page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

গালা

আমার জীবনের খুব মজার একটা সময় গেছে গালায়। গালা হচ্ছে সালভাদর দালির বউয়ের নাম। এর বাইরেও, গালা শব্দটার একটা বৃহৎ ব্যাপার আছে, তার সবটা আমি জানিও না, আমার জানামতে, গালা নিয়া ভালো বলতে পারবেন কেফায়েত ভাই।

কেফায়েত ভাইয়ের ব্যাপারে আসতেছি, তার আগে গালা সম্পর্কে বলি। আমাদের যেই গালা নিয়া এই লেখা, তার সম্পর্কে নিশ্চয় আগে বড় করে কখনোও বলা হয় নাই।

saad rahman logo

গালা একটা অফিস, অফিসটার নাম গালা—অ্যাড ফার্ম। এই অফিসে তিনটা রুম, পরবর্তীতে এই তিনটা রুম চারটা রুম হয়ে গেছিল। একটা রুমে অনেক রঙের কৌটা ছিল। ক্যানভাস ছিল, অনেক তুলি ছিল, ওইখানে কেফায়েত ভাই সহ অন্যরা ছবি আঁকতেন। ক্যালিগ্রাফিই বেশি আঁকা হইত। আর আঁকা হইত মিনিয়েচার। আমিও কয়েকটা মিনিয়েচার আঁকছিলাম।

বেশ কিছু মিনিয়েচার জমছিল আমাদের কাছে। আমাদের কাছে বলতে সবার সবার কাছে, কিন্তু এইসব মিনিয়েচার আঁকা হইছিল গালার ওই রঙ করার রুমে। ফ্লোরে বইসা, বা কখনো-সখনো সোফায় বইসাও আমরা এই আঁকাআঁকি চালাইতাম।

গালার অবস্থান ছিল পুরানা পল্টনে। আমার বাসা থিকা হয়ত চল্লিশ টাকা দিয়া তখন আসা যাইত।

কিন্তু রিকশা দিয়া কখনো আসা হইত না। কেন হইত না, সেই কথা খুব কাহিনী কইরা বলা যাবে। ব্যাপারটা ছিল, টাকা। গালার জীবনে, টাকা খুব মধুর-কদুর স্মৃতি তৈরি কইরা দিছিল আমার মস্তিষ্কে।

saad-gala-2

মুনলাইট, মিনিয়েচার, সাদ রহমান। অ্যাক্রেলিক ৭.৬২ x ৫.০৮ সেমি; ১২/১/২০১৫

একদিনের কথা বলি, আমার মেয়ে-সঙ্গ-জীবন তখন শুরু-শুরু হইছে, আমি রাতে ছিলাম মিরপুর। কাজী মেহেদী হাসান, এবং কালপুরুষের সঙ্গে। নেশা টেশা কইরা ঘুমাইতে দেরি হইল, সকালে উইঠা বারিধারায় যাওয়ার কথা ছিল। পকেটে ছিল পনেরো বা বিশ টাকা। আমি মিরপুর হতে গুলশান যাওয়ার বিহঙ্গ বাসে উইঠা নামলাম ওইদিকে কোথাও, বাসেই পকেটের টাকা শেষ হয়ে গেল। লোকেরে জিগায়া জিগায়া বারিধারা গেলাম, ওই মেয়ের খালি বাসায় কিছুক্ষণ কাটায়া পরে, টাকা তার কাছ থিকা না নিয়া না চায়া আবার হাঁটতে হাঁটতে ঘামতে ঘামতে পল্টন আসলাম। বারিধারা হতে পল্টন।

পল্টনেই যেহেতু গালা, তাই তিনমাসের অবরোধের টাইমেও বেশ সমস্যা পোহাইতে হইছিল আমাদের। আমরা খাবার খাইতে যাইতাম নোয়াখালি হোটেলে, অবরোধের দিনগুলাতে আমরা অফিস থিকা নিচে নামতেই ভয় পাইতাম। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখিনও হতে হইত আমাদের কাউকে কাউকে, কখনো কখনো।

নোয়াখালি হোটেলের খাবার ছিল বড় অদ্ভুত। অদ্ভুত না ঠিক, বেশ মজার। আমরা খাইতাম ভর্তা দিয়া। আলু ভর্তা দিয়া, না হয় শিম ভর্তা, টমেটো ভর্তা, ইত্যাদি ইত্যাদি। এর বাইরেও কোনো কোনোদিন খাইতাম বিরানি। তিনমাস অবরোধের টাইম বাদে আমরা ঘন ঘন চা খাইতেও নামতাম। অফিসেও চা খাইতাম। ফিল্টার থিকা যেই গরম পানি বের হইত, মগে, সেই গরম পানির সঙ্গে টি ব্যাগ চুবায়ে।

আমাদের মধ্যে সবচে বেশি চা খাইতেন কেফায়েত ভাই। কম খাইতেন, সাজা ভাই। সাজা ভাই আমারে পিচ্চি বইলা ডাকতেন। আর তানভীর ভাই ছিলেন, উনি কিশোরগঞ্জের মানুষ। আমারে খুব আদর করতেন।

তো, আরেক রুমে প্রথম-প্রথম ছিল অন্ধকার। পরের দিকে বেশ একটা অফিসের পরিবেশ সৃষ্টি হইছিল, গম গম করতে লাগছিল। আমি প্রথমবার যেবার গালাতে গেলাম, রাতে ওইবারের ব্যাপার বিশেষ করে বলার কিছু নাই। দ্বিতীয়বারও গেলাম সন্ধ্যার দিকে। রঙ আঁকা বাদে অন্য যে রুমটি, ওই রুমে বাতি নিভায়ে কেফায়েত ভাই টেবিলের অই প্রান্তে চেয়ারে শুয়ে ছিলেন। আর আমি জানতাম এবং বিশ্বাস করতাম, উনি একজন বড় আর্টিস্ট।

গালার অন্যান্য কয়েকজন সম্পর্কেই আমার জানার কথা বলে রাখি।

সাজা ভাই, উনার সঙ্গে এখন আর আমার আলাপ নাই। কেন নাই, এইটা ভাবতে গেলে বোঝা দুষ্কর হয়। সাজা ভাই আমার সারাজীবনের খুব কাছ হতে দেখা ও কথা বলা একজন মানুষ। তার মুখভর্তি দাড়ি। আমারে একদিন বললেন, তুই সঞ্জীব চৌধুরীর গান শুনছিস?

আমি বললাম, না।

উনি আমারে সঞ্জীব চৌধুরীর প্রায় সব গান দিয়ে দিলেন। আমি সেইসব শুনলাম। বরং শুনতে থাকলাম বলা যায়। এইটা গালার আগেকার কাহিনী।

আমাদের সঙ্গে গালায় অনেক সময় কাটাইছেন শাকির ভাই। উনি এখন বসুন্ধরায় থাকেন। আমি কিছুদিন আগেও গেলাম। দেশের একটা বড় দৈনিক পত্রিকায় তিনি চাকরি করেন। উনি অনেক হিন্দি গান শোনেন।

হিন্দি গান নিয়া ফাঁকে বইলা রাখি, গালায় সবচে বেশি চলত হিন্দি গান। ক্লাসিক ট্লাসিক কি চলত? কিম্বা বাংলা গান? মনে পড়ে না। তবে রবীন্দ্রসঙ্গীত চলত।

তানভীর ভাইয়ের কথা যে বললাম, উনি কিশোরগঞ্জের মানুষ। আমি একদিন বিকালের আগে আগে বাসা থিকা আসছি, বইসা আছি গালায়। তানভীর এবং আরেকজন আবু উবায়দা ভাই, উনারা কিশোরগঞ্জ যাইতেছেন। বের হইতেছেন আর কি, আমিও তাদের সঙ্গে বের হয়ে গেলাম। গালায় থাকতে সময় এই ধরনের কিছু হুটহাট ব্যাপারও ঘটছে।

আমাদের সঙ্গে ছিল কাজী যুবাইর। আমার বন্ধুও লাগে সে। গালাতে কাজীর পোস্ট আমার থিকা বড় ছিল। এবং চাপও ছিল তার বেশি, গ্রাফিক্সের কাজ করত কাজী। আমি ভাবি, তবুও কেন আমি এই সবের ভিতরে থাইকা গ্রাফিক্স ইত্যাদি শিখলাম না।

গালায় গ্রাফিক্সের বহুৎ কাজ হইছে। বই-টইয়ের কাজ, প্রেস কিম্বা কাগজের ধারণা, এইগুলার কোনোটাই আমার আয়ত্ত হয় নাই। কাজীর এইসব ধারণা ছিল। কাজী ব্যক্তিগতভাবে লিটলম্যাগ করবে, সেই গল্পও করত। একবার মনে হয় বলল, আমি আর সে মিলে করব। কিছুদিন আগে কাজীর সেই পত্রিকাটি বাসায় দেখলাম। আমার ছোটভাই যিয়াদ আনছে। পত্রিকাটার নামটা মনে আসতেছে না।

গালায় খাওয়ার পানি খুব দারুণ ছিল। অনেক দিন হাঁইটা বাসা থিকা গিয়া অফিসের ফিল্টার হতে ঠাণ্ডা পানি খাইতাম, বড় কাচের মগে। এই মগে চাও খাওয়া হইত। স্বচ্ছ মগ, স্পষ্ট, অথচ এইগুলা দিয়া বিশেষ বিয়ার বা মদ খাওয়া হইল না। গাঞ্জা নিয়া বেশ হিসাব ছিল গালায়, যেমন গাঞ্জা জিনিসটারে সমষ্টিগতভাবেই গালায় ঘৃণা করা হইত। গালার বিরুদ্ধে অবশ্য অদ্ভুতভাবে গাঞ্জা খাওয়ার অভিযোগ ছিল। হুজুররা করত সেই অভিযোগ।

saad-gala-1

মিনিয়েচার, সাদ রহমান। অ্যাক্রেলিক ৭.৬২ x ৫.০৮ সেমি; ৪/২/২০১৫

আমাদের গালার প্রায় সবাইরেই কওমি মাদ্রাসার ছেলেরা [মেয়েরা] চিনত। আমাদের কেউ কেউ মাদ্রাসায় পড়ছিলেন, সেই সুবাদে। আমারও তাই ঘটনা। বিভিন্ন ইস্যুতে, যেমন কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বিষয়ক ইস্যুতে গালা হইতেই সবচে হট পলিটিক্সটা চলত। এইসব কারণে, কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হইতে শুরু কইরা তলাবা’রা (ছাত্ররা), সবার কাছেই আমরা বেশ একটা বখাইটা পার্টি হিসাবে প্রতিপন্ন ছিলাম। ফলত, মদ-গাঞ্জা-মাগিবাজি, ইত্যাদি ট্যাগ গালার উপরে আসত, আশ্চর্যের ব্যাপার, এইসব ব্যাপারে গালা ছিল কঠোর।

ব্যক্তিগতভাবে, আমি হয়ত তখন থিকাই এইসবে নিজেরে মিলায়া ফেলছি। সে অন্য ব্যাপার। বিশেষ কইরা মাইয়াগো খোঁজা ও দেখা করা ও এই-সেই করা। গালায় আমি মাইয়াদের সঙ্গে চ্যাট করতাম অনেক।

চ্যাট করতাম, ও চ্যাট কইরা কইরা দেখা করতাম, এমন ইগোহীন জীবন গালায় কাটাইছি। ইদানিং তো ওইভাবে নকও করি না। করলেও, করি এস্কপেক্টেশন ছাড়া। হয়ত মাতাল হয়ে কয়েকজকে নক দিলাম। তাদের কারো কারো সঙ্গে কথা আগাইল, এইভাবে।

গালায় অবস্থা ছিল ভিন্ন। প্রচুর চ্যাটে আলাপ কইরা পরে দেখা করতে যাইতাম, কখনো অফতাবনগর, কখনো রেস্টুরেন্টে, মৌচাকের একটা ফাস্টফুডে পর পর দুইদিন দুইটা মেয়ের সঙ্গে দেখা করছিলাম।

