প্লাস্টিকখোর শুঁয়াপোকা: প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যার হঠাৎ সমাধান!

শেয়ার করুন!

বাজারের ব্যাগ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত পলিথিন পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে শুঁয়াপোকা। অপ্রত্যাশিত এক আবিষ্কারের পর এমনই মনে করছেন একদল বিজ্ঞানী।

‘গ্রেটার ওয়াক্স মথ’ বৈজ্ঞানিক নামের এক শুঁয়াপোকার খোঁজ তারা পেয়েছেন যা প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে। মূলত মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই পোকাগুলি।

আবিষ্কারের গল্পটি অবাক করার মতো। ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার সাথে জড়িত দলের একজন ফেদেরিকা বার্তোচ্চিনি। বার্তোচ্চিনি শৌখিন মৌচাষী। তার মৌচাকে পরজীবী হিসেবে এই শুঁয়াপোকা বাসা বাঁধলে তিনি সেগুলি সরিয়ে একটা প্লাস্টিক ব্যাগে সংগ্রহ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেখতে পান পোকাগুলি প্লাস্টিক খেয়ে ছিদ্র করে ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসছে!

ফেদেরিকা বার্তোচ্চিনি

এই ঘটনায় উৎসাহী হয়ে দ্রুত তার দল বাজার থেকে একটা পলিথিন ব্যাগ কিনে আনে এবং তাতে শ’ খানেক শুঁয়াপোকা রেখে দেয়। তারা দেখতে পায়, ৪০ মিনিটের মাথায় পলিথিনগুলিতে ছিদ্র হওয়া শুরু করে এবং খুব দ্রুত হারে তা বাড়তে থাকে।

পলিথিন ক্ষয়ের এই পদ্ধতি আগে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলির তুলনায় অনেক দ্রুত ও কার্যকর। ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯২ মিলিগ্রাম প্লাস্টিক পদার্থ খেয়ে ফেলে এই শুঁয়াপোকা। ব্যাকটেরিয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে এর আগে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ০.১৩ মিলিগ্রাম প্লাস্টিক পদার্থ নষ্ট করা সম্ভব হয়েছিল।

গবেষক দলটি জানান, শুঁয়াপোকাগুলি মূলত প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক যৌগ ‘পলিথিলিন’কে ‘ইথিলিন গ্লাইকল’-এ রূপান্তরিত করে ফলে।

প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে পুরাপুরি ধ্বংস হতে সময় নেয় ১০০ থেকে ৪০০ বছর। প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণের জন্য তাই অনেকাংশেই দায়ী করা হয় পলিথিনকে।

গবেষক দলটির মতে, প্লাস্টিক খেয়ে হজম করতে গিয়ে শুঁয়াপোকাগুলি আসলে প্লাস্টিকের রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে দিচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়া পলিথিলিন ধ্বংস করার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মতোই।

তারা মনে করেন, এই পোকার লালা থেকে বের হওয়া একটি নির্দিষ্ট এনজাইম এই রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে থাকে। ফলে এই বিক্রিয়ার পুরো প্রক্রিয়াটুকুকে শনাক্ত করাই এখন তাদের পরবর্তী কাজ।

তাদের মতে, এই বিক্রিয়ার জন্য দায়ী এনজাইমকে আলাদা করতে পারলেই জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় স্কেলে তা উৎপাদন করাও সম্ভব হবে। ফলে সমুদ্র এবং অন্যান্য স্থানে বর্জ হিসেবে জমে থাকা প্লাস্টিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে তখন।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here