পরবর্তী যে ছবিটা আমি করছি, নাম ‘সিক্রেট সুপারস্টার’, এবং আমি এটা চিনে মুক্তি দিতে চাই।

সম্প্রতি দেখা গেল, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ফিল্ম মার্কেটে এক বিশাল ভক্তগোষ্ঠী পেয়েছেন আমির খান। তার সর্বশেষ চারটি ছবির তিনটিই চায়নার বক্স অফিসে হিট হয়েছে। ২০১৬ এর শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া স্পোর্টস ড্রামা দাঙ্গাল চায়নায় হলিউডের বাইরের ছবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে।

আমির খানের দাঙ্গাল চায়নায় টিকিট বিক্রি থেকে ১২৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। দাঙ্গাল ছবির প্রচারের জন্য আমির খান চায়না গিয়েছিলেন, এর আগে তার পিকে ছবি প্রচারের জন্যও আমির খান চায়না গেছেন। চায়নার বাজারে সাফল্য এবং বলিউডে এর অর্থ কী দাঁড়ায় তা নিয়ে রয়টার্সের সাথে কথা বলেছেন আমির খান।

‘দাঙ্গাল’ ছবির দৃশ্য।

প্রশ্ন: আপনি প্রথম কবে বুঝতে পারলেন যে চাইনিজ মার্কেটে সম্ভাবনা আছে?

আমির: যখন থ্রি ইডিয়টস  চায়নায় খুব ভালোবাসা পেল। সেখানে ছবিটা মুক্তি পাওয়ার আগেই, আমি মেসেজ পাচ্ছিলাম যে চায়নার তরুণরা পাইরেট ওয়েবসাইটে ছবিটা দেখেছে। এটা চায়নায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তখন আমি প্রথম বার বুঝতে পারি যে চাইনিজ দর্শক আসলের আমাদের ছবি ভালোবেসেছে। তারপর তারা আমার অন্য ছবিগুলা দেখতে শুরু করে—‘গাজিনি’ ও ‘তারে জামিন পার’—আর আমি এই ব্যাপারে মেসেজ পেতাম।

প্রশ্ন: চায়নায় আপনার সাফল্যের কারণ কী বলে মনে করেন?

আমির: আমি জানি না। এমনকি আমি জানি না ইন্ডিয়াতেও আমার সাফল্যের কারণ কী (হেসে)। আসলে আপনি জানেন না কীসের সাথে মানুষজন নিজেদেরকে কানেক্ট করবে। বড় অর্থে বলতে গেলে, আপনি বলতে পারেন যে আমার ছবির সাথে তারা আবেগের দিক থেকে কানেক্টেড হয়েছে। পিকে মুক্তির সময়ে আমি চায়না গিয়েছিলাম এবং আমি যে ধরনের সাড়া পেয়েছি তাতে আমি আসলেই আপ্লুত হয়েছি।

পিকে-ও চায়নায় ভালো করেছে। এই ছবি চায়নায় ১২০ কোটি রুপি (১৮.৫ মিলিয়ন ডলার) আয় করেছিল, সেটা বেশ ভালোই। তবে দাঙ্গাল একেবারে ছাদ পেরিয়ে গেছে এবং সেটা আমরা আশাও করি নি। আমি আশা করছিলাম মানুষ ছবিটা পছন্দ করবে, কিন্তু আমি আশা করি নি এত দূর যাবে… আমার কাছে মনে হয়েছে চায়নায় দর্শকদের আবেগে যে জিনিস নাড়া দেয় সেই একই জিনিস ইন্ডিয়ার দর্শকদের আবেগে নাড়া দেয়, আর এটাই এখানে কাজ করেছে।

প্রশ্ন: নন-চাইনিজ ছবি মুক্তি দেওয়া নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ আছে, সেটা মাথায় রেখে কি দাঙ্গালের ব্যাপারে আলাদা কিছু করেছেন?

আমির: আমরা আলাদা কিছুই করি নি। আমি যেটা জানি যে চায়নায় তারা পাইরেসির ব্যাপারে খুব কড়া। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্ক্রিনের সংখ্যা নিয়েও তারা বেশ আগ্রাসী ছিল। এটার উপরে আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে আমি খুব অবাক হয়েছি যে তারা সাত হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে ছবিটা মুক্তি দিয়েছে, আমরা ইন্ডিয়াতে যে কয়টা স্ক্রিনে মুক্তি দেই এটা তার দ্বিগুণ।

প্রশ্ন: আপনার পরবর্তী ছবিগুলি নিয়ে চায়নায় আলাদা কিছু করবেন কিনা?

আমির: পরবর্তী যে ছবিটা আমি করছি, নাম ‘সিক্রেট সুপারস্টার’, এবং আমি এটা চায়নায় মুক্তি দিতে চাই। এরপর আমি করছি ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’, সেটা আগামী বছর মুক্তি পাবে। আমি এই দুটি ছবিই ইন্ডিয়ার সাথে একই দিনে চায়নায় মুক্তি দিতে চাই। আর, দীর্ঘ সময়ের কথা বলতে গেলে, ইন্দো-চাইনিজ যৌথ প্রযোজনার একটি ছবিতে আমি কাজ করতে চাই। আমরা যদি এমন কোনো গল্প নিয়ে আসতে পারি যেটাতে দুই দেশের মানুষই থাকবে এবং গল্পটা দুই দেশের দর্শকদেরকেই নাড়া দিবে, তাহলে খুব দারুণ ব্যাপার হবে। তবে সেটা নির্ভর করছে আমরা কীভাবে গল্পটা দাঁড়া করাতে পারি তার উপর এবং অন্যান্য সবকিছুর উপর। এই সম্ভাবনাটা আমি যাচাই করে দেখতে চাই।

প্রশ্ন: চায়নায় বলিউডের অন্য ছবিগুলির সাফল্যের জন্য কী দরকার?

আমির: যে কোনো দর্শক কানেক্ট করতে পারবে এরকম ভালো একটি ছবি বানানো। শেষপর্যন্ত সেটাই গুরুত্ব বহন করে।

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক মার্কেটে ‘দাঙ্গাল’ আর ‘বাহুবলি’র সাফল্য আপনাকে কী বলে?

আমির: বাহুবলি আর দাঙ্গাল জানালা খুলে দিয়েছে। এখন এটা অন্যান্য ফিল্মমেকারদের উপরে নির্ভর করছে যে এমন কিছু বানানো যেটা মানুষকে আকর্ষণ করে। প্রথমত, বাহুবলি লোকাল দর্শকদেরকেও ব্যাপকভাবে টেনেছে। এই দুটি ছবিই প্রথমে নিজের দেশের দর্শকদের সাথে সংযোগ ঘটিয়েছে।

আরো পড়ুন: আমির খানের প্রিয় কয়েকটি বই

কমেন্ট করুন

মন্তব্য