গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে ফসলে প্রোটিন কমছে—১৫ কোটি মানুষের অকালমৃত্যুর আশঙ্কা

শেয়ার করুন!

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে যে হারে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়ছে তা উদ্বেগের। এই উদ্বেগের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন এক আশঙ্কা।

দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা এই কার্বন ডাই অক্সাইড ধান এবং গমের মত রবিশস্যগুলিতে যে প্রোটিন থাকে তার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এর কারণে গরীব জনগোষ্ঠী ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ু কমে যাবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বয়সের আগেই তারা মারা যেতে পারে।

গবেষকরা বলছেন তারা এখনো  বুঝতে পারছেন না দ্রুতগতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়লে সেটা কীভাবে ফসলের প্রোটিন এবং অন্যান্য উপাদানের উপর প্রভাব ফেলে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়ার কারণে সম্ভবত ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ১৫০ মিলিয়ন মানুষ মারাত্মকভাবে প্রোটিন বা আমিষের অভাবে ভুগবে।

ফসল বা শস্যের প্রোটিনের উপর গ্লোবাল ওয়ার্মিং কীভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে একটি গবেষণা করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণাটিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার ডাটা বাস্তবে পরীক্ষা করার জন্য শস্য-উদ্ভিদকে খোলা মাঠে বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তখন এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

গরীব জনগোষ্ঠীর মানুষ যথেষ্ট প্রোটিন পাচ্ছে কিনা এবং না পেলে কী হয় এইসব জাতিসংঘের গ্লোবাল ডায়েটারি ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। তাদের ভাষ্যমতে, প্রোটিন ছাড়া শরীরের বৃদ্ধি ঘটে না, সহজেই অসুখ হয় এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল পরিণত বয়সের আগেই মৃত্যু ঘটে।

ফসিল-ফুয়েল পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর বায়ুমনণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড জমা হয়। কার্বন ডাই অক্সাইড জমা হওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে তাপ বাড়ছে। আসছে দিনগুলিতে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হওয়ার পরিমাণ আরো বাড়বে, এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়বে এবং আবহাওয়ার অবস্থা আরো খারাপ হবে।

ধারণা করা হত যে কার্বন ডাই অক্সাইড ফসলে স্টার্চ বা শ্বেতসারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে প্রোটিন কমে যায়। কিন্তু হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা জানিয়েছেন পরীক্ষা করে এই ধারণা বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে শস্য থেকে শুধু আমিষ বা প্রোটিনই কমছে না, প্রধান প্রধান ফসলগুলি থেকে জিংক ও আয়রনও কমছে।

তারা বলেছেন, সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা জানি না কেন এটা হয়। আমরা ব্যাপকভাবে দেখেছি যে এটা হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে শস্য থেকে শুধু আমিষ বা প্রোটিনই কমছে না, প্রধান প্রধান ফসলগুলি থেকে জিংক ও আয়রনও কমছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানুষের মধ্যে মারাত্মকভাবে পুষ্টির অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গবেষকরা হিসাব করেছেন ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত কার্বণ ডাই অক্সাইড এর কারণে প্রোটিন সমৃদ্ধ শস্য কমে বর্তমানের তুলনায় ১৪.৬ শতাংশে নেমে আসবে। আর চালে প্রোটিন কমে দাঁড়াবে ৭.৬ শতাংশ, গমে দাঁড়াবে ৭.৮ শতাংশ ও আলুতে দাঁড়াবে ৬.৪ শতাংশ।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সেই গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কার্বন ডাই অক্সাইড যদি সেভাবে বাড়তে থাকে,  তাহলে ধান, গম এবং অনান্য শস্যে ডায়েটারি প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কমে যাওয়ার ফলে ১৮টি দেশের জনসংখ্যা ৫ শতাংশেরও বেশি কমে যাবে।

সারা বিশ্বে ৭৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ তাদের ডায়েটারি প্রোটিনের দৈনন্দিন চাহিদার জন্য উদ্ভিদজ-প্রোটিনের উপর নির্ভর করে।

ধারণা করা হচ্ছে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিন এমনিতেই পায় না। এবং ধান ও গম প্রধান শস্য হওয়ার কারণে এর প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে।

স্ট্যান্ডার্ড ডায়েটের পরিমাণ অনুযায়ী এক ইন্ডিয়াতেই প্রোটিনের পরিমাণ কমবে ৫.৩ শতাংশ, এর অর্থ হল আনুমানিকভাবে ৫৩ মিলিয়ন মানুষ প্রোটিনের অভাবে পড়বে।

গবেষকরা বলেছেন, এর সমাধান হল কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো, খাবারের অভ্যাসে বৈচিত্র্য আনা, প্রধান শস্য বা রবি শস্যগুলিতে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের প্রভাবে ক্ষতি হয় না এমন ফসল তৈরি করা।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here