পরাশক্তি হতে ব্যাকুল নয় রাশিয়া, রাশিয়া চায় সম্মান – পুতিন

সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি বিজনেস ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া আক্রমণাত্মক কিছু করছে না বা সুপার পাওয়ারের মর্যাদার জন্যেও ব্যাকুল নয় রাশিয়া। বরং রাশিয়া কেবল আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে সম্মানিত থাকতে চায়।

fio1

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে আগত সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রসোয়া ফিয়োঁর সঙ্গে করমর্দন করছেন ভ্লাদিমির পুতিন

সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের একটি পূর্ণ সেশনে পুতিন বলেন, রাশিয়া সম্পর্কে সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রসোয়া ফিঁয়োর “রাশিয়া বেশি বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছে” বক্তব্যের সাথে তিনি একমত নন।

“আমরা আক্রমণাত্মক আচরণ করছি না। আমরা শুধু দৃঢ়ভাবে ও স্থায়ীভাবে আমাদের আগ্রহের বিষয়গুলিকে অন্যদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে শুরু করেছি।”

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, “রাশিয়া কর্তৃত্ব অথবা সুপারপাওয়ারের মত অস্থায়ী কোনো স্ট্যাটাসের জন্য ব্যাকুল নয়।”

“আমরা কারো আচরণ এবং উন্নয়নের ওপর কোনো স্ট্যান্ডার্ড বা মডেল চাপিয়ে দেই না। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবার সাথে সমান সম্পর্ক রাখতে চাই—যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান এবং এশিয়ান সব সহযোগীদের সাথে সমান সম্পর্ক রাখতে চাই।”

রাশিয়ান নেতা বলেন, “রাশিয়া অপমানিত হতে চায় না।”

“আমি সবসময় শুনি যে রাশিয়া সম্মানিত হতে চায়। এবং কে-ই বা তা চায় না? কে অপমানিত হতে চায়? এটি অর্থহীন একটি প্রশ্ন। সম্মানিত হতে চায়ে রাশিয়া আলাদা কিছু দাবি করছে না।”

putin-12

১৯ তম সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনোমিক ফোরামে আগতদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ১৯ জুন ২০১৫।

পুতিন সতর্ক করেছেন ওয়াশিংটন এবং তার জোটের অন্যান্যরা রাশিয়ার সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত কথাবার্তা বলার চেষ্টা করছে।

“সমস্যা হলো তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সবসময়ই চেষ্টা করছে তাদের স্ট্যান্ডার্ড এবং সিদ্ধান্ত কোনো বিবেচনা ছাড়াই আমাদের নিজস্ব বিষয়ের ওপর চাপিয়ে দিতে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যেমন তারা বলে, ‘আমরা বেটার’ যেন আমাদের জন্য কী ভালো তা যুক্তরাষ্ট্র [রাশিয়ার চেয়ে] ভালো জানে। ঠিক আছে, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী আমাদের আগ্রহ কোন বিষয়ে এবং আমাদের কী প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

‘রাশিয়া দোনবাসকে চাপ দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উচিৎ কিয়েভকে চাপ দেয়া’
বারবার মস্কোকে বলা হয়েছে ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে বিদ্রোহীদের চাপ দেওয়ার কথা, সেক্ষেত্রে পূর্ব ইউক্রেনের এই রক্তাক্ত সংঘর্ষ থামানোর জন্যে পশ্চিমাদেরও উচিত কিয়েভকে চাপ দেয়া।

দোনবাস যুদ্ধ

দোনবাস যুদ্ধ

পুতিন বলেন, “আমরা [দোনবাস যোদ্ধাদের] নিরস্ত থাকার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু শুধু আমাদের এই চাপে [ইউক্রেনের] দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের সমস্যার সমাধান সম্ভব না।”

এটা [কিয়েভকে চাপ দেয়া] আমাদের কাজ না। এটা করতে হবে আমাদের পশ্চিমা সহযোগীদের—ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের। আসুন এক সাথে কাজ করি।

রাশিয়া এবং ইউক্রেন নিজেদের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও, একই ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক মূলের কারণে এখনো এক জাতি, একই গোষ্ঠী। যাই ঘটুক না কেন শেষ পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেনের জন্য একই ভবিষ্যত নির্ধারিত রয়েছে। বলেন পুতিন।

‘রাশিয়া চায় না সিরিয়াতে ইরাক এবং লিবিয়ার পুনরাবৃত্তি হোক’
পুতিন বলেন, ক্রেমলিন সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে সমর্থন করে এবং সিরিয়া ইরাক এবং লিবিয়ার মত অশান্তি ও সন্ত্রাসে ধ্বংস হোক তা চায় না।

putin-13

১৯ তম সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনোমিক ফোরামের ওয়ার্কিং লাঞ্চ, ১৯ জুন ২০১৫।

“ইরাকে আগের সরকার কাঠামোগুলিতে এবং সাদ্দাম হোসেন নিজেকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে নেয়ার আগে সেখানে কোনো সন্ত্রাস ছিল না। এ কথা ভুলবেন না। সাধারণত অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। এই অঞ্চলে সন্ত্রাসের বৃদ্ধি কে করলো এবং কীভাবে হলো? এটা কি স্পষ্ট নয়? পশ্চিমা জোট ইরাক আক্রমণ করার পরে সবাই বিচ্ছিন্ন হল, সবকিছু ধ্বংস হলো, সাদ্দামকে ফাসিতে ঝুলানো হলো। এরপরে কী ঘটলো? এর পরে আইসিসের আগমন ঘটলো।”

“লিবিয়াতে কী হচ্ছে? রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়েছে।”

‘আইসিসের মত চূড়ান্ত অশুভ শক্তির সাথে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ বাড়তি কিছু উদ্যোগ নেওয়া’
যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে এবং অস্ত্র দেয় কিন্তু ইসলামিক স্টেট (আইএস, সাবেক নাম আইসিস/আইএসআইএল) ইরাকি বাহিনীর কাছে থেকে প্রচুর অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়, বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

পুতিন বলেন, “এখন আইসিস ইরাক সেনাবাহিনীর চাইতে অস্ত্রের দিক দিয়ে বেশি সজ্জিত। এবং যুক্তরাষ্ট্রের বদৌলতে এটা ঘটেছে। এর ফলাফল কী? খুবই দুঃখজনক এবং খুবই স্পর্শকাতর।

সবশেষে পুতিন বলেন, রাশিয়া তার সহযোগীদের আহবান জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন উভয়কেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে আহবান করছে চূড়ান্ত অশুভ শক্তির সাথে লড়াই করার জন্য। চূড়ান্ত অশুভ শক্তি বলতে আমরা মনে করি মৌলবাদীতা ও তথাকথিত ইসলামিক স্টেট অথবা একই ধরনের অন্য সংগঠনগুলিকে, যেগুলি যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার আঘাত করা আন্তর্জাতিক মণ্ডলে পরিচিত সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য ।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply