page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

ট্রিট

আমার একটা কাজে শুভাকাঙ্ক্ষী গেছে সাথে, আমাকে হেল্প করতে (শুভাকাঙ্ক্ষীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। ধরি নাম শুভা)।

আমার খুব তাড়াহুড়া আছিল, টায়ার্ডও।

কাজ শেষে ফেরার পথে শুভা কইল, চলো একটু মৌচাক যাই। আমি লাঞ্চ খাওয়াবো। ট্রিট।

মৌচাকের প্রতি আমার একটু এলার্জি আছে। আল্লাহ্‌র বারোটা মাস এখানে মাইয়াগো ঠেলাঠেলি। তেল বাইর কইরা ফেলে।

whomayuns logo

কইলাম, কেন? মৌচাক কেন?

শুভা: দুল দেখব।

আমি: দুল! দুল কেন?

শুভা: বান্ধবীর কাজিনের বিয়ে আছে।

খুবই ইম্পোর্টেন্ট। গেলাম সাথে।

এই দুল সেই দুল করতে করতে আমি রাগার আগেই সে ফায়ার।

প্রথমে কিছুক্ষণ দাম নিয়া মিলে না এমন বোঝাইতে চাইল। পরে কইল, কালারটা পাচ্ছি না। মানে মিলছে না।

এর মধ্যে আমি একটু বের হবার কথা কইলাম সে রাজি হয় না। “এই তো শেষ, আরেকটু দেখব।”

আমি ধান্দা খুঁজতেছিলাম। বের হয়ে কিছু খাব। সরাসরি কইতে পারতেছি না। আমার এত উপকার করল। হঠাৎ বলল, চল, পাশেই আড়ং। আড়ং-এ যাই। নিউ কী আসছে দেখি।

“চল দেখি।” আমার এত্ত উপকার করল বেটি। এখান থেকে আগে বের হই।

পাশের আড়ং পছন্দ হইলো না, নিউ কিছু নাই। আমরা আরেক আড়ং-এ গেলাম।

কিছুক্ষণ অর্নামেন্টস বক্স দেখল সে।

আমি: তোমার না আছে?

শুভা: আছে। ওখানে জায়গা নাই। আর ওইটা আজকের! পুরান হইছে না। তুমিও দেখো।

আমার মনোযোগ নাই। আমার মনোযোগ বিগ আড়ং-এর বিগ স্ক্রিনের দিকে। তাহসানের গান চলতেছে: “শুনেছি আমি তুমি ভালই আছো, ভুলে গেছ আমায়, আমায় ভুলতে শিখেছ”—সেই সাথে মিউজিক ভিডিও।

মিউজিক ভিডিও দেখে কল্লা ঘুরে গেল। এইটা কবে হইল, দেখি নাই। গানের সাথে ভিডিওতে টাইনা আইনা একটা লোক গরুর দুধ দুইতাছে। শেষে কী হয় হয় আটকে গেলাম। দেখি, স্ক্রিনে ঐটা আড়ং দুধের অ্যাড আছিল। তাদের দুধ কত ‘র, একদম গ্রাম থেইকা খাঁটি চাষী দিয়া দোয়ানো দুধ, কত খাঁটি সেইটা দেখানো হচ্ছিল। ব্যাকগ্রাউন্ডে তাহসানের গান। ওদের স্ক্রিনগুলাতে আড়ং-এর পণ্যের অ্যাড দেখায়, দেখাচ্ছিল। আর আমি কী ভাইবা কী…

শুভার কাছে ফিরলাম। সে একটা বক্স নিয়ে কালারটা পছন্দ হইছে, ভিতরে খুলে দেখল। ডিজাইনটা পছন্দ হয় নাই। অন্য আরেকটা খুলে দেখল সেটার ভিতরের ডিজাইনটা পছন্দ হইছে। আমাকে দেখিয়ে হাসিমুখে বললো, কেমন?

aarong-1

আড়ং-এ সিঁড়ি

আমার ধরছে মুতা, অনেকক্ষণ ধরে। আড়ং-এর এসিতে সেটা তীব্র আকার ধারণ করছে। এতক্ষণে যেহেতু পছন্দ হইছে আমিও সায় দিয়া কষে ‘বুড়া আঙুল’ তুলে সেইরাম লাইক দিলাম। সে বক্সটা নিয়া সেলস্‌ম্যানরে দেখাইল, “এই ডিজাইনের ঐ বক্সের কালার নাই?”

আমি অন্যমুখে হাঁটা দিলাম। একটা রুম থেকে দেখি কিছুক্ষণ পর পর ছেলেমেয়ে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে মুখ মুছতে মুছতে বের হইতেছে। ভিতরে কী হয় জিগাইতে সাহস হইলো না। উঁকি মাইরা দেখি খানা খাইয়া বের হইতেছে একেকজন। একজন এসে জিগাইল, স্যার কিছু লাগবে?

কইলাম, হ, ওয়াশরুম কোনদিকে?

কইল, পাঁচ তলায়। খাইছে, এইটা পাঁচতলা!

আমি শুভার কাছে আইলাম। সে বেডশিট দেখতেছে। বক্স থেকে শিটে নামছে। কইলাম, কী খুঁজো?

শুভা: বেডশিট

পুরা একটা ফ্লোর বেডশিট।

আমি: এই যে, লাখ লাখ বেডশিট।

শুভা: এগুলা না, বিস্কিট কালার।

(মনে মনে) যেইটা নাই ঐটা খুঁজস। নাইলে আমার একটা উপকার করলি…

আমি: কী বিস্কিট?

শুভা: কী বিস্কিট আবার কী। বিস্কিট বিস্কিট।

একটা পাওয়া গেল সেটা আবার পুরাপুরি বিস্কিট না। আমিও খাইতে পারব এই সুযোগে কইলাম, বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসি, নটি বিস্কিট। মিলায়া দেখো, ওদেরও দেখাও।

সে রাজি হইল না। তারপর সে যেটা বের করল আমার পছন্দ হইলেও লাভ নাই। উন্নাসিক ভাব দেখাইয়া কইলাম, এটা ‘বেলা বিস্কিট’ হয়া গেল, খ্যাত।

সে তীব্র সমর্থন দিয়া কইল, হুম! তোমার মত। চিটাইঙ্গা…

ঐটা লইয়াই বাইর হইল। আমারে লাঞ্চ খাওয়াইবে কথা দিছে। বাইরে আইসা দেখি ডিনারের টাইম হইছে। মন্দ না!

About Author

হুমায়ূন সাধু
হুমায়ূন সাধু