ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলে বিকালে আমরা যেখানে আড্ডা দেই তার পুরনো নাম সাহেব কোয়ার্টার পার্ক। এটা এখন জয়নুল উদ্যান হয়েছে। পার্কের পশ্চিম দিকে জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। সে কারণেই পার্কের নতুন নাম হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান। উদ্যানটা বেশ বড়। কিছু অংশ দুই দিক দিয়ে গেট দেওয়া। যাতে কোনো রিকশা ভ্যান মটর সাইকেল ওই অংশে ঢুকতে না পারে। শহরের কাঁচিঝুলিতে এই পার্কটির অবস্থান। কাচারি ঘাট থেকে নদ ঘেষে  লম্বালম্বি জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা পর্যন্ত দীর্ঘ এই পার্ক। 

এইটুকু জায়গার ভেতরে গাছের ফাঁকে ফাঁকে টাইলস দিয়ে বাধাই করা বসার বেঞ্চ। উদ্যানের পাশেই সার্কিট হাউস মাঠ ও জেলা প্রশাসন ভবন। পার্কের ভেতরে রেস্টুরেন্ট আছে কয়েকটা। মিনি চিড়িয়াখানা আছে, আছে পাঠাগারও। বিশেষ দিনগুলিতে নাগরদোলা বসানো হয়। নৌকাগুলি সাজানো হয় রঙ দিয়ে। এবং পাল লাগানো হয়।

নদের ওই পাড়ে দেখা যায় ‘পোলাপান’রা ফুটবল খেলছে, এবং ‘ছেইরাইন’রা দাঁড়িয়াবান্দা। চরে গিয়ে কাশফুলের সঙ্গে পোঁজ দিয়ে ছবি তোলে কেউ কেউ। ওই পারে চরের মধ্যে ধানক্ষেত, কাশফুল, লেবুর বাগান, সব্জিক্ষেত, মন্দির, মাঝিদের বাড়ি। প্রায়ই দেখা যায় কৃষকরা ক্ষেত নিড়াচ্ছে, সব্জিবাগান পরিষ্কার করছে। নদ পার হয়ে চরে যেতে প্রতিজনে ১০ টাকা করে দিতে হয় নৌকায়।

লোক সমাগমের কারণে সেখানে ছোট ছোট তাঁবুর তৈরি দোকান হয়েছে। সামনে দুই একটা কাঠের বেঞ্চ পাতা। কেউ আবার প্লাস্টিকের চেয়ার বসিয়েছে। তবে সেখানে সন্ধ্যার পর না থাকাই ভালো। মাঝে মাঝে ছিনতাই হয়। বিশেষ দিনগুলিতে অবশ্য পুলিশ থাকে। একবার আমি নৌকাতে মারামারি দেখেছি । বৈঠা, বাঁশ লাঠিসোটা দিয়ে কিছু উঠতি ছেলে নদীর পাড়ে মাঝিদের সাথে পিটাপিটি করছে। নৌকা থেকে কয়েকজন মাঝিও বৈঠা দিয়ে পিটাচ্ছে। ঘটনার পর সবাইকে পুলিশ তাড়িয়ে দিল। নৌকা পার হওয়ার সময় মাঝিকে জিজ্ঞেস  করলাম। মাঝি বললেন, “আরে হুনেন, একটা ছোট ছেরা এত কষ্ট কইরা হেগরে পাড় কইরা দিল, হেরা টেহা না দিয়া চইলা যাইতেছিল। পোলাডা যেই টেহা চাইতে গেছে, সাত আট জন মিল্লা পোলাডারে মাইরা কী করছে দেহেন!”

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা  বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। বাকি সব দিনই খোলা, তবে শুক্রবার দুপুরের পরে খোলে।

ঢাকা থেকে যেতে মহাখালি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এনা, সৌখিন, সোনার বাংলা যে কোনো একটিতে চড়লেই ময়মনসিংহ মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে অটো রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। ভেঙেও যাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে টাউন হলের অটো ধরতে হবে। নামতে হবে টাউন হল মোড়ে।  একটু সামনের দিকে গেলেই চোখে পড়বে মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ। তার উল্টা দিকের সোজা সার্কিট হাউজের রাস্তা ধরে গেলেই জয়নুল উদ্যান।

দুপুরে খাবার খেতে রেস্টুরেন্ট আছে নদীর পাড়ে—’ব্রহ্মপুত্র ভ্যালি ফুড গার্ডেন’, ‘সারিন্দা’ ও ‘হিমু আড্ডা’। রাত্রিযাপন করতে চাইলে আছে শহরের গাঙ্গিনাপাড় স্টেশন রোডে হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল,  গঙ্গাদাস গুহ রোডে ফায়ার সার্ভিসের পশ্চিম পাশে হোটেল মোস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনাল।

আরও অনেক হোটেল আছে, তবে নদীর পাড়ে থাকতে চাইলে তালতলা ডোলাদিয়া, খাগডহরের রিভার প্যালেস রয়েছে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার  মেইন গেইট।

উদ্যানে ঢোকার আগে জয়নুল আবেদিনের ভাস্কর্য।

বাইরে থেকে জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা।

ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে নজরুল মিয়ার চায়ের দোকান।

সংগ্রহশালার পিছনে বাড়ির কাছেই নদে মাছ ধরছে বাচ্চারা ।

উদ্যানের ভেতরে পাঠাগার।

উদ্যান।

উদ্যানের ভেতরে মূল রাস্তা।

উদ্যানের ভেতরে মিনি চিড়িয়াখানা।

চিড়িয়াখানার ভেতরে।

বৈশাখী মঞ্চের সামনে বাঁধানো গাছ।

উদ্যান।

সারিন্দা ।

উদ্যানে ঢোকার গেট।

ব্রহ্মপুত্র নদ।

পাড় বাঁধানো সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিচে অস্থায়ী চায়ের দোকান, আড্ডা দিচ্ছেন কলেজ ছাত্ররা।

জেগে ওঠা চরে সবজি বিক্রেতার বিকল ভ্যান পড়ে আছে।

দুপুরে দেখেছিলাম দু ’জন জেলে বসে ভাত খাচ্ছেন নৌকার ভিতরে।

চরে জন্মানো ঘাসে গরু চড়াচ্ছেন , পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে শালিক।

নদের জায়গায় জায়গায়  খুঁটি গেড়ে  মাছ ধরার  বাইর ও জাল বসানো।

নৌকার ছায়ায় বিশ্রাম ।

উদ্যানের ভেতরে।

নদী পারাপার।

মাঝি ও যাত্রীর  মাঝে কথা চলছে।

ব্রহ্মপুত্র।

পাড়ে বাঁধা  নৌকা।

পারাপারের দৃশ্য, দুধ ওয়ালী মাথায় দুধ নিয়ে নৌকায় উঠছে।

চরে তাঁবু টানিয়ে ফুচকা চটপটি বিক্রি হচ্ছে।

নৌকার পালে বিজ্ঞাপন।

ছয়টি নাও।


ইউটিউব ভিডিও – জয়নুল উদ্যান, ময়মনসিংহ

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।