“আমার মনে হয় কুমিরটা ভেবেছিল আমি বড়সড় কোনো মুরগীর বাচ্চা।” – জুলিয়ানা ওসা

১০ বছরের সাহসী মেয়ে জুলিয়ানা ওসা খালি হাতেই নিজেকে মুক্ত করল প্রায় ৯ ফুট লম্বা বিশালাকৃতির কুমিরের মুখ থেকে।

অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডো মস পার্কে। কুমির যখন আক্রমণ করে, জুলিয়ানা তখন পার্কের অগভীর পানিতে সাঁতার কাটছিল।

পা ছাড়ানোর জন্য প্রথমে সে কুমিরটিকে আঘাত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না। জুলিয়ানা তখন অদ্ভুত এক কৌশলে  নিজেকে মুক্ত করে।

“আমি সাঁতার কাটছিলাম। তখন শয়তান কুমিরটা আমার পা কামড়ে ধরে,” জুলিয়ানা বলে। “পা ছাড়ানোর জন্য আমি কুমিরটাকে আঘাত করছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছিল না।”

জুলিয়ানা তখন ২ ফুট গভীর পানিতে সাঁতার কাটছিল। জুলিয়ানার সাথে তার পরিবারের আরো ৪ জন ছিল। ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের কুমিরটি তার হাঁটু ও তার নিচের অংশ কামড়ে ধরেছিল।

আমেরিকার ফ্লোরিডায় জুলিয়ানাকে আক্রমণ করা ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা সেই কুমিরটি।

জুলিয়ানা প্রথমে কুমিরের নাকে ঘুষি মারে। তারপর কুমিরের নাকে তার আঙুল ঢুকিয়ে দেয় সে। এই কৌশল জুলিয়ানা শিখেছিল গ্যাটরল্যান্ড-এর কুমির পার্ক থেকে।

“এটা আমি গ্যাটরল্যান্ড থেকে শিখেছিলাম। কুমিরটার নাকের ভিতর আমি আমার আঙুল ঢুকিয়ে দিলাম। কুমিরটা শ্বাস নিতে পারছিল না। ফলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার জন্য হা করে মুখ খুলল। আর তখনই সে আমার পা ছেড়ে দিল,” জুলিয়ানা বলতে থাকে। “কুমিরটা কিছুই করতে পারে নি। কারণ তার মুখ ব্যস্ত ছিল আমাকে কামড়াতে আর তার থাবাগুলি ব্যস্ত ছিল বালুতে। আমার আঙুল সরানোর কোনো উপায় ছিল না কুমিরটার।”

জুলিয়ানা অবশ্য স্বীকার করেছে যে সে ভয় পেয়েছিল: “প্রথমে আমি ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম আমাকে কী করতে হবে।”

গ্যাটরল্যান্ড-এর টিম উইলিয়ামস জুলিয়ানার এই সাহসিকতায় ভীষণ মুগ্ধ। তিনি বলেন, “মাত্র ১০ বছর বয়সে ও যা করেছে সেটা অবিশ্বাস্য!” এমন ঠাণ্ডা মাথা আর আত্মবিশ্বাস অনেক পরিণত মানুষেরও নেই।

আক্রমণের পর জুলিয়ানাকে সাথে সাথেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিজনি ওয়ার্ল্ড থেকে ২৬ মাইলে দূরে অবস্থিত ওরল্যান্ডোর মেরি জেইন লেইক, যেখানে ঘটনাটি ঘটে।

জুলিয়ানার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া ডাক্তার কেভিন ব্রিটো বলেন, “ওর সাহস সত্যি অবাক করার মতো। জুলিয়ানা আমাকে বলেছে, কেউ যদি তোমাকে আক্রমণ করে, তোমাকেও পাল্টা আক্রমণ করতে হবে।”

জুলিয়ানার পায়ে অন্তত ৭টি ক্ষত পাওয়া গেছে। হাঁটুর সামনে এবং পিছনে বেশ কিছু বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা একজন লাইফগার্ড বলেন, হঠাৎ করেই তিনি জুলিয়ানার চিৎকার শুনতে পান। এরপর জুলিয়ানাকে তিনি পানির মধ্যে লাফালাফি ও দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেন।

ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন কমিশনের রিপোর্টে পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয় যে জুলিয়ানা কুমিরটিকে মুখ খুলতে বাধ্য করে তার কামড় থেকে নিজের পা বের করে আনে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জুলিয়ানাকে নেমোরস চিলড্রেন’স হসপিটালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার আগ পর্যন্ত তার আহত পায়ের যত্ন নেন লাইফগার্ডরা।

জুলিয়ানার পায়ে মোট ১৪ টি সেলাই লাগে।

পরিবারের সঙ্গে জুলিয়ানা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জুলিয়ানাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে এখন বাসায় আছে। পরিবারের যত্নে সে একটু একটু করে সেরে উঠছে।

এক সাক্ষাৎকারে জুলিয়ানা পুরো ঘটনার বর্ণনা করে: “আমার মনে হয় কুমিরটা ভেবেছিল আমি বড়সড় কোনো মুরগীর বাচ্চা।”

ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন কমিশনের রীতি অনুযায়ী কুমিরটিকে ঘটনার পর ধরে মেরে ফেলা হয়। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সৈকতে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হয়।

আরো পড়ুন: ১০ বছর বয়সী ক্যালে জারম্যাক হাঙরের কামড় খেয়েও তীরে না উঠে বন্ধুকে বাঁচালো

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে সাঁতার কাটার জায়গাটিতে কুমির ও অন্যান্য বন্য প্রাণী সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নির্দেশনা ছিল।

ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ থেকে এ পর্যন্ত ফ্লোরিডায় মোট ৩৮৮টি এমন কুমিরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৪ জন কুমিরের আক্রমণে মারাও গেছেন।

পার্কের কর্মকর্তারা বলেন, কুমির আক্রমণের ঘটনা এখানে নতুন নয়। সর্বশেষ আক্রমণের ঘটনাটি ঘটে ৬ বছর আগে।