বাসার সঙ্গে আমার তখন সবচে কঠিন টাইমটা যাইতেছে। যেমন, এলাকায় ঢুইকাই আমি চোখ ও কান খোলা রাখি। বাপের মুখোমুখি হয়ে যাই কিনা। বাসায় ঢুইকা উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে চইলা যাই। কখনো নির্মাণাধীন ছাদে গিয়া বইসা থাকি। এইসব আর কি।

মায়েরে বইলা বের হই, অফিসে যাইতেছি। সেই অফিস নিয়া অবশ্য উনাদের চিন্তা আরো বাইড়া যায়। আমার বাপ এক পর্যায়ে সাজা ভাইয়ের লগে কোনোভাবে কন্ট্রাক্ট করে।

এই দুইজনের দেখা হয়ে যাওয়ায় বেশ ঝামেলা হয়। আমি না পারি সাজা ভাইয়ের ফ্রেন্ডলি আবদার ফেলতে, না পারি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাসায় যাইতে।

একবার রাত নয়টার দিকে সাজা ভাই আমারে নিয়া বাইর হইলেন অফিস থিকা। অথবা উনি বাইরে থিকা আইসা আমারে নিচে নামতে কইলেন।

আমি নামলাম, উনি আমারে নিয়া গেলেন একটু সামনে। রাস্তার কিনারে আকেটি বড় টাওয়ারের সিঁড়িতে বসলাম আমরা। সাজা ভাই আমারে কিছুক্ষণ বুঝায়া রিকশা ভাড়া দিয়া বাসায় পাঠায় দিলেন। অথচ ওইবার বাসার সাথে আমার চূড়ান্ত ঝামেলা হইছে। আমি রিকশা দিয়া রাগে কষ্টে দুই এক ফোটা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাসায় চইলা গেলাম।

এই রকমের অনেক বিচ্ছিন ঘটনা ও দৃশ্যবর্ণনার ভিতর দিয়া গালার একটা চরিত্র এতক্ষণে ফুইটা উঠল। সেই সঙ্গে আমার সঙ্গে গালার একটা হিসাবও। তথা, গালায় গিয়া আমি সময় কাটাইতে পারতাম। রাতেও থাকতে পারতাম কখনো কখনো।

গালায় আমি কী করতাম, সেইটা অবশ্যে এখনো বলা হইল না। মজার ব্যাপার হইল, গালায় প্রবেশের আগ থিকাই পড়াশুনা ছাড়ছিলাম। গালায় থাকতে টাইমে কেবল কয়েকবার বাটে পড়ছি। একটা হাসির ইমো সহ বলি, পড়ালেখা আমার কাছে শুরুর থিকাই খুবই বিরক্তিকর ঠেকত। তাই আমি খুব কষ্ট কইরা হইলেও সইরা আসছি। আরো কিছু ব্যাপারও আছে, সেইগুলা আপাতত না বলি।

গালায় আমি ধুন্ধুমার ফেসবুকিং করছি। গুগল সার্চিং করছি। কিছু লেখালেখিও করছি। বই পড়ি নাই বিশেষ, পড়ছি হইল অনলাইনে। যেমন কেফায়েত ভাই আর আমি অফিসে বইসা আছি, হঠাৎ কইরা ফ্রান্সের ওলাদের প্রসঙ্গ আসল। তার থিকা আইসা পড়লাম ম্যাক্সিকোর প্রেসিডেন্টের প্রসঙ্গে। ওইখান থিকা ফার্স্ট লেডিতে। ধীরে ধীরে ফার্স্টলেডি সম্পর্কিত ঘটনাদি, ও মজার ফ্যাক্টগুলা। এইগুলা আমি পড়তাম। লিংকও দেওয়া-নেওয়া করতাম।

সাজা ভাইয়ের সঙ্গে অবশ্য অন্যভাবে এইগুলা আগাইত। সেইটা হিস্ট্রি, নির্দিষ্ট কইরা বললে, ইসলামি হিস্ট্রি। একবার মনে আছে, নবী মুসার একটা ঘটনারে কেন্দ্র করে আমরা কথা বলতে বলতে এবং সার্চ করতে করতে একটা হেভি রিচ সাইট পাইয়া ফেললাম। কোলকাতার মুসলমানদের কিনা মনে নাই। আমি তৎক্ষণাৎ অবাক হইলাম। পরে বাসায় গিয়া অবশ্য দিশা পাওয়া গেল। আমার বাপের কিতাবের শেলফের দিকে তাকায়ে, সেইখানে দেখলাম বিভিন্ন তফসির। যেমন, তফসিরে ইবনে কাছীর। বিশাল এক বই, কয়েক খণ্ড। এইগুলা থিকা অনুবাদ কইরা কইরা ইসলামি হিস্ট্রি বিষয়ে ভালোই গড়গড়ানো যাবে চাইলে, অনলাইনে।

আমার আবার এই ধরনের সত্য ও ধর্ম বিশেষতঃ ইতিহাস ভালো লাগে না। কেফায়েত ভাইয়ের সঙ্গে একবার আমি বসছিলাম দুনিয়ার তাবৎ পোপদের নিয়া। তিনি লিস্ট বাইর কইরা একেকজন পোপের একেক চরিত্রের কথা বলতেছিলেন, সেই পোপদের ব্যাপারে আমি বিশেষ ইন্টারেস্ট পাইলাম না। তাদের ছোট টুপি, ও সোসাইটির সালাম লইতে লইতে বিখ্যাত হওয়াটা, আমার ভালো লাগে নাই।

গালায় এইভাবেই চইলা গেছিল সময়। অবশ্য কিছুদিন আগে, নোবেল পাইতে পারেন পোপ ফ্রান্সিসকো—এই খবর শুনে আমি আগ্রহী হয়ে উঠছিলাম। বাট পোপ ফ্রান্সিসকো পাইলেন না। আর, আমারও তো ওই ধরনের গুগলিং করতে থাকা গালা-জীবনের সমাপ্তি হইছে।

গালার বহুমাত্রিক ইচ্ছা-কিচ্ছার কথা ভাবলে এখন কেমন নিঃসঙ্গ লাগে।

saad-gala-3

মিনিয়েচার, সাদ রহমান। অ্যাক্রেলিক ৫.০৮ x ৭.৬২ সেমি; ১১/২/২০১৫

শেষদিকে একবার অফিসের দেনা-ধার শোধরানোর সময় চলতেছে। কেফায়েত ভাইয়ের পকেটে অল্প টাকা। আমার পকেটে তো নাই-ই। আমরা অফিস তালা দিয়া শোঁ কইরা চইলা গেলাম ফকিরাপুলে। ওইখানে রিকশাঅলাদের ভাতের দোকানে। অল্প টাকা দিয়া খুব খাবার খাইলাম। ফেরার সময়ে কেফায়েত ভাই দেখাইলেন, এইটা এই শিল্পীর বাসা, ওইটা ওই শিল্পীর।

গালার একদম শেষদিকে, গালা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো—শেষবারের মতো—ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হইল। তখন অনেকেই অনেক পরিমাণে ছবি আঁকতে থাকলেন। সেই রঙ করার রুমে।

কেফায়েত ভাইরে অনেকবার বললাম, এখনোও বলি, আপনেও আঁকেন। উনি এক দুইটা হরফ আঁইকা ক্ষান্ত দিলেন। অবশ্য তার মাথায় তখন অনেক চিন্তা। গালা ছাইড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই হয়ে গেছে। আমরা পত্রিকা খুলতে যাইতেছি, সেই পত্রিকার নাম, আজ

রমজানের কয়েকদিন গেলে, তারিখ মনে নাই, অফিসের সবাই শিল্পকলার ওই গ্যালারিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চইলা গেছে। সেইদিন প্রদর্শনী শুরু। সবার পরে অফিস তালা দিয়া আমি আর কেফায়েত ভাই যাওয়া ধরলাম। আমরা ফাঁকে একটা চায়ের দোকানের পর্দার ভিতরে ঢুইকা সিগ্রেট ও চা খাইলাম। এরপর আবার যাওয়া ধরলাম। মনে নাই, এরপরে আমি আর কোনোদিন গালার দুই তালার অফিসটাতে গেছি কি না।

গালায় আমি যত দিন ছিলাম, তার বয়স ছয়মাস হইতে পারে। ছয়মাস তো অনেক সময়।

About Author

সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।