page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান—এবার মিললো দরজা

প্রথমে একটা ডানার টুকরা, তারপর বালুর মধ্যে প্লেনের একটা আসন ও স্যুটকেস। আর এবার মিললো প্লেনের দরজা। ভারত মহাসাগরের রিইউনিয়ন দ্বীপ থেকে একের পর এক যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো প্রায় সোয়া বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মালয়েশীয় বিমানের বলে জোর অনুমান।

রিইউনিয়ন দ্বীপের সেইন্ট আঁদ্রে শহরের পরিবেশকর্মী জনি বেগু জানান, তাদের ৮ জনের টিম যথারীতি বুধবার সকালে কোস্ট লাইন পরিষ্কারের কাজে নেমেছিলেন ভোর ৭টায়। বেগুরা ৩ বছর যাবৎ এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সকাল নয়টার বিরতির সময়ে তিনি উপকূল ধরে হাঁটছিলেন বাড়ির জন্যে মশলা গুড়া করার একটা সাইজ মতো পাথরের খোঁজে। তখন তিনি পানির মধ্যে নুড়ি পাথরের উপরে বিমানের একটি খণ্ড দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বেগু সহকর্মীদের নিয়ে ডানার টুকরাটি পানি থেকে তুলে আনেন, যাতে এটা ঢেউয়ের তোড়ে দ্বীপের আগ্নেয় শিলার ওপর আছড়ে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে না যায়।

কথা বলছেন জনি বেগু

কথা বলছেন জনি বেগু

তিনি জানান, খণ্ডটি আকার, বক্রতা আর জংহীন স্ক্রু দেখা মাত্রই তিনি বুঝতে পারছিলেন, এটি সদ্য ভাঙা কোনো বিমানের টুকরা।

পরে বেগু স্থানীয় রেডিও স্টেশনে ফোন করেন। ফোন করার পর সব তৎপরতা শুরু হয়।

তার এক সহকর্মী টেডি রিভিয়েরের কাছ থেকেও একই বিবরণ পাওয়া গেছে। তবে টুকরাটি প্রথম কে আবিষ্কার করেছিল, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ মুখ খোলে নি।

সেখান থেকে পরদিন আট ফুট দূরে একটি স্যুটকেসও আবিষ্কার করেন বেগু।

debris-56

পানিতে বিমানের ভাঙা টুকরাটি আবিষ্কারের পরে জনি বেগু ও তার বন্ধুরা এটিকে উঁচুতে এনে ফুল ও লতা দিয়ে সাজিয়েছিলেন।

তিন দিন আগে দ্বীপের যে জায়গা থেকে ডানার টুকরা পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে রোববার সকালে পাওয়া গেছে এবার প্লেনের দরজাটি। আর গতকালই আরেক স্থানীয় অদিবাসী দাবি করেছেন, কিছুদিন আগে তিনি বালুর মধ্যে বিমানের একটি আসন পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তখন তার মাথায় অবশ্য আসে নি, এটি ওই মালয়েশীয় বিমানের আসন হতে পারে। ডানা আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার মাথায় বিয়ষটি খেলা করছে।

ডানার টুকরাটি এরই মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্যারিসে। সেখানে বুধবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে এটি ‘এমএইচ-থ্রি সেভেন জিরো’ নামের হতভাগ্য বিমানটিরই টুকরা কিনা। এবার ডানার টুকরার পথ অনুসরণ করবে দরজা।

malaysian-345

মালয়েশিয়ান বিমান MH370

biman

বিমানের ডানার খণ্ডাংশ

door-567

অনেকের ধারণা এটি মালয়েশিয়ান বিমানের দরজার অংশ

২০১৪ সালের ৮ মার্চ রাডারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ২২৭ জন যাত্রীবাহী এই মালয়েশীয় বিমানের। বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাচ্ছিল।

malaysian-346

কো-পাইলট ফারিক আবদুল মালিক ও পাইলট ক্যাপ্টেন যাহারি আহমেদ শাহ

বহুদিন আতিপাতি অনুসন্ধান চালিয়েও এটির সন্ধান পাওয়া যায় নি। অনুমান করা হয়ে থাকে, এটি সাগরের পানিতে আছড়ে পড়ে গভীরে কোথাও তলিয়ে গেছে।

কিন্তু কোন জায়গায় সাগরের তলায় এটি পড়ে আছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমনকি রিইউনিয়ন দ্বীপের সৈকতে পাওয়া টুকরগুলি ওই বিমানের বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও মূল বিমান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। কেননা গত এক বছরে সমুদ্র তলের স্রোতে টুকরাগুলি হাজার হাজার মাইল পথ সরে গিয়ে থাকতে পারে।

এমনকি মাদাগাস্কারের পার্শ্ববর্তী এই দ্বীপের আশপাশেই কোথাও প্লেনটি পানিতে আছড়ে পড়েছে, এমন নাও হতে পারে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক