page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

নতুন এনজাইম: খুব শীঘ্রই যে কেউ যে কাউকে রক্ত দিতে পারবে!

আপনার বা আপনার কাছের কারো রক্তের দরকার হলে, যদি হাসাপাতাল বা জায়গা মত রক্ত না পাওয়া যায় তাহলে কী মারাত্মক বিপদ ঘটে সে কথা চিন্তা করুন।

দিনের পর দিন বিজ্ঞানীরা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। ধারণা হচ্ছে, এবার তারা আসলেই সফল হতে চলেছেন।তারা  রক্তের একটা এনজাইম পরিবর্তন করে ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপের রক্ত থেকে অ্যান্টিজেন সরিয়ে এটিকে ‘ও’ গ্রুপের মত সার্বজনীন দাতা গ্রুপে পরিণত করতে পেরেছেন। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের অ্যান্টিজেন হচ্ছে রক্তের সুগার। এটি রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে। ৪ টি গ্রুপের রক্তের কোষে এসব অ্যান্টিজেনের একটি, সবগুলি অথবা একটিও নাও থাকতে পারে। রক্তের গ্রুপগুলি হচ্ছে—’এ’, ‘বি’, ‘এবি’ এবং ‘ও’। এই অ্যান্টিজেনই নির্ধারণ করে দেয় কোন গ্রুপের রক্ত আপনি গ্রহণ করতে পারবেন আর কোন গ্রুপে আপনি রক্ত দিতে পারবেন।

সুতরাং, যতক্ষণ একজনের রক্তে অ্যান্টিজেন উপস্থিত তখন অন্য যেকোন প্রকার রক্ত তাকে দেওয়া হলে তার জীবন ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

blodd-3

১৯৮০ সাল থেকে রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে এই ধারণা প্রচলিত। সেসময় নিউ ইয়র্কের একটা গবেষণা দল দেখাতে সক্ষম হয়েছিল যে গ্রিন কফির দানা থেকে পাওয়া একটা এনজাইম রক্তের লোহিত কণিকা থেকে বি অ্যান্টিজেন সরাতে পারে। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায়, যাদের রক্তের গ্রুপ আলাদা তাদের শরীরেও এই রক্ত প্রবেশ করালে কোনো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হয় না। তবে সিদ্ধান্তে আসার জন্য এই পরীক্ষাটি যথেষ্ট ছিল না। এই প্রক্রিয়াকে পুরপুরি বাস্তব করতে প্রয়োজন ছিল আরো অধিক পরিমাণে, প্রচণ্ড তাপমাত্রায় সব গ্রুপের রক্তের পরিবর্তন করা।

এবার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি এনজাইম তৈরি করেছেন। এটি সম্ভবত এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটি একই ভাবে কাজ করে । প্রথমে অ্যান্টিজেন সরায়। তারপর কার্যকরীভাবে ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের রক্তকে ‘ও’ গ্রুপে রূপান্তরিত করে।

গবেষকদের একজন, স্টিভ উইদার্স বলেন, এই ধারণাটি নতুন নয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটিকে কার্যকর করতে আমাদের এত বেশি পরিমাণ এনজাইম দরকার হয়েছে, যাতে মনে হয়েছে এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি ব্যাপার। এখন আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা সম্পূর্ণরুপে এটিকে কার্যকর করতে পারব।

গবেষণা দলটি এই এনজাইম তৈরি করেছে ‘নিয়ন্ত্রিত বিবর্তন’ বা ‘ডিরেক্টেড এভ্যুলুশন’ হিসেবে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এটি প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি পদ্ধতি এবং প্রাকৃতিক বাছাইয়ের উপর নির্ভরশীল। একটি মূল এনজাইম দিয়ে শুরু করে বিজ্ঞানীরা জিনের মধ্যে এর জন্য কোড করা মিউটেশন (জিনের রাসায়নিক পরিবর্তন) প্রবেশ করিয়ে দেন। অ্যান্টিজেন অপসারণে সবচেয়ে বেশি কার্যকর মিউটেন্ট বাছাই করে এবং বার বার এই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করে গবেষকরা মাত্র ৫টি প্রজন্মের বেশি সময়ে এনজাইমটিকে ১৭০ গুণ বেশি কার্যকর করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

গবেষণাটির প্রধান উদ্ভাবক এবং রসায়ন বিভাগের একজন পোস্টডক্টরাল গবেষক ডেভিড কোয়ান বলেন, আমরা একটি মিউটেন্ট এনজাইম উৎপন্ন করেছি যা ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপ রক্ত থেকে সুগার সরিয়ে ফেলতে খুবই কার্যকর, এবং এ অ্যান্টিজেনের অন্যান্য উপাদানের সাথে লড়াই করে সেগুলিকে দূর করতেও সক্ষম। দূর করতেও আরো বেশি পারদর্শী যার সাথে মূল এনজাইমটি লড়াই করে।

তবে তাদের কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয় নি। এনজাইমটি ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের রক্ত থেকে অ্যান্টিজেনসমূহের বেশিরভাগ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও সেগুলি সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করতে এখনো সক্ষম নয়। যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রক্তের গ্রুপের উপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল, তাই বিজ্ঞানীরা সকল অ্যান্টিজেনের অনুপস্থিতিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করতে চাইছেন। কারণ অল্প পরিমাণে অবশিষ্ট অ্যান্টিজেন মারাত্মক শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

About Author

সাইফুদ্দীন মাছুম

জন্ম. চাঁদপুর, ১০ জানুয়ারি ১৯৯৩