অর্থাৎ, অ্যাকিউজড ফিল্মের রেইপ দৃশ্যখানা তারা দেখেছেন। এই দৃশ্য খুবই জনপ্রিয় হইছে, এবং ফিল্মের চাইতেও বেশি।

সাম্প্রতিকে সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যাকিউজড  ফিল্ম নিয়ে একটি লেখা আমার ভালো লেগেছে এবং তাতে আমার প্রায় অমূল্যের কাছাকাছি একটি লাইকও দিয়েছিলাম গতকাল।

আমি ফিল্মটি দেখি নি, কিন্তু এই আলোচনার প্রেক্ষিতে কথাপ্রসঙ্গে এক বন্ধুর সাথে কথাবার্তা হচ্ছিল এ নিয়ে।

বন্ধুটি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা জোডি ফস্টারের ফিল্ম কি না। আমি বললাম হ্যাঁ, এটাই। দেখছেন নাকি?  তিনি বললেন, না, তবে সীনটা দেখছি। পুরা সেই। আমারে অমুক দিয়েছিল। তারে দিয়েছিল তমুক।

অর্থাৎ, অ্যাকিউজড ফিল্মের রেইপ দৃশ্যখানা তারা দেখেছেন। এই দৃশ্য খুবই জনপ্রিয় হইছে, এবং ফিল্মের চাইতেও বেশি। অনেক অনেক বেশি মনে হয়। ফলে, যাদের রেইপ ফ্যান্টাসি আছে তারা তা দেখে মজা নিছেন।

কিন্তু মুভিটি ছিল রেইপের বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ মুভি। আয়রনি, তার একটি অংশই রেইপ ফ্যান্টাসিওয়ালাদের বিনোদন বস্তু হইয়া উঠল। রেইপ ফ্যান্টাসিওয়ালা বলতে বোঝাইতেছি যেসব পুরুষের মহিলাকে রেইপ করার ফ্যান্টাসি আছে তাদের। এটা পরিষ্কার করতে হলো কারণ রেইপ ফ্যান্টাসি বলতে, যেসব মহিলাদের রেইপ হইবার ফ্যান্টাসি আছে বা যেসব পুরুষের মহিলাদের দ্বারা রেইপ হইবার ফ্যান্টাসি আছে তাদেরও বোঝায়। কিন্তু আমি এখানে শেষের দুই দলকে বোঝাইতেছি না।

‘দি অ্যাকিউজড’ (১৯৮৮) ছবিতে জোডি ফস্টার।

আমার মনে পড়ল ব্ল্যাক মিরর সিরিজের ফিফটিন মিলিয়ন মেরিটস পর্বের কথা। সেখানে দেখানো হইছিল এক ডিস্টোপিয়ান সাই ফাই জগৎ। মানুষ থাকে ছোট ছোট সেলে। তারা এক্সারসাইজ বাইকে সাইকেল চালায় আর এর ফলে পয়েন্ট জমা হয়। এই পয়েন্ট ব্যয় কইরাই তারা চলে। তাদের সামনের স্ক্রিনে নানা বিরক্তিকর  বিজ্ঞাপন ভাইসা ওঠে। এগুলা স্কিপ করতেও পয়েন্ট লাগে।

নায়ক বিং এর বারো মিলিয়ন পয়েন্ট ছিল তার মৃত ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া। সে একদিন টয়লেটে শুনল আবি খান নামের এক মাইয়ার গান। শুইনা তার ভালো লাগল, মাইয়ারেও তার ভালো লাগে। সে আবি খানরে বলল, তুমি হটশটে গিয়া গানের প্রতিযোগিতায় যাইতে পারো।

এই প্রতিযোগিতায় ভালো করে কেউ এই এক্সারসাইজ সাইকেল চালানোর জীবন থেকে মুক্ত জীবনে যাইতে পারত।

আবি না করল। কারণ তার কাছে টিকেটের পয়েন্ট নাই। আমাদের নায়ক বিং বললেন সমস্যা নাই। বিং নিজের পনের মিলিয়ন পয়েন্ট দিয়া কিনে আবি খানরে দিল টিকেট গিফট।

আবি গেল গান গাইতে। বিচারকেরা তার গান শুনলেন। শুইনা তারা বললেন, এই এভাব এভারেজ গায়কির জন্য কোনো জায়গা নাই। এর চাইতে তুমি পর্ন ফিল্মের নাইকা হইতে পারো। দেখতে শুনতে তো ঠিক আছো। তোমার পোশাক খুলো তো দেখি।  

আবি প্রথমে না করে। সে মানতে চায় না। পরে বিচারকেরা নানা কথায় তারে বোঝায়। দর্শকেরা একসাথে তারে চিল্লাইয়া তারে রাজি হইতে বলতে থাকে আর তখন আবি তার মত বদলায় এবং সে যাইতে রাজি হয় পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে।

“তারা এক্সারসাইজ বাইকে সাইকেল চালায় আর এর ফলে পয়েন্ট জমা হয়। এই পয়েন্ট ব্যয় কইরাই তারা চলে। তাদের সামনের স্ক্রিনে নানা বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ভাইসা ওঠে। এগুলা স্কিপ করতেও পয়েন্ট লাগে।”

এইটা দেইখা আমাদের নায়কের অবস্থা কাহিল। সে বড় দুঃখ পায়, দুঃখ পাবারই কথা। বাংলা ব্যান্ডের জগতে একজন প্রতিভাবান শিল্পী হাসান, তার একটা গান ছিল এমন:

সানাইয়ের সুর নিয়ে যাবে দূর
একটু একটু করে তোমায়
আজকে রাতেই তুমি অন্যের হবে
ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়
এত কষ্ট কেন ভালবাসায়…

প্রেমিকার বিয়া হইল যেদিন, সেই রাতেই প্রেমিক দুঃখের সাথে এই গান গাইতেছেন। প্রেমিকার অন্যের সাথে বিয়া হইলেই প্রেমিকের দারুণ কষ্ট, আর সেখানে প্রেমিকা পর্ন অভিনেত্রী হইলে তো দুঃখ আরো বেশি হবে। সে বেশি দুঃখ দেখা যায় নায়ক বিং এর আচরনে।

বিং তখন তার সেলে। সেলের স্ক্রিনে তার প্রেমিকা ঐসব অভিনয়ের বিজ্ঞাপন আসে, এবং এখন বিং এর কাছে পয়েন্টও নাই। ফলে সে বিজ্ঞাপন স্কিপ করতে পারে না। রাগে দুঃখে অভিমানে সে স্ক্রিন ভাঙতে যায়। এবং কিল ঘুষি মারতে মারতে একটু ভেঙে ফেলে। সে দেখে একটা চাকু সাইজের কাচের টুকরা পড়ছে ভাইঙা। এটা দেখে তার মাথায় বুদ্ধি আসে। সে এটা নিজের কাছে রাখে।

“বিং তখন তার সেলে। সেলের স্ক্রিনে তার প্রেমিকার ঐসব অভিনয়ের বিজ্ঞাপন আসে, এবং এখন