page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

কাজের পরিকল্পনার কথা অন্যদের জানানো উচিত নয় যে কারণে

কোনো একটা সমস্যার অসাধারণ সমাধান বের করেছেন কিংবা হঠাৎ গ্রহণ করেছেন দারুণ কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? এবং বন্ধুদের সে সম্পর্কে জানাতে যাচ্ছেন?

এখনই নয়, একটু অপেক্ষা করুন।

আমরা সাধারণত কোনো একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করার পর আমাদের বন্ধুদের তা জানাতে চাই যেন তারা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ দিতে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে।

এমনকি কাছের মানুষদের নিজের কাজের পূর্বপরিকল্পনা জানানো—এই গুণটিকে যোগাযোগ বাড়ানোর উপায় ধরা হয়।

আকর্ষণের নিয়ম অনুসারে, যা চাই তা ইতোমধ্যে নিজের আছে বলে ঘোষণা করা—তাহলে প্রাপ্তি সুনিশ্চিত, তাই নয় কি?

কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা।

১৯৩৩ সালে জার্মান মনোবিজ্ঞানী ওয়েরা মাহলার পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জোরেশোরে প্রচার করে বেড়ায়, সত্যিকার অর্থে পরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ দেয়ার জন্যে পরিশ্রম করার প্রবণতা তাদের খুবই কম।

গবেষণায় মানব মস্তিষ্ক সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেখা গেছে, মানুষ যখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা করণীয় নিয়ে অন্য কারো সাথে আলোচনা করে তাদের উদ্যোগের জন্যে প্রশংসিত হয়, তখন তাদের মস্তিষ্কে যে অনুভূতি তৈরি হয় তা কাজটি বাস্তবে করতে পারার পরবর্তী আত্মতৃপ্তির সমান! কথায় সন্তুষ্ট মস্তিষ্ক তখন পরিকল্পনাটি বাস্তবে পরিণত করার জন্যে প্রয়োজনীয় পরিশ্রম করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সামাজিক মনোবিজ্ঞানের জনক কার্ট লিওইন মস্তিষ্কের এই অবস্থার নাম দিয়েছেন ‘মানসিক বাস্তবতা’।

বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গোপন রাখে, সাধারণত তারাই তা বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্যে পরিশ্রম করতে সচেষ্ট থাকে এবং বাস্তব রূপ দিতে পারে।

অন্য দিকে যারা কোনো একটি কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করে বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সাথে তা আলোচনা করে, তাদের মধ্যে কাজটি বাস্তবে করার আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

তাহলে এই মিথ্যে আত্মতৃপ্তির অনুভূতি এড়ানোর উপায় কী?

নিজের পরিকল্পনা পুরোপুরি গোপন রাখার ব্যাপারটা প্রথম প্রথম কিছুটা অস্বাভাবিক ঠেকতে পারে। কিন্তু আপনি অন্তত একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

পরিকল্পনার কথা যদি কোনো বন্ধুকে জানাতেই হয় তবে কণ্ঠস্বরে সন্তুষ্টি নিয়ে নয় বরং এখনো লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারার অসন্তুষ্টি নিয়েই তা জানান। তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে পরিশ্রম করার ইচ্ছে তখনো বজায় থাকবে আপনার।

About Author

ফারাহ্ মাহমুদ

জন্ম. ১৯৯৫। অর্থনীতি বিভাগ, বিইউপি, ঢাকা। প্রকাশিত বই: ডানা ভাঙা পাখি (২০১৩)