন সিগারেট ছাড়তে চান অথচ আপনার সামনে আপনার বন্ধুদের একজন সানগ্লাস কপালে তুইলা ব্যাঁকা ব্যাঁকা হইয়া ধোঁওয়া ছাড়তেছেন, তখন সাথে সাথে আপনার ব্রেইনের এমিগডালা উত্তেজিত হইয়া পরে এবং এমিগডালার উত্তেজনা কমাইতে আপনার ফ্রন্টাল লোব আপনারে সিগারেটের পক্ষে যুক্তি দেওয়া শুরু করে। যেকোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনার এমিগডালারে ঠাণ্ডা রাখতে পারা হইল সবচাইতে প্রধাণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে এক নাম্বার কাজ।

ব্রেইন কম্পিউটারের মত কাজ করে বইলা অনেকে বইলা থাকেন। ব্রেইন কম্পিউটারের মত কাজ করে না। ব্রেইন অংক কষে না। ব্রেইন যা করে তা হইল একের সাথে অন্যের তুলনার মারফত একধরনের মূল্যায়ন করে।

এমিগডালা আগের ঘটনার মূল্যায়ন সাপেক্ষে আপনার নেতিবাচক অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন হইয়া উত্তেজিত হইয়া পড়ে। এমিগডালা এমন একখান অর্গান যা কোনো কিছু ভুলতে পারে না। যে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে। অর্থাৎ এর আগে আপনি সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন এবং আপনার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হইছিল এই ঘটনার সাথে নিকট ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনার তুলনা থিকা আপনি যাতে আবার একই নেতিবাচক অনুভূতি দিয়া আক্রান্ত না হন, তাই এমিগডালা উত্তেজিত হইয়া পড়ে। আপনার বন্ধুর ব্যাঁকা ব্যাঁকা হইয়া ধোঁওয়া ছাড়া দেইখা সেই তথ্য প্রসেস কইরা তার মারফত আপনি কী রিয়্যাকশান দিবেন, তার জন্য আপনি সময় নেন ৩০০ মিলিসেকেন্ড, যেইখানে এমিগডালা সেই তথ্য প্রসেস কইরা বইসা আছে ২০ মিলিসেকেন্ডে।

না, এমিগডালারে কালপ্রিট ভাবার কারণ নাই। সে আপনার ডিফেন্স মেকানিজমের অংশ। সে চায় আপনি ভাল থাকেন এবং চায় আপনি যাতে কোনো প্রকার রাগ, দুঃখ, অভিমান, ভয়, ক্ষোভ, অপমান ইত্যাদির ভিতর দিয়া না যান। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়া অনেক সময়ে সে আপনারে নার্ভাসও বানায়ে ফেলে।

ধরেন এমিগডালা সিদ্ধান্ত নিল আপনারে সিগারেট খাওয়া বিষয়ে পজেটিভ তথ্য দিবে, এখন সে তার সেন্ট্রাল নিউক্লিয়াসের মারফত ব্রেইনস্টেমে সংকেত পাঠাইল। তাতে আপনার হাইপোথ্যালামাস গিয়া সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমরে উত্তেজিত কইরা আপনার রক্তচাপ এবং হৃৎস্পন্দন বাড়ায়ে ফেলবে। এবং তাতে আপনার ফেশিয়াল নার্ভে ইমপালস চইলা যাবে, আপনি ফিল করবেন সিগারেটের দিকে হাত বাড়াইতে গিয়া আপনার কান গরম হইয়া যাইতেছে, আপনি একটু অস্বস্তি বোধ করতেছেন বা একটু ঘামতেছেনও। একই সাথে এমিগডালা মারফত নরপিনেফ্রিন, ডোপামিন, সেরেটনিন, এসেটিলকোলিন ইত্যাদি হরমোন ক্ষরণের পরিমাণের উপর নির্ভর কইরা আপনার লজ্জার, ভালোলাগার অনুভূতি বাড়বে বা কমবে। এবং ততক্ষণে আপনি বন্ধুর হাত থিকা সিগারেট নিয়া কিছুটা গিলটি ফিলিং এর সাথে লম্বা একটা টানও দিয়া ফেলবেন।

এনএলপি মারফত আপনি এমিগডালারে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে পারেন। আপনার ব্রেইনের যুক্তিবাদী যেই ফন্ট্রাল লোবের কথা একটু আগে বলছি, তা ব্যেসাল গ্যাংগলিয়াতে ইমপালস পাঠানোর মাধ্যমে এমিগডালারে শান্ত করতে পারে। এবং আপনি এই ফন্ট্রাল লোবরে একটু কষ্ট করলেই নিজের অধীনে আনতে পারেন।

কীভাবে?

আমার বাপ মায়ের ঝগড়ায় ফেরত যাই। গত ৪০ বছরের একই ঝগড়ায় আপনি বিরক্ত। এমিগডালা এই ঝগড়া শুরু হওয়ার আগেই আপনারে বিরক্তি থিকা বাঁচাইতে নিজে উত্তেজিত হইয়া পড়ছে। তার উত্তেজনার কারণে আপনি হইছেন নার্ভাস। এবং সেই নার্ভাসনেসের কারণে আপনি ঝগড়ায় ঢুকবেন না এমন সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়া থাকলেও অসচেতনভাবে এমন একটা কথা বইলা ফেলছেন যাতে ঝগড়াটা আরো লম্বা হয়ে যাইতেছে। এক্ষেত্রে আপনার কাজ হইলো ঝগড়া শুরু হইতে যাবে এমন মূহুর্তে নিজেরে ঘটনা থিকা বিচ্ছিন্ন কইরা ফেলা যাতে এমিগডালা ঐ ঝগড়ার স্মৃতি নিয়া উত্তেজিত না হইতে পারে। আপনি ভাবা শুরু করেন রাগলে আপনার পার্টনারের মুখ কেমন কোলা ব্যাঙের মত দেখায়। তখন এমিগডালাও কোলা ব্যাঙের স্মৃতি মনে কইরা ঠাণ্ডা থাকবে। আপনিও সচেতনভাবে ঝগড়া এড়াইয়া যাইতে পারবেন।

অনুভূতি বিজ্ঞানী ড. পল একমেন বলছেন, “আপনার কোনো অনুভূতিই আপনার নিজের ইচ্ছায় ঘটে না। আপনার লিম্বিক সিস্টেম ঠিক করে আপনি কোন্‌ অনুভূতি অনুভব করবেন।আমরা মানুষরা সুপার ইনটেলিজেন্ট প্রাণী হওয়াতে বাঁইচা গেছি। আমাদের ফ্রন্টাল লোব তথা প্রি-ফ্রন্টাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আছে, যা অন্য প্রাণীদের পক্ষে সম্ভব না।

আগের ঘটনায় ফেরত যাই, যেইখানে আপনি চাকরি হারানোর ভয় করতেছেন। আপনি পাশের বিল্ডিং এ লোক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখছেন, এবং ভাবতেছেন চাকরি চইলা গেলে আপনি নতুন জায়গায় অ্যাপ্লাই করবেন। কিন্তু এই ভাবনার সাথে সাথে এমিগডালা মারফত নিজের ভয় টের পাইতেছেন কারণ আপনার এমিগডালা আপনারে জানায়ে দিছে আপনি ইংরেজিতে কথা কইতে পারদর্শী না এবং গত পাঁচ বছর একই চাকরিতে থাকার কারণে নতুন জব মার্কেট সম্পর্কেও আপনি বিশেষ জানেন না। আপনি আশঙ্কা করতেছেন নতুন চাকরির ইন্টারভিউয়ে গেলেই আপনারে লজ্জিত এবং অপমানিত হইতে হবে। এই লজ্জা ও অপমানের ভয় থিকা নিজেরে বাঁচানোর জন্য আপনি নিজেরে সান্তনা দিতেছেন এই বইলা যে, “নাহ, আমার আগের চাকরি যাবে না। বস অনৈতিকভাবে ঝাড়ি দিলেও আমি তা মাইনা নিব। আমার অন্য কোথাও অ্যাপ্লাই করার প্রয়োজন নাই।

খেয়াল কইরা দেখেন, আপনি নিজেরে এক সম্ভাব্য লজ্জার হাত থিকা বাঁচাইতে গিয়া আরেক অবশ্যম্ভাবী বিশাল লজ্জার সম্মুখীন হইতেছেন, কিন্তু নিজেও সেই সম্পর্কে সচেতন না। এই ঘটনা বাংলাদেশের বিবাহিত মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য। ডিভোর্স দিলে অন্য লোকে কী বলবেন সেই অপমানের হাত থিকা বাঁচতে আপনি নিজের স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি মারফত অপমানিত হইতে আপত্তি করেন না।

এনএলপি বলতেছে, যেই মূহুর্তে এমিগডালা আপনারে দিয়া ইংরেজী না বলতে পারার অক্ষমতার কথা ভাবাইতেছে, সাথে সাথে সচেতনভাবে আপনি নিজের শক্তিশালী দিকগুলি ভাবা শুরু করেন। আপনি কী কী পারেন? , ইংরেজী পারেন না ভাল, কিন্তু সেইটা তো চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিচারের একমাত্র মাপকাঠি না। আপনার প্রেজেন্টেশান স্কিল ভাল, আপনি টিম ওয়ার্কে ভাল এবং আপনি ক্রিয়েটিভ। এনএলপির এই টেকনিকের নাম ডিসোসিয়েশান টেকনিকবা পৃথকীকরণ পদ্ধতি। অর্থাৎ ব্রেইনরে নিজের সম্পর্কে নেগেটিভ ভাবনা থিকা পৃথক কইরা তারে দিয়া জোর কইরা পজেটিভ জিনিস ভাবাইয়া ঐ পরিস্থিতি থিকা নিজেরে বাইর কইরা আনা।

কনফিডেন্স বাড়ানোর আরেকটা প্র্যাকটিস হইতেছে ভিজুয়াল সেফটি অ্যাংকরিং টেকনিক। এই পদ্ধতির মাধ্যমে যেই মুহূর্তে আপনি আপনার কমফোর্ট জোনের বাইরে আছেন, যেমন ইন্টারভিউ বোর্ড বা যেইখানে আপনারে প্রেজেন্টেশান দিতে হবে বা অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে হবে, সেইখানে যাওয়ার আগে নিজের কমফোর্ট জোনে বইসা আপনি নিজের একটা ইমোশনাল বেইজতৈরি কইরা নিবেন। যেমন, আগামী মাসে আপনার ইন্টারভিউ। এই এক মাস আপনি নিজের ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়া প্রেজেন্টেশান দেওয়া প্র্যাকটিস করার সময় ডান হাত দিয়া বাম হাতের ঘড়ি বা ব্রেসলেট স্পর্শ করবেন। এবং তার সাথে সাথে আনন্দের কোনো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করবেন। এরপর যেকোনো সময় এমনকি যখন আপনি আপনার কমফোর্ট জোনের বাইরে, তখন যতবার আপনি ডান হাত দিয়া বাম হাতের ঘড়ি বা ব্রেসলেট স্পর্শ করবেন ততবার আপনার ব্রেইন ঐ পুরানা আনন্দের স্মৃতিতে ফেরত গিয়া আপনার এমিগডালারে অতিরিক্ত চিন্তা থিকা উত্তেজিত হওয়ার হাত থিকা রক্ষা করবে। ফলে এমিগডালা আপনারে নার্ভাস বানানোর সুযোগ পাবে না।

মজার ব্যাপার হইতেছে, এই ডান হাত বাম হাতও আপনার বেশিদিন করার প্রয়োজন নাই। একবার ইন্টারভিউ সফল হইলে আপনি ঐ সফল ইন্টারভিউরেই আপনার ইমোশনাল বেইজ হিসাবে পরবর্তীতে ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ একবার কনফিডেন্স হারাইলে আপনি যেমন পরবর্তী প্রত্যেকবার একই ঘটনায় কনফিডেন্স হারান, তেমনি আপনার ব্রেইনের কাছে একটা কনফিডেন্সের উদাহরণ থাকলে পরবর্তী প্রত্যেক একই ধরনের ঘটনায় আপনার কনফিডেন্স বাড়বে।

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের একটা প্রধান সমস্যা হইলো যোগাযোগ বা নিজের কথা আরেকজনরে বুঝাইতে না পারা। ধরেন আপনি খুব নির্বিরোধী ভাল মানুষ, কিন্তু আপনার বস আপনারে কোনো কারণ ছাড়াই দেখতে পারেন না। ধরেন আপনার বসও নিজে এমনিতে ভাল লোক, সবার সাথে মধুর কইরা হাইসা কথা কন, কিন্তু আপনারে দেখলেই উনার মেজাজ খারাপ হইয়া শ্রীকাকেশ্বর কুচকুচের মত মুখ হইয়া যায়।

আপনি হয়ত ভাবতেছেন দোষটা আপনার। হয়ত আপনার পোশাক উনার পছন্দ না, বা আসলেই হয়ত আপনার কাজে কোনো গোলমাল আছে। আপনি ভাবতেছেন নিশ্চই আপনার কথা আপনি উনারে বুঝায়ে কইতে পারেন না। ঘটনা আসলে তা না। সম্ভবতঃ আপনার বসের আপনার চেহারা বা কথা বা গলার স্বরের সাথে এমন কিছু নেগেটিভ স্মৃতি জড়িত, যেই কারণে আপনারে দেখলেই উনার এমিগডালা উনারে সতর্ক কইরা দেয়, ফলে উনি কারণ ছাড়াই আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।

এখন উনার এমিগডালারে গিয়া তো আপনি চটকানা দিয়া আসতে পারবেন না, আপনি যেইটা করতে পারবেন সেইটা হইলো নিজের এমিগডালারে আপনার বস সংক্রান্ত খারাপ লাগার জায়গা থিকা বাইর কইরা নিয়া আসা। সেইটা সম্ভব মিররিং টেকনিকদিয়া। মিরর অর্থ আয়না। আপনি বস সামনে আসলে খুব সূক্ষ্মভাবে উনারে নকল করা শুরু করেন। উনার দাঁড়ানোর ভঙ্গি, বা গলার স্বর, বা উনার কোনো মুদ্রাদোষ যেমন কথার মাঝখানে একটু কইরা কাশা, বা একটু পর পর চশমা ঠিক করা ইত্যাদি। এর মাধ্যমে উনার অবচেতন আপনার মধ্যে নেগেটিভ জায়গা দেখার বদলে আয়না দেখতেছে বইলা ভুল করবে এবং উনার ব্রেইন আপনার সম্পর্কে প্রাথমিক নেতিবাচক ধারণা সরায়ে ফেলবে এবং উনি নিজেও আপনার সাথে ভাল ব্যবহার শুরু করবেন।

মিররিং টেকনিক সেলসম্যানদের জন্য খুব কাজের জিনিস। আপনি আপনার সম্ভাব্য নতুন কাস্টমারের সাথে রাপোতৈরি করার জন্য কাস্টমারের ভঙ্গি নকল করবেন, সুতরাং কাস্টমার আপনারে নিজের খুব আপন লোক ভাবতে বাধ্য হবেন। আর কাস্টমার যখন আপনারে আপনবইলা ভাবতেছেন, তখন আপনি যদি একটু আহ্লাদীর সুরে না আপু এই লিপস্টিকটা আপনাকে নিতেই হবে!বলেন, কাস্টমার সচেতন ভাবে লিপস্টিক কিনবেন না বইলা প্রতিজ্ঞা কইরা বাসা থিকা বাইর হইয়া আসলেও তিন কেজি লিপস্টিক নিয়া বাড়ি ফেরত যাবেন এবং বাড়ি গিয়া নিজের এমিগডালারে এবং আপনারে গালি দিবেন। তা বাড়ি গিয়া কাস্টমারের মনে মনে দেওয়া গালিতে আপনার ৪০% কমিশন তো নাইমা যাবে না, নাকি?

এনএলপি’র এইরকম আরো প্রচুর টেকনিক আছে। কিন্তু এই টেকনিকটা আমার নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের টেকনিক এবং আমি বহুবছর আমার মার মতই না জাইনা এইটা প্র্যাকটিস করছি নিজের লাইফে। এই জিনিসের নাম কোভার্ট হিপনোটিক পারসুয়েশান টেকনিক। ধরেন আপনি রাত দশটায় অফিস থিকা বাড়ি ফিরতেছেন। একটু আগে বৃষ্টি হইছে। রাস্তা খালি। আপনি খেয়াল করলেন একটু সামনে ল্যাম্পপোস্টের তলায় একটা ছেলে দাঁড়ায়া আছেন। আপনার কাছে তার মতলব সুবিধার মনে হইতেছে না। আপনি কী করবেন? দৌড় দিবেন উল্টাদিকে? চিৎকার দিয়া কাউরে ডাকবেন? অন্য রাস্তা খোঁজা শুরু করবেন? ফোন কইরা কাউরে আসতে বলবেন?

আমি হইলে কী করব বলি। আমি কনফিডেন্সের সাথে উনার দিকে আগাইয়া যাব। বলব, “ভাইয়া, আমার খুব ভয় লাগতেছে। পুরা রাস্তা খালি দেখতেছেন তো? আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনাকে বিশ্বাস করা যায়। আমাকে একটু বাড়ি আগায়ে দিবেন প্লিজ?” এখন আপনার উনার কাছে সাহায্য চাওয়াতেই উনার যদি আসলেই আপনারে ধর্ষণ বা ছিনতাইয়ের ইচ্ছা থাকে তা চইলা যাবে। এই ঘটনা আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত্য অঞ্চলে গিয়া প্র্যাকটিস কইরা আসছি। যেই হুজুর আমার শর্টস এবং ট্যাং টপ দেইখাই আমারে দোররা মারতে রেডি, আমি উনারে গিয়া বলছি, “চাচা, দেখেন তো আমি তো বেশি কাপড় আনি নাই, এই কাপড়ে আপনাদের এলাকায় আমার ঝামেলা হবে নাকি?” তখন উনিই আমারে আম্মা আম্মাজী ইত্যাদি ডাইকা আমারে নিজ দায়িত্বে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছেন। এলাকার মাস্তানরা, এলাকার মসজিদের ইমামরা নিজেদের এলাকার মুরুব্বী বইলা মনে করেন। যেই মাস্তান আপনারে দেখলেই শিষ বাজান, আপনি গিয়া উনারে বলেন উনি আসার পর থিকা কেমন মেয়েদের উপর অত্যাচার কইমা গেছে, দেখবেন এরপর দিন থিকা উনি নিজ দায়িত্বে বাকি মাস্তানদের শাসনে রাখছেন যাতে এলাকার মেয়েদের কেউ ডিসটার্ব না করেন। আমি নারীবাদী সন্দেহ নাই, কিন্তু আমি জানি পুরুষেরা নিজেদের মেয়েদের অভিভাবক ভাবতে ভালোবাসেন। ডিফিকাল্ট সিচুয়েশানে তাই আমার পুরুষরে এই আপাতঃ ক্ষমতা দিয়া ঝামেলাহীনভাবে পরিস্থিতি থিকা বাইর হইয়া আসতে একটুও আত্মসম্মানে লাগে না।

 – – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –

বি জ্ঞা প ন

ডিসেম্বরের মধ্যে আসছে নাদিয়া ইসলামের প্রথম উপন্যাস

রকি রোড সানডে


বই কেনায় আগ্রহীরা ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত থাকুন!
fb.com/groups/nadiaislam.book1/

বহিঃপ্রকাশ

– – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –  – – – – – – – – – –

কোভার্ট হিপনোটিক পারসুয়েশানমূলতঃ একজনরে তার দায়িত্ব সম্পর্কে হিপনোটিক সাজেশ্চান দিয়া প্ররোচিত কইরা আপনার নিজের কাজ করায়ে নেওয়া। এই টেকনিক পোলিস অফিসার, সরকারী কর্মচারী, গুণ্ডা, মাস্তান, ছিনতাইকারী সবার জন্য প্রযোজ্য। একজন পোলিস অফিসার যতই অসৎ হোন না কেন, আপনি তার কাছে গিয়া সাহায্য চাইলে তিনি আপনারে ঘুষের কথা বলতে পারবেন না। খেয়াল রাখবেন, আপনি যখন কারো কাছে সাহায্য চাইতেছেন, তখন আপনি তার থিকা নিচু হইয়া সাহায্য চাইতেছেন। তাই তখন তার পক্ষে আপনার সাথে দুই নাম্বারি তিন নাম্বারি কইরা নিজের দুর্বলতার কথা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। তার এমিগডালার কারণে। হাহা।

পোলিস অফিসার প্রসঙ্গে এনএলপি ব্যবহারের একটা গল্পের কথা মনে পড়লো। আমেরিকান এক ভদ্রলোক একদিন বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাইতেছেন। নিউ ইয়র্কের রাস্তা। উনি গাড়ি চালাইতে চালাইতে বারবার ঘড়ি দেখতেছেন। বান্ধবীর এক মাসের জন্য অন্য আরেক স্টেটে যাওয়ার কথা। উনার সাথে দেখা কইরাই বান্ধবী এয়ারপোর্টের জন্য বাইর হইয়া যাবেন। এদিকে রাস্তায় ভয়ংকর ট্রাফিক। সিগন্যালের লাল বাতিতে উনি দাঁড়ায়ে আছেন তো আছেনই। এরমধ্যে মোবাইল ফোনে বার বার বান্ধবীর টেক্সট আসতেছে, কখন পৌঁছাবেন এই নিয়া একশ’ একবার তাড়া দিতেছেন, ভদ্রলোক সিদ্ধান্ত নিলেন উনি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করবেন। রাস্তায় তখন কোনো ট্রাফিক পোলিসরে দেখা যাইতেছে না। উনি এদিক ওদিক দেইখা দ্রুত লাল বাতি উপেক্ষা কইরা স্পিড বাড়াইয়া চ্যাঁও কইরা আরেক লেইনে ঢুইকা পড়লেন। কিন্তু বিধি বাম! একটু পরেই পিছনে পোঁ পোঁ পোঁ পোঁ করতে করতে একটা পোলিস কাররে ছুইটা আসতে দেখা গেলো। ভদ্রলোক বিরস মুখে রাস্তার এক পাশে গাড়ি থামাইলেন। দেখলেন ভয়ংকর চেহারার এক বিশালদেহী পোলিস অফিসার হাতে টিকেট বই নিয়া আগাইয়া আসতেছেন। ভদ্রলোক ভাবলেন, কাম সাইচ্চে! আজকে টিকেট তো খাইবেন, খাইবেনই, উপরন্তু বান্ধবীর সাথেও দেখা হবে না! অফিসার আইসা ভদ্রলোকের জানালার পাশে দাঁড়াইলেন। কিন্তু উনি কিছু বলার আগেই ভদ্রলোক উত্তেজিত স্বরে বইলা উঠলেন, “অফিসার, আমি খুব বিপদে পড়ছি। গাড়ির গ্যাস প্রায় শেষ। এইখানে গ্যাস স্টেশান কই বলতে পারেন?”

অফিসার এই কথায় একটু চমকাইলেন। এই প্রথম উনি ভদ্রলোকের দিকে তাকাইলেন। একটু বিব্রত হাইসা বললেন, “ফুলটন স্ট্রিটে একটা ছিল, ওরা বন্ধ হয়ে গেছে। এর আশেপাশে অন্য কোথাও আছে কীনা আমি শিওর না। দাঁড়ান, আমি দেখছি!” এরপর উনি ভেস্টে ঝুলানো ওয়াকিটকি দিয়া আরেক অফিসারের সাথে কথা কইয়া জানাইলেন, “নোস্ট্র্যান্ড এভেনু ধরে যান। পঞ্চাশ গজ গেলে হাতের ডানে লেফায়েট এভেনু পাবেন। ঐ রাস্তার শেষ মাথায় আছে!”

ভদ্রলোক “থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ অফিসার” বইলা হাসতে হাসতে সাঁইইইইইই কইরা গাড়ি নিয়া বাইর হইয়া গেলেন। বান্ধবীরে ফোনে কইলেন, “আসতেছি বেবি!”

পড়ুন:  নাদিয়া ইসলামের আরো লেখা

এনএলপির এই টেকনিকের নাম ‘হায়ারার্কি অফ ক্রাইটেরিয়া’। একজন পোলিস অফিসারের সামনে যখন দুইটা দায়িত্ব উপস্থাপন করা হইল, তখন উনি ট্রাফিক রুল ভাঙার অপরাধে একজনরে টিকেট দেওয়ার চাইতে একজন সৎ দায়িত্ববান অফিসার হিসাবে উনারে মানবিক সাহায্য করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন। অর্থাৎ আপনি যখন দেখতে পাইতেছেন শাস্তি এড়ানোর আপনার রাস্তা নাই, তখন আপনি শাস্তিদাতারে আরো একটা কাজের মধ্যে ফেলায়ে তার এমিগডালারে কনফিউজ কইরা শাস্তি এড়াইয়া যাইতে পারেন।          

আমি এনএলপি সম্পর্কে জানছি গতকাল রাতে। এবং সেই থিকাই আমি এই নিয়া বেশ উত্তেজিত অবস্থায় আছি। মানে এমিগডালার উত্তেজনা না, সচেতনভাবে প্রি-ফ্রন্টাল এলাকা মারফত উত্তেজনা। ভাবতেছি এই নিয়া একটা কোর্স কইরা ফেলব কীনা। আপনারাও কইরা দেখতে পারেন এবং এমিগডালার সংক্রামণমুক্ত ব্রেইনের মালিক হইলেন! তবে সবাই যেন এই বস্তু শিখা না ফেলেন সেইটাও খেয়াল রাইখেন। নাইলে কার উপর গিয়া আপনার এই মহান বিদ্যা প্রয়োগ করবেন, কন?

 

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

নাদিয়া ইসলাম
নাদিয়া ইসলাম

ফ্যাশন ডিজাইনার। লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটির ফরেনসিক সাইন্স থেকে পাশ করে এখন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসাবে কাজ করেন। ২০০৭ থেকে ইংল্যান্ডে আছেন। এর আগে বাংলাদেশে বসবাস করেছেন। জন্ম লিবিয়ার সির্তে। মিছুরাতায় থাকতেন। ১১ বছর বয়সে লিবিয়া ত্যাগ করেন।

Leave a Reply