সাবমেরিন হত্যাকাণ্ড: দ্বীপে মুণ্ডুহীন লাশ—সাংবাদিক কিম ওয়ালের ডিএনএ শনাক্ত

শেয়ার করুন!

১০ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে উদ্ভাবক পিটার ম্যাডসেনের সাথে তার সাবমেরিনে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন সুইডিশ সাংবাদিক কিম ওয়াল। বিশ্বের সবচাইতে বড় ব্যক্তি মালিকানাধীন এই সাবমেরিনের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা ছিল যাত্রার উদ্দেশ্য।

পরে সেই সাবমেরিন ডুবে যায় এবং পিটারকে উদ্ধার করা হলেও কিম নিখোঁজ হয়ে যান। পিটার প্রথমে জানান, তাদের যাত্রা শুরু হবার সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর কিমকে কোপেনহেগেনের একটি দ্বীপের পোতাশ্রয়ে নামিয়ে দেন তিনি।

কিন্তু গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, সাবমেরিনে থাকাকালীন কিম ওয়াল এক ‘দুর্ঘটনা’য় মারা গেছেন। তার লাশ তিনি সাগরে ফেলে দিয়েছেন।

এবার ড্যানিশ পুলিশ কোপেনহেগেনের কাছাকাছি একটি দ্বীপ থেকে মাথাকাটা এক লাশের সন্ধান পেয়েছেন। পরীক্ষার পর তাতে কিম ওয়ালের ডিএনএ শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া সাবমেরিন থেকে পাওয়া রক্তের সাথেও কিমের ডিএনএ মিলে যায়।

কিম ওয়াল

ড্যানিশ পুলিশ বাহিনির প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোলার জেনসেন বলেন, পানিতে ফেলার আগে লাশটিতে ছিদ্র করে ভেতরের বাতাস সব বের করে দেওয়া হয়েছে যাতে তা ভেসে না উঠতে পারে।

পিটার ম্যাডসেন

পিটার ম্যাডসেনের আইনজীবী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের ব্যাপারে অসম্মতি না জানালেও অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন তার মক্কেল।

ম্যাডসেন ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে জনসাধারণের অর্থসাহায্যে ডুবে যাওয়া ‘নটিলাস’ সাবমেরিনটি নির্মাণ করেন ২০০৮ সালে। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে স্বেচ্ছাসেবীদের সেই বোর্ড সদস্যদের মধ্যে কলহ বাঁধে। এরপর তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সাবমেরিনটির মালিকানা পিটারের কাছে অর্পণ করা হয়।

২০১৫ সালে দুইজন বোর্ড মেম্বারকে একটি টেক্সট মেসেজ পাঠান পিটার। তাতে লেখা ছিল : “নটিলাস অভিশপ্ত।” এরপর তিনি বলেন, “আমিই সেই অভিশাপ। আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন কখনোই নটিলাসে শান্তি ফিরে আসবে না।”

২০০৮ সালে সাবমেরিন ‘নটিলাস’ এর সাথে পিটার ম্যাডসেন

একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসাবে নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং গার্ডিয়ানের হয়ে কাজ করেছেন কিম ওয়াল। ইউএসের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ জার্নালিজমের প্রাক্তন ছাত্রী ছিলেন তিনি। সেখানকার সহপাঠীরা ২৪ আগস্ট তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করেন। তার মা একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, “আমার মেয়ে সবসময় দুর্বল, ভঙ্গুর ও প্রান্তিক মানুষদের পক্ষে কথা বলত। তার দীপ্ত কণ্ঠ এই পৃথিবীর জন্য খুবই দরকার ছিল, কিন্তু আজ সেই কণ্ঠ নীরব হয়ে গেছে।”

সূত্র. গার্ডিয়ান সিএনএন

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here