‘দি অ্যাকিউজড’—ধর্ষিতা, ধর্ষক ও দর্শক

শেয়ার করুন!

এক ব্রোকেন ফ্যামিলির মেয়ে, যার ১০ বছর বয়সের সময় তার বাবা তার মাকে ছেড়ে গেছে, এখন মা নিজের মতো করে অন্য স্টেটে থাকেন।

মেয়েটি এক রেস্টুরেন্টে ওয়েট্রেসের কাজ করে, ড্রাগ ডিলার বয়ফ্রেন্ড তার ওই জীর্ণ ঘরেই লিভ-ইন করে। ঘরে অতিথি এলে আপ্যায়নের জন্যে কোনো সফট ড্রিংকস পরিবেশন করতে না পারলেও, দিনে-রাতে তাকে শস্তা হুইস্কি পান করতে দেখা যায়। ধুমপায়ি মেয়েটির ক্রিমিনাল রেকর্ডও ক্লিন নয়, ড্রাগ সাথে রাখার অপরাধে আগে ধরাও পড়েছে।

এক রাতে সে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে এক বারে যায়, সেখানে তার বান্ধবী ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করে। বান্ধবী কাজ থেকে একটু ব্রেক নিয়ে মেয়েটির সাথে কথা বলতে বসে। কিন্তু, মেয়েটি গ্লাসের পর গ্লাস ড্রিংক করতে করতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারার অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

‘দি অ্যাকিউজড’ (১৯৮৮) ছবির পোস্টার।

মেয়েটি অন্য টেবিলে বসা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সাথে ইশারায় দুষ্টুমি করে, বান্ধবীকে বলে ওই ছেলেকে ঘরে নিয়ে গিয়ে “ফাক হিজ ব্রেইন আউট” করতে চায়, তাকে জ্যাকেট খুলে ব্লাউজ নিচু করেও দেখায়।

এসব নজরে পড়ায় এই মেয়ের ‘মতলব’ আঁচ করে, কাউন্টার থেকে আরেকজন কমপ্লিমেন্টারি ড্রিংক পাঠিয়ে দেয়। সেই ড্রিংক গ্রহণ করা মাত্রই সেই লোক এসে এদের টেবিলে বসে, আলাপ জমতে দেরি হয় না; সে ব্যাকরুমে আরো ফান করার জন্যে ডেকে নেয়, মেয়েটিও বান্ধবীর সাথে আলাপ ফেলে ব্যাকরুমে পিনবল খেলতে যায়।

মূল গল্পে যাওয়ার আগে, একটু শাস্ত্র ঘেঁটে নিই; কোনো প্লট, সংলাপ, এমনকি ক্যামেরার ফোকাস বোঝার জন্যেও পার্সপেক্টিভ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

ঘটনাটি লেইট এইটিজের। তখন ডান্স ফ্লোরগুলিতে প্রায় জাতীয় সঙ্গীতের মতো যে গানটি কয়েকবার না বাজালে ক্লাবগুলিতে উদ্দাম রাত পূর্ণতা পেত না, সেটি পল লেকাকিসের”বুম বুম, লেট’স গো ব্যাক ট্যু মাই রুম।”

ক্যালি ম্যাগিলিস, পরিচালক জোনাথন কাপলান ও জোডি ফস্টার, ছবির সেটে।

যারা এইটিজে ডিস্কো, ক্লাব, ক্যাবারে–যেখানেই ডান্সফ্লোর আছে, সেখানে সময় কাটিয়েছেন, তারা তো জানেনই, বাকিদের জন্যে আমি ওই লিজেন্ডারি ডান্স নাম্বারের চার লাইন তুলে দিচ্ছি, ওই যুগে রক্তে অ্যালকোহল ক্রিয়া করতে থাকাকালীন “ব্যাক” ও “রুম” শব্দদুটি একসাথে শুনলেই, অবধারিতভাবে কী কথা মনে ভেসে উঠত বুঝে নিন। এবং মনে রাখতে হবে, সব ক্ষেত্রে ‘ব্যাকরু’ কিন্তু ব্যাকের রুম ছিল না, স্রেফ ওই আমেজটুকু আনতে অনেক জায়গায় যে কোনো একটি রুমকে ব্যাকরুম নাম দেয়া হতো:

Boom Boom Boom
Let’s go back to my room
So we can do it all night
And you can make me feel right

“কেউ একজন জুকবক্সে কয়েন ফেলে একটি গান বাজায়, সেটি আবার ওই মেয়েটির ফেভারিট, সে ওই গানের তালে তালে নাচতে শুরু করে।”

মেয়েটির পিনবল খেলার সময় থেকেই কোমরে, নিতম্বে বুভুক্ষু হাত খেলা করতে থাকে, মেয়েটির তরফ থেকেও তেমন কোনো বাধা আসে না। এক গেম শেষ হলে ব্যাকরুমে পিনবল ও ভিডিও গেম খেলার হৈ হুল্লোড়ের ভিড়ের মধ্যেই নিজের ব্যাগ থেকে বের করে মেয়েটি গাঁজা ধরায়, এক মাতালের সাথে গাঁজা শেয়ারও করে, কেউ একজন জুকবক্সে কয়েন ফেলে একটি গান বাজায়, সেটি আবার ওই মেয়েটির ফেভারিট, সে ওই গানের তালে তালে নাচতে শুরু করে।

বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়ার স্ট্রেস, এর সাথে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, সাথে গাঁজার আবেশ, সবকিছুর মিলিত প্রভাবে নাচটি যেন প্রকৃতই ওই Boom Boom Boom এর একেবারে টিপিকাল গেট, সেট, গো পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যায়। একজন তাকে জোর চুম্বন করে, মেয়েটি বাধা দেয় না। বাকিদের উত্তেজনা তখন চরমে, সবাই যার যার অনুমান করে নিয়েছে।

গভীর চুম্বনের পর ব্লাউজের ভিতর হাত দিলে মেয়েটি বাধা দিতে যায়, কিন্তু ওটা খেয়াল করে আমলে নেয়ার পর্যায়ে তখন আর সঙ্গীরা নাই। এবং ওই ড্রিংক অফারকারি, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেটি ও আরো একজন, মোট তিন মাতাল ওই পিনবল টেবিলে তাকে ঠেসে ধরে পালাক্রমে একাধিকবার তার মধ্যে প্রবেশ করে, বুম বুম করে। উপস্থিত অন্যরা হর্ষ চিৎকার সহযোগে হাততালি দিয়ে ও হৈ-হুল্লোড় করে উৎসাহ দেয়।

এটি ১৯৮৮ সনের The Accused মুভির শুরুর গল্প। ওই মেয়েটির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জোডি ফস্টার, উনি এই অভিনয়ের বিনিময়ে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন।

জোডি ফস্টার কেন যে আমার প্রিয় নায়িকা, এবং আমি যে গুণের কদর বুঝি, সেটা জানার জন্যে হলেও আপনাকে এই মুভি দেখতে হবে! যদিও, এই মুভিটি তখন থিয়েটারে দেখে কিছু স্ট্রং থট প্রোভোকেটিভ বাতচিৎ নিয়ে বানানো জাস্ট একটি টিভি মুভির মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু, এখন আবার দেখে অনেক ভাল লাগল। তখন বয়স কম ছিল, অন্যরকম লাগার এটি একটি কারণ হতে পারে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির চরিত্রে ক্যালি ম্যাগিলিস।

মুভিটি মূলত কোর্টরুম ড্রামা; মুভিতে সরকারের তরফ থেকে ওই মেয়েটিকে আইনি সহায়তা দেয়ার দায়িত্ব পান অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি, ওই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালি ম্যাগিলিস। এই ক্যালি নিজ জীবনে মাত্র বছর পাঁচেক আগে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন দ্বারা ছুরির মুখে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। অপরাধী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার শাস্তি কম হয়েছিল; এই নিয়ে ক্যালি তার মামলার রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন, যদিও ঝামেলা এড়াতে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য এড়িয়ে গেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে মামলা লড়ার চরিত্রে বাস্তব জীবনে ধর্ষণের শিকার একজন যদি অভিনয় করেন, তবে তার অভিনয়ে বাড়তি কিছু আশা করতেই পারেন; এবং হ্যাঁ, ক্যালিও দর্শকদের হতাশ করেন নি।

১৯৮৭ সালের জুনে কানাডার ভ্যাংকুভারে ‘দি অ্যাকিউজড’ সিনেমার প্রচারণা চালানোর সময় ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন জোডি ফস্টার।

এই মুভির একটি দৃশ্যের কথা বলতেই হয়, সব মেয়েই বোধহয় গভীর আবেগের মুহূর্তে মাকে খোঁজে, এই মেয়েও ধর্ষিত হবার পর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি হয়ে, অভিযুক্তদেরকে শনাক্ত করতে ওই বারে পুলিশের সাথে রেইডে গিয়ে, বাসায় ফেরার পর শেষ রাতে মাকে ফোন দেয়। কিন্তু হায়, একে তো ব্রোকেন ফ্যামিলিতে কোথায় যেন বন্ধনের সূর কেটে যায়, তার উপর নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠি সবাই নিজ নিজ সমস্যায় জর্জরিত।

অসময়ে মায়ের কাছে মেয়ে ব্যয়বহুল ইন্টার-স্টেট কল করেছে, মা ওভাবে চমকে ওঠেন না; ভাবেন, মেয়ে বোধহয় অস্থায়ী চাকুরিটি হারিয়ে ঠেকেছে বলে কয়টি টাকা চাইতে ফোন করেছে। মার কাছে মেয়ের আর কিছুই বলা হয়ে ওঠে না। এই দৃশ্যটি, যেখানে সংলাপে কিছু শুনিয়ে নয়, পর্দায় কিছু দৃশ্যমান করে নয়, যদি ভাবেন, তবে বুঝবেন—এরকম ভাবে দর্শকের বোধশক্তিকে পরীক্ষায় ফেলে কিছু বলার চেষ্টা করা হলো, সেটি আমাকে খুব স্পর্শ করেছিল।

মুভিটি শেষ হলে, পর্দায় লেখা ওঠে:

“In the United States a rape is reported every six minutes.
One out of every four rape victims is attacked by two or more assailants”.

( যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ছয় মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
প্রতি চারটি ধর্ষণের ঘটনার একটিতে আক্রমণকারী থাকে দুই বা ততোধিক জন)

‘গণতন্ত্র’ ও ‘আইনের শাসনের’ চকোলেট কোটেড চরম পূঁজিবাদি মার্কিনীদের ‘ব্যাক্তি স্বাধীনতার স্বর্গ’তুল্য সমাজ নিয়ে ভাবনার উদ্রেক হয়ে যায়, এত এত নেকড়ে যেথা…।

এই মুভিটি বেশ কয়েকটি দিক থেকে অনন্য। এটি হলিউডের মূলধারার প্রথম চলচ্চিত্র, যেটি ধর্ষিতার দিক থেকে গল্প বলেছে। এই মুভির প্রায় তিন মিনিটের ধর্ষণ দৃশ্যটি ছিল তখন পর্যন্ত সবচাইতে লম্বা সময় স্থায়ী ধর্ষণদৃশ্য। অনেকে এটিকে এযাবৎ কালের সবচাইতে বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য ধর্ষণ দৃশ্যের উপস্থাপনাও বলেন। গত শতাব্দীর আশির দশকে নির্মিত, একথা মাথায় রাখলে বোঝা যাবে, এটি সে যুগের একটি দুঃসাহসী নির্মাণ। আবার, ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নির্মিত, তবে এর বিরুদ্ধে অশ্লীলতার কোনো অভিযোগ কেউই করতে পারেন নাই। অনেক নারীবাদী এই মুভি নিয়ে উচ্চকণ্ঠ, কিন্তু এই মুভিতে পুরুষ বিদ্বেষের ছিটেফোঁটাও নেই। কাহিনিকারের পরিমিতিবোধ, উপস্থাপনায় বাস্তবানুগ থেকেও অসাধারণ নাটকীয়, তবে চরিত্রগুলি সবাই যেন জীবন্ত—মুভির এই দিকগুলি অসাধারণ।

এতে কোনো প্রধান পুরুষ চরিত্র নেই। বরং, দুই নারী—ধর্ষিতা ও তার হয়ে মামলায় লড়া আইনজীবী, দুজনকে নিয়েই এর কাহিনি এগিয়েছে। সরকারি আইনজীবী শুরুতে কেরানির মতোই, তবে নিজে নারী হওয়ায় কিছুটা বাড়তি চেষ্টা করে ধর্ষণ মামলায় একটি “বাস্তবসম্মত” আপোসে গিয়েছিলেন। কিন্তু, অশিক্ষিতা, নিম্নবিত্তের মেয়ে হলেও, ধর্ষিতার চরিত্রের লড়াকু মনোভাব লক্ষ্য করে উনিও যেন জেগে ওঠেন, মামলায় নতুন দিক দিয়ে চেষ্টা করে শেষে এক সন্তোষজনক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। ধর্ষিতাও যেন সুশিক্ষিতা, মার্জিত, অভিজাত আইনজীবীর ছোঁয়ায় বদলে যেতে থাকেন। ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা আসতে থাকে, আত্মসচেতন হতে থাকেন, চিন্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে থাকে, যথেষ্ট ধীরস্থির হয়ে যেতে থাকেন। দুজনেই দুজনের ছোঁয়ায় বদলে যেতে থাকলেও, একদিকে খুব সূক্ষ্ম সহমর্মিতা, আরেক দিকে শ্রদ্ধা ও আস্থা প্রভাব ফেলেছে; কিন্তু সে সবের প্রকাশে অতটা আবার মাতামাতি নেই। নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই পরিবর্তন হচ্ছে—এই দিকগুলি খুব মুন্সিয়ানার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এই মুভি নির্মিত হয়েছে ১৯৮৩ সনে ম্যাসাচুসেটসে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে। সেখানে ২১ বছরের এক মেয়ে একাকী বারে মদ পান করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন। মামলার রায় তার পক্ষে যায়, দোষীদের কম বেশি শাস্তিও হয়। কিন্তু নিজ সমাজে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার শিকার হতে থাকায় উনি অন্য স্টেটে বাস করতে চলে যান। চার বছর পরে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ম্যাসাচুসেটসের ওই গণধর্ষণের মামলা প্রথম সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচিত ধর্ষণ মামলা।

অনেকেই বলেন ১৯৮০তে চালু হওয়া ২৪ ঘণ্টা নিউজ চ্যানেল CNN সংবাদ পরিবেশনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, তার কল্যাণে ওই মামলা সারা যুক্তরাষ্ট্রে এত গুরুত্ব সহকারে প্রতিটি ধাপে ধাপে জনগণের মাঝে আলোচিত হতে পেরেছে। তবে, এই মুভিটির গল্প, ওই ঘটনার মূল কাঠামোটি নিলেও, অতটা অন্ধ অনুসরণ করে নি। বরং, বাস্তবের ঘটনায় যে আক্ষেপ রয়ে গিয়েছিল, মুভিটি তা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। সে বিষয়টি একটু পরে আসছে।

এই মুভি দুটো বিষয় দেখাতে চেয়েছে:
প্রথমত, ধর্ষণের শিকার নিজেই ঘটনার পরে নিজের পরিপার্শ্বে, এমনকি মামলা চলাকালে আদালতেও, এমন আচরণ ও প্রশ্নের মুখোমুখি হন, যেন ধর্ষণের কারণ সে নিজেই। প্রখ্যাত চিত্র সমালোচক রজার ইবার্ট এই মুভির ক্রিটিক লেখা শুরু করেছিলেন এই বলে: “The Accused” demonstrates that  rape victims often are suspects in their own cases. Surely they must have been somehow to blame. How were they behaving at the time of the crime? How were they dressed? Had they been drinking? Is their personal life clean and tidy? Or are they sluts who were just asking for it? (এই মুভিটি আমাদের সামনে একথা তুলে ধরে যে, প্রায়ই দেখা যায় ধর্ষণের শিকারকেই দোষী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। তাদেরকে যেন কোনো না কোনো ভাবে দায়ী করতেই হবে। প্রশ্ন করা হয়—অপরাধটি ঘটার সময় কেমন আচরণ করছিল? গায়ে কেমন পোশাক ছিল? আগে থেকেই মদ্যপান করে মাতাল ছিল কি? ব্যক্তিজীবনে সে কি সুশৃঙ্খল ও অপরাধমুক্ত? কিংবা,  সে নেহায়েত নষ্টা নয়ত, যে বরং এ রকম কিছুই চাইছিল?)

দ্বিতীয়তঃ এই মুভি ধর্ষক ছাড়াও, যারা পাশে থেকে দেখেছে, থামানোর, বা পুলিশে খবর দেয়ার উদ্যোগ নেয় নাই, বরং হর্ষ চিৎকার ও হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিয়েছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা দেখিয়েছে, তাদেরকেও শাস্তি পেতে দেখিয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের বিচারের ক্ষেত্রে এটি অভিনব দৃষ্টান্ত ছিল। বিশেষত, ১৯৮৩ সালের ম্যাসাচুসেটসের ওই গণধর্ষণ মামলার বেলায় এটি জনমনে বিরাট আক্ষেপের বিষয় ছিল।

মাত্র ছয় মিলিয়ন ডলারেরও কম বাজেটের এই মুভি ব্যবসা সফল; তবে তার চাইতে বেশি সফল ধর্ষণ বিষয়ে নানা রকম প্রশ্ন উসকে দেয়ার ক্ষেত্রে। ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রায় সব ধরনের মানুষ এই মুভির রেফারেন্স দিয়েছেন। আইনজীবীরা দিয়েছেন, সমাজতাত্ত্বিকরা দিয়েছেন, নারীবাদীরা দিয়েছেন, সাধারণ লোকজন বারে বসে অলস সময় কাটানোর সময় দিয়েছেন, কোনো মেয়েকে উত্তেজক পোশাকে একাকি মদ পান করতে দেখলে দিয়েছেন, ধর্ষণের সংবাদ পেলে দিয়েছেন। তবে, অনেক বছর কেটে গেছে, এখন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম, ইদানীং এটা কেবলমাত্র অনেকটা ভারি আলোচনায় রেফারেন্স হিসেবে বেশি আসছে, সাধারণ লোকে বোধহয় এতবছর আগের মুভি নিয়ে আর অত মাথা ঘামাচ্ছেন না।

আরো পড়ুন: ‘ফিফটিন মিলিয়ন মেরিটস’ ও ‘অ্যাকিউজড’

এই মুভির প্রেক্ষিতে সবচাইতে বেশি যে তর্কটি হয়েছে, তা হলো, কেউ নিজ সক্রিয় উদ্যোগে কাউকে ইরেকশন পর্যন্ত নিয়ে গেল, কিন্তু সেই ইরেকটেড ব্যক্তি পেনেট্রেশনে যেতে চাইলে আপত্তি করল; সেই আপত্তি ধর্তব্য কি না, এই আলোচনা অনেক হয়েছে, তর্ক করতে করতে টেবিলে অনেকবার ঘুষি মারা হয়ে গেছে, কিন্তু এই আলোচনা যেন শেষ হবার নয়! ধর্ষণের সংজ্ঞা অমীমাংসিত থেকে যাওয়া একটি বিস্ময়।

আপত্তি সত্ত্বেও পেনেট্রেশন মাত্রই যদি ধর্ষণ হয়, তবে, নিজের চোখে দেখা একটি ঘটনা বলি, খুব চমকপ্রদ কিছু নয়, আপনারাও অনেকে এইরকম ঘটনা দেখেছেন, বা জানেন: টোনা-টুনি ডেটিংয়ে গিয়ে পানশালায় পান করে বের হয়ে যাচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই টোনা হোটেলে যেতে চায়, টুনি চায় না, এতে টোনা গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়ার মতো চরম মুহূর্তে অকস্মাৎ এই নারাজির কথায় প্রথমে অবাক হলেও ভীষণ ক্ষেপে গেছে, নানান ভাবে বুঝিয়েও টোনাকে সামলানো যাচ্ছে না দেখে, টুনি শেষমেশ ক্ষোভে-দুঃখে রাগত স্বরেই টোনাকে বলছে, আসো একটু ওদিকে আড়ালে যাই, আমি ব্লোজব করে দিচ্ছি, তবু তোমার মতো পশুটা শান্ত হোক! টোনা নিমরাজি হয়ে টুনির পিছনে চললো…।

এটা কী ছিল?

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here