page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

নেটফ্লিক্স অডিশনে শিশুদের সঙ্গে ‘নিষ্ঠুর’ ছলনার কথা অস্বীকার করলেন অ্যানজেলিনা জোলি

অ্যানজেলিনা জোলি পরিচালিত পরবর্তী সিনেমার প্রযোজক হিসাবে আছে নেটফ্লিক্স। সিনেমাটির গল্প কম্বোডিয়ার ‘খেমার রুজ গণহত্যা’ নিয়ে—নাম ‘ফার্স্ট দে কিলড মাই ফাদার’।

এই সিনেমার অভিনেতা নির্বাচনে কম্বোডিয়ার কয়েকজন অনাথ শিশুর অডিশন নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিনে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জোলি বলেন, মূল চরিত্রের জন্য মেয়েদের অডিশন নেওয়ার সময় তাদেরকে একটি খেলায় অংশ নিতে বলা হয়। যেখানে তাদেরকে প্রথমে টাকা দিয়ে পরে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

২৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবার পর থেকে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। পিয়ার্স মরগান ও কে বার্লির মত টেলিভিশন ব্যক্তিত্বরা টুইটারে শিশুদের সাথে এরকম ‘মনস্তাত্ত্বিক খেলা’কে ‘আতঙ্কজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

‘ফার্স্ট দে কিলড মাই ফাদার’ ছবির সেটে অ্যানজেলিনা জোলি।

ইউকে’র ‘মেট্রো ডট কমে’র তথ্য মতে, জাতিসঙ্ঘের শুভেচ্ছেদূত জোলি—যিনি নানা রকম দাতব্য কাজের সাথে জড়িত আছেন—মিডিয়ার এ রকম আলোচনার জবাবে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাচ্চাদের সাথে টাকা দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অভিনয়ের অংশ ছিল; যা মূল সিনেমার একটি দৃশ্য। তার এই প্রক্রিয়াকে ভুল ব্যাখ্যা করে ‘নিষ্ঠুর’ ও ‘স্বার্থান্বেষী’ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। “বাচ্চাদের হাতে আসল টাকা দিয়ে পরে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—এরকম অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দুঃখজনক। এমন কিছু হলে আমি নিজেই ক্ষুব্ধ হয়ে যেতাম,”—বলেন তিনি।

৩ আগস্ট ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ জানায়, অ্যানজেলিনার আইনজীবী তাদের সাথে যোগাযোগ করে সেই প্রতিবেদনের কিছু অংশ সংশোধন করার আহ্বান জানান। আইনজীবী দাবি করেন, ভ্যানিটি ফেয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর  ইভজেনিয়া পেরেয ‘ভুলক্রমে’ জোলির কিছু বক্তব্য বিকৃত করে ফেলেছিলেন। কাজেই ম্যাগাজিনের নতুন সংস্করণে সেটুকু অংশ পরিবর্তন করে পাঠকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। অডিশনের সময় শিশুরা সিনেমার কাল্পনিক সব দৃশ্যপটের ব্যাপারে অবগত ছিল এবং তাদের পরিচর্যার জন্য আত্মীয় ও এনজিও’র অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন—এ তথ্যগুলি সেই সংশোধনীর সাথে যুক্ত করে দিতে বলা হয়।

কিন্তু ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ সেই সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি এবং অডিও রেকর্ডিং পুনর্নিরীক্ষণের পর জানায়, সেগুলি পেরেজের মূল লেখার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কাজেই ইতোপূর্বে প্রকাশিত লেখায় কোনোপ্রকার পরিবর্তন আনা হবে না।

লুয়োং আং এর আত্মজীবনীমূলক বই অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। পরিচালনার পাশাপাশি মূল লেখকের সাথে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন জোলি নিজেই।

অডিশনের মাধ্যমে সেরে মোশ নামের একটি মেয়েকে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়। জোলির ভাষ্যমতে, সে-ই একমাত্র মেয়ে যে কিনা “অনেক দীর্ঘ সময় ধরে টাকাটার দিকে তাকিয়ে ছিল। পরে তা ফেরত দিতে বলা হলে সে আবেগে অভিভূত হয়ে পড়ে। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তার কেন টাকা প্রয়োজন, সে উত্তরে জানায়—তার দাদা মারা গেছেন। ভাল করে তার শেষকৃত্য করার জন্য কোনো টাকা-পয়সা নাই তাদের।”

জনকল্যাণে নিয়োজিত এই অভিনেত্রী ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গর্ব করে বলেন, সিনেমার নির্মাতারা অভিনেতাদের খোঁজে অনেক বস্তি ও অনাথ আশ্রম ঘুরে দেখেছেন। তারা এমন শিশুদেরকে খুঁজছিলেন, যারা সত্যিকার অর্থেই একটা কষ্টকর অতীত পার করে এসেছে।

জোলি আরো জানান, অডিশনের শুরু থেকে সিনেমার শুটিং চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময়েও জড়িত সকল শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

শিশুকালে কম্বোডিয়া গণহত্যার স্বাক্ষী মানবাধিকার কর্মী লুয়োং আং এর আত্মজীবনীমূলক বই অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। পরিচালনার পাশাপাশি মূল লেখকের সাথে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন জোলি নিজেই। ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি দেওয়া হবে।

একটি ছোট মেয়ের চোখে কম্বোডিয়ার এই ভয়ঙ্কর অধ্যায় তুলে ধরার মাধ্যমে খেমার রুজ গণহত্যা নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে চান জোলি; যেন কম্বোডিয়ার অধিবাসীরাও তাদের এই দুঃখজনক ও অবিস্মরণীয় সময় নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পারে।

(ছবির ট্রেইলার)

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply