ঘুমন্ত অবস্থায় সারা শরীরে হঠাৎ ঝাঁকি—কেন হয়?

শেয়ার করুন!

ঘুমন্ত অবস্থায় ৭০ শতাংশেরও অধিক মানুষ মোচড়ায় অথবা অনিচ্ছাকৃত ঝাঁকি মারে অথবা ভয়ানকভাবে শরীর নাড়ায়।

সজাগ মানুষরা এগুলি দেখে মজা পায়। কিন্তু এর একটা ব্যাখ্যা আছে এবং আপাতদৃষ্টিতে এটি খুবই সাধারণ একটি আচরণ। দুঃখজনকভাবে, কেন আমাদের এই খিঁচুনি সেটা বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কার করতে পারেন নি। তবে কিছু শিক্ষণীয় বৈজ্ঞানিক প্রস্তাবনা তারা সামনে আনতে পেরেছেন।

কিছু বিজ্ঞানীর ধারণা এটা একটা ‘আকস্মিক প্রতিক্রিয়া’ ছাড়া কিছুই না। এগুলি আমাদের নার্ভ-এর ভুল, যখন সেগুলি জাগ্রত থেকে ঘুমানো অবস্থায় স্থানান্তরিত হয় তখন এরকম ঘটে। এর কারণ হলো আমাদের শরীরে কোনো নির্দিষ্ট অন অফ সুইচ নাই যে অন করলে জাগানো যাবে আর অফ করলে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া যাবে। বরং, আমরা ধীরে ধীরে এই দুই অবস্থার মধ্যে স্থানান্তরিত হই।

এই দুই অবস্থা হলো: যখন আমাদের রেটিকিউলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম (যা আমাদের বাহ্যিক কাজের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে) পূর্ণ শক্তিতে থাকে এবং যখন আমাদের ভেন্ট্রো লেটারাল সিস্টেম (যা ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘুমচক্রকে প্রভাবিত করে) দায়িত্বে থাকে। আমরা এই দুই অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থায়ও থাকতে পারি এবং সেখানে দুই অবস্থার মধ্যে ছোটোখাটো দ্বন্দ্ব ঘটতে পারে যাতে আমরা এক অবস্থা অথবা অন্য অবস্থায় পুরোপুরি অভ্যস্ত হই। এই ঘুম-সজাগ দ্বন্দ্বটাই নার্ভ-এর ভুল ঘটায় এবং এই ঝাঁকুনিই সজাগ অবস্থার শেষ প্রতিক্রিয়া।

অন্যদিকে, অন্যেরা ধারণা করেন এটা একটা ‘বিবর্তনবাদী প্রতিক্রিয়া’ যা আমাদের গাছে বসবাস করার সময় থেকে রয়ে গেছে, এবং এই ঝাঁকুনিই আমাদের অধিক শিথিল হয়ে গাছের ডাল থেকে পড়ে যাওয়া আটকায়।

ঘুমানোর সময় অন্যান্য ধরনের খিঁচুনিগুলি ঘুম আসার পূর্ব মুহূর্তে ঝাঁকুনির মত পুরাপুরি এক না। যেমন উপর থেকে পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা তারপর ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠা, যা আসলে ঘুম জগতের একটা উদাহরণ। যেখানে ব্রেইন বাস্তব জীবন এবং ঘুমন্ত অবস্থার মিশ্রণ ঘটা একটা অবস্থার মধ্যে থাকে।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here