page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার নিয়ে ৫টি কমন মিথ্যা

২০১৬ এর জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণা হয়েছিল, গবেষণার বিষয় ছিল: টিনেজ ছেলেমেয়েদের মস্তিষ্ক আরো সক্রিয় করার জন্য চকলেট মিল্ক উপকারি কিনা। আর এই গবেষণাটিতে ফান্ড দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি। কয়েক দশক ধরে দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন ভুল তথ্য মানুষ বিশ্বাস করে আসছে। প্রায় সব সংস্কৃতিতেই দুধ সম্পর্কে কিছু মিথ স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলিকে সমর্থন করে না। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার নিয়ে ৫টি কমন মিথ্যা এখানে থাকছে।

milk-1e

মিথ ১—‪দুধ হাড় শক্ত করে

দুধ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মিথ্যা এটি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় ৭২ হাজার নারীকে ২ দশক অর্থাৎ ২০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং দেখা গেছে দুধ পান করলে তা হাড়ে ফ্র্যাকচার হওয়া বা অস্টেওপরোসিস রোগ হওয়া প্রতিরোধ করে না।

৯৬ হাজার লোকের ওপর করা আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টিনেজ বয়সে বেশি দুধ পান করেছে, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের হাড়ের ফ্র্যাকচার বেশি হয়েছে।

একই রকম আরো একটি গবেষণায় দেখা গেছে বয়ঃসন্ধিকালে যেসব মেয়েরা বিশেষ করে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারের মাধ্যমে বেশি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করেছে তাদের হাড়ের ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি, কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা মেয়েদের চেয়ে বেশি।

মিথ ২—‪দুধ পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে

আপনি যতই বিশ্বাস করুন দুধ পান করলে আপনি স্লিম হবেন, গবেষণায় দেখা গেছে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দুধের ভূমিকা একেবারে জিরো। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার থেকে ওজন বাড়তে পারে।

২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিশিয়ান কমিটি পিটিশন দায়ের করেছিল যে ওজন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেইরি ইন্ড্রাস্টির ছড়ানো এইসব ভুল ক্যাম্পেইন যেন বন্ধ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায়, সরকার আদেশ জারি করে এবং ডেইরি ইন্ড্রাস্ট্রি আর এই ওজন নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে এই ভুল ক্যাম্পেইন করতে পারে না।

মিথ ৩—‪দুধ হলো প্রকৃতির সবচেয়ে ‘সেরা’ খাবার

গরুর দুধ গরুর বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য আদর্শ খাবার, কিন্তু মানুষের জন্য পারফেক্ট খাবার থেকে গরুর দুধ অনেক দূরে।

৬০ শতাংশ মানুষের বেশি মানুষ ল্যাকটোজেন ইনটলারেন্ট, অর্থাৎ, ল্যাকটোজেন সহ্য করতে পারে না। এর ফলে বদহজম, ডায়রিয়া, পেটে সমস্যা ইত্যাদি হয়ে থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত দুধ পান করার সাথে প্রোস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে।

মিথ ৪—‪স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য বাচ্চাদের দুধ দরকার

বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বয়স পার হয়ে গেলে তাদের স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য আর কোনো ধরনের দুধের প্রয়োজন নেই। শিশুবয়সে দুধ পান করার কারণে পেট ব্যাথা এমনকি টাইপ ১ ডায়াবেটিস হতে পারে।
লো-ফ্যাট দুধ শিশুদের অবেসিটি বা স্থূলতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে বলে শোনা যায়, গবেষণায় দেখা গেছে এর কোনো ভিত্তি নেই।

মিথ ৫—‪দুধ হার্টের জন্য ভালো

আর্টারি বন্ধ করে এমন ফ্যাটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে দুগ্ধজাত খাবার। দুগ্ধজাত পণ্যে কোলেস্টেরল থাকে, প্রচুর ফ্যাট থাকে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আর কোলেস্টেরল হার্টের অসুখের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ায়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক