page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

ট্যারেনটিনোর নতুন ছবির নাম ঘোষণা, ডি ক্যাপ্রিও ছাড়াও থাকছেন ব্র্যাড পিট

সনি পিকচার্স স্টুডিও ঘোষণা দিয়েছে, পরিচালক কুয়েনটিন ট্যারেনটিনোর নতুন সিনেমার অফিশিয়াল নাম ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’। ছবিতে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সাথে অভিনয় করবেন ব্র‍্যাড পিট।

ডিক্যাপ্রিওর চরিত্রের নাম রিক ডাল্টন— ১৯৬৯ সালে হলিউডের এক ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিজে অভিনয় করা একজন অ্যাক্টর। টিভি সিরিজে অভিনয়ের পর তখনকার হলিউডের মূলধারায় ঢোকার জন্য স্ট্রাগল করছেন রিক। বহু দিন ধরে তার সাথে কাজ করছেন স্টান্ট ডাবল ক্লিফ বুথ। ক্লিফের চরিত্রে অভিনয় করবেন ব্র‍্যাড পিট।

রিক আর ক্লিফের চরিত্র কাল্পনিক হলেও সিনেমাতে দেখা যাবে, রিকের পাশের বাসায় থাকেন বিখ্যাত অভিনেত্রী শ্যারন টেইট—যিনি সেই সময় পরিচালক রোমান পোলানস্কির স্ত্রী ছিলেন।

অভিনেত্রী শ্যারন টেইট খুনীদের সঙ্ঘ ‘ম্যানসন ফ্যামিলি’র হাতে খুন হন ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে। সেই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে। কাজেই সিনেমার মূল কাহিনির একটি বড় অংশে এ হত্যাকাণ্ড থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরকম বাস্তব ও কল্পনার সম্মিলন এর আগেও ট্যারেনটিনো তার ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ (২০০৯) সিনেমায় দেখিয়েছিলেন, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক পর্যায়ে অ্যাডলফ হিটলারকে মেরে ফেলা হয়।

তাছাড়া ট্যারেনটিনোর শেষ সিনেমা ‘দ্য হেইটফুল এইট’ (২০১৪) এর নাম যেমন ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ থেকে ইন্সপায়ার্ড ছিল, তেমনি এই নতুন সিনেমার নামও সম্ভবত পরিচালক  সার্জিও লিওনি’র ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন আমেরিকা’ এবং ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন দ্য ওয়েস্ট’ এর আদলে দেওয়া হয়েছে। কারণ ট্যারেনটিনো এর আগেও তার কাজে পরিচালক লিওনি’র অনেক প্রভাব আছে বলে জানিয়েছিলেন; তাছাড়া ওয়েস্টার্ন জঁনরার প্রতি তার সহজাত ঝোঁক তো আছেই।

তবে গত ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে যখন নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় অভিনেত্রী উমা থারম্যানের যৌন হয়রানি সম্পর্কিত সাক্ষাৎকার ছাপা হয়, সেখানে ২০০৩ সালে ‘কিল বিল’ সিনেমার শুটিংয়ে পরিচালক ট্যারেনটিনোর দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা উঠে আসে। শুটিংয়ের সময় ট্যারেনটিনোর নির্দেশে থারম্যান একরকম বাধ্য হয়ে একটি গাড়ি চালাতে গিয়ে ক্র‍্যাশ করেন ও আহত হন। এ ঘটনা প্রকাশের সূত্র ধরে আমেরিকান মিডিয়ায় ট্যারেনটিনোকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ট্যারেনটিনোর সিনেমার নিয়মিত প্রযোজক হার্ভি ওয়াইন্সটিনের নামে ৫০ জনেরও বেশি মহিলা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে তাকে নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘ওয়াইন্সটিন কোম্পানি’ থেকে বহিস্কার করা হয়। সেই সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় হলিউডের যৌন হয়রানি সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে চালু হয় ক্যাম্পেইন, যার ফলে অভিনেতা কেভিন স্পেসি, কমেডিয়ান লুইস সি কে এবং পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনার একইভাবে অভিযুক্ত হন। মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ‘ওয়াইন্সটিন ইফেক্ট’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। থারম্যানও তার সাক্ষাৎকারে ওয়াইন্সটিনের হাতে হয়রানি হবার ঘটনা উল্লেখ করেন।

এছাড়াও ২০০৩ সালে একটি ইন্টারভিউতে পরিচালক রোমান পোলানস্কির ১৩ বছর বয়সী মডেল সামান্থা গেইমারকে ধর্ষণ করার ঘটনায় পোলানস্কির পক্ষে কথা বলেছিলেন ট্যারেনটিনো। সেই ইন্টারভিউয়ের অডিও রেকর্ডিং আকস্মিক ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

তাই সব মিলিয়ে হলিউডে ট্যারেনটিনোর ক্যারিয়ার অনিশ্চিত হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে এমনও গুজব ছড়ায়, সনি পিকচার্স হয়ত তার নতুন সিনেমা প্রযোজনা থেকে সরে দাঁড়াবে। কিন্তু মিডিয়ায় এই ঘটনা প্রচুর আলোচিত হওয়ার পরেও তার নামে সরাসরি কোনো যৌন আক্রমণের অভিযোগ না থাকায় ধীরে ধীরে এই আলোচনা স্তিমিত হয়ে আসে। তাছাড়া ট্যারেনটিনোর সাথে কাজ করা দুই-একজন অভিনেত্রী তার নামে পজিটিভ বক্তব্যই দিয়েছিলেন। এমনকি উমা থারম্যানও ট্যারেনটিনোকে বন্ধুই মনে করেন এখনো।

পরে অবশ্য ধর্ষণের ঘটনায় পোলানস্কির পক্ষে কথা বলার জন্য সামান্থা গেইমারের কাছে অফিশিয়ালি ক্ষমা চান ট্যারেনটিনো।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply