page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

প্রতিদিন আপনার কত ঘণ্টা ঘুম দরকার

রাতে ঘুমানো বাদ দেয়াটা কোনোভাবেই ভালো কাজ নয়। কারণ এতে আপনার শরীরের স্বাভাবিক রেস্ট-সাইকেল বিঘ্নিত হয় এবং ঘুমের মধ্যে আপনি অস্বাভাবিক স্বপ্ন দেখেন। এই প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক প্রতি রাতে আপনার আসলে কতটুকু ঘুম দরকার? এক কথায় উত্তরটি হলো, সাত থেকে নয় ঘণ্টা। কেন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম দরকার চলুন দেখি।

কতটুকু ঘুম দরকার

কতটুকু ঘুম আপনার দরকার তার জন্য আপনি ‘Sleep’ লিখে গুগল সার্চ দিলে অসংখ্য ফাউন্ডেশন, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ডিপার্টমেন্টের লিঙ্ক পাবেন। আর এই লিঙ্কগুলি বছরের পর বছর একটা ব্যাপার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। তা হলো, সুখী সমাজ মানে ভালো ঘুমাতে পারা একটা সমাজ!

গুগলে উইকিপিডিয়ার পরেই যে রেজাল্ট পাওয়া যাবে তা হল, ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন। এটা একটি স্বাধীন দাতব্য সংস্থা। সেখানে থাকছে জীবনের কোন ধাপে আপনার কতটুকু ঘুম দরকার।

• পূর্ণবয়স্ক (১৮+) — ৭-৯ ঘণ্টা
• কিশোর বয়স (১১-১৭ বছর) — ৮.৫-৯.৫ ঘণ্টা
• স্কুলে যায় এমন শিশু (৫-১০ বছর) — ১০-১১ ঘণ্টা
• স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি এমন শিশু (৩-৫ বছর) — ১১-১৩ ঘণ্টা
• ১-৩ বছরের বাচ্চা — ১২-১৪ ঘণ্টা
• নবজাতক (৩-১১ মাস) — ১৪-১৫ ঘণ্টা
• নবজাতক (০-২ মাস) — ১২-১৮ ঘণ্টা

উপরে উল্লেখিত ঘুমের সীমাগুলি এমন না যে আপনি এই সীমার মধ্যে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ঘুমানোর পরিমাণ বেছে নিতে পারবেন। এই সীমার মধ্যে আপনি আপনার প্রতিদিন যে ঘুমটুকু দরকার সেইটুকু এবং আগের বাকি পড়া ঘুম ঘুমিয়ে নিতে পারবেন।

ঘুমের প্রয়োজন এবং ‘বাকি পড়া ঘুম’

প্রতিদিন আপনার কতটুকু ঘুম দরকার তা আপনার উপর নির্ভর করে। এটা আপনার শরীর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এই পরিমাণ ঘুম প্রতিরাতে আপনার শরীর চায়। যে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি প্রতিরাতে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুম ঘুমায় সে সারাজীবন ধরেই সঠিক বিশ্রামের চক্রে থাকে।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে কেউ-ই প্রতিটি আলাদা রাতে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমায় না বা ঘুমাতে পারে না।

সে কারণেই ‘স্লিপ ডেবিট’ বা বাকি পড়া ঘুমের প্রসঙ্গ আসে। ‘স্লিপ ডেবিট’ বা ‘ঋণ ঘুম’ হচ্ছে আপনার শরীর আপনার কাছে যে পরিমাণ ঘুম পায়। আপনি যদি অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন তাহলে আপনার অ্যাটেনশন স্প্যান এবং শরীরের শক্তিতে বেশ কয়েকদিন তারতম্য ঘটবে অথবা দিনে ঘুম অতিরিক্ত বেশি হবে। তবে এই বাকি পড়া ঘুম ঠিক পরের রাতেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। সাথে সাথে এটাও মনে রাখা ভালো যে, সবসময় এই ঘুম পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না।

বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় এই বাকি পড়া ঘুম এবং অতিরিক্ত ঘুম সমান হয় না। ঘুমের প্রথম অল্প কয়েক ঘণ্টা এই বাকি পড়া ঘুমের বদলি ঘুম হয়, অর্থাৎ ‘ডেবিট স্লিপ’। কিন্তু যদি বাকি পড়া ঘুমের পরিমাণ অল্প কয়েক ঘণ্টার বেশি থাকে তাহলে তার সবটুকু পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক