দাপুনিয়া ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউনিয়ন। এখানে আছে সুতিয়া নদী। নদীর দুই পাশে বহু বাড়িঘর। হাট বাজার আছে ৫টি। দাপুনিয়া বাজার, সরকারী পুকুর পাড় বাজার, কাতলাসেন বাজার, ঠেলাঠেলির বাজার, ফুটাংগির বাজার।

ইউনিয়নের গ্রামগুলি আজমতপুর, বাদেকল্পা, বারুরী, দাপুনিয়া, গোষ্টা, হারটি, কাৎলাসেন, পাচঁকাহনিয়া, ফুলবাড়িয়া, শস্যমালা, কাওয়ালটি ও তালমা। ইউনিয়নের উত্তরে খাগডহর আর আকুয়া ইউনিয়ন,  পুবে মুক্তাগাছা উপজেলা। পশ্চিমে ঘাগড়া ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে উপজেলা ফুলবাড়িয়া।

দাপুনিয়ার কিছু গ্রাম এখনো দেখা বাকি। বেশি গিয়েছি ৭ নং দাপুনিয়া। চাড়াল পাড়া বাজারে। পিঁয়াজু খাইতে। বাজার তেমন বড় না। খুচরা জিনিস বিক্রি করে।

শেষ বার গেলাম জুনের ৩০ তারিখ (২০১৭) চাড়াল পাড়া বাজারে। বাড়ি থেকে অনেক দূরে সেই বাজার। এক টাকা করে পিঁয়াজু পাওয়া যায়। প্রথমে সন্ধান দিয়েছিল এক ছোট ভাই বাপ্পি। তখন ক্লাস সেভেন-এইটে পড়ি। বাপ্পির নানির বাড়ি সেখানে।

মাটিতে বসে পিঁয়াজু ভাজা হয়। চুলাও মাটির। গাছের ছোট ছোট ঢাল দিয়ে আগুন ধরায়। বানানোর সাথে সাথেই শেষ। লাইন ধরে খেতে হয়। একেক জনে ২০টা ৩০টা করে খায় পিঁয়াজু। ওখানে শুধু পিঁয়াজু না সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। হাস, মুরগী, কবুতর, দুধ, চাল ডাল, সবজি, মাছ, কলা, পান, সুপাড়ি সবই।

মজার ব্যাপার হল, বাজার বসে মাটিতে। দুই একটা দোকান ছাড়া। সবাই পর্দা বিছায়ে বসে থাকেন। ছোট ছোট বাচ্চারা বিক্রি করতে আসে বিভিন্ন জিনিস। সবই টাটকা। মানুষ জন বাড়তি জিনিস বিক্রি করে দেয়। কেউ আবার একটি জিনিস বিক্রি করে আরেকটি কিনে। যেমন হাস বিক্রি করে চাল-ডাল কিনছে এমন।

বাজারে কামারের দোকান আছে একটা। কাচি, দা, কোদাল, শাবল বানাতে আসে লোকে। মাইক ভাড়া দেওয়া হয় বাজারে। সভা, পিকনিক বা খেলা পরিচালনার জন্যে ভাড়া করে নিয়ে যায় লোকেরা।

মোট চারটি রাস্তা মিলিয়ে বাজার বসে। বাজারের সাথে স্কুল আছে একটা। বড় পুকুর একটা। একটা মাদ্রাসা। স্কুলের মাঠেও ঈদের নামাজ পড়ানো হয়।

পুকুরের একটা সমস্যা আছে। কখনোই শুকায় না। সেচ দিয়ে মাছ ধরা সম্ভব হয় না। নিচ থেকে পানি উঠতে থাকে। সপ্তাহে তিনদিন বাজার বসে। শুক্র সোম বুধ।

বাপ-বেটা ছিপজাল দিয়ে মাছ ধরছে

শুকনা নদীতে হাতিয়ে মাছ ধরছে অনেকেই, পাড়ে বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে  আছে এক মা

ভেলার পাশে  নদীর ময়লা পানিতে খেলছে শিশুরা, দুই একজন পাড়ে দাঁড়িয়ে

মাছ ধরা শেষ, বাকি তিন জনের এক জনের শুধু আঙুল, আরেক জনের  হাত ও অন্য জনের মাথা দেখা যাচ্ছে

ভ্যানে যাত্রী  পরিবহন

নদীর পাশে রাস্তার ঢালুতে চায়ের দোকান

ফুটবল খেলা চলছে

রান্নাঘর

বিকেলে কিশোরী দোকান থেকে সদাই নিয়ে বাড়ি ফিরছে

আনারসের দরদাম  চলছে

চার রাস্তার একটি , এখানে শুধু সবজি বিক্রি হয়

বিক্রির জন্য কচু পরিস্কার করা হচ্ছে

ডাটা শাক  ও কচুর লতি বিক্রি করছেন একজন, পাশের জন পুঁই শাক ও পাট শাক

শিশু ব্যবসায়ী লেবু বিক্রি করে আইসক্রিম খাচ্ছে

পোষা হাস মুরগী বিক্রি করতে  চাড়াল পাড়া বাজারে এসে বসে আছে আছে  নানান বয়সী মানুষ

প্রতি জনের কাছেই দুই একটি করে কাঁঠাল

গরুর দুধ নিয়ে বসে আছেন 

কলা ও চাল বিক্রেতা

স্কুল ও ঈদগা মাঠ

জর্দা, সুপারি, পেঁয়াজ, রসুন ও ডালের অস্থায়ী দোকান

পানের এরিয়া

মাছ বিক্রির অংশ

১ টাকার পিঁয়াজু ঘর

বাইর, খালই, ঝারু, পলো, ডালি, কুলা, চালুন ইত্যাদির দোকান

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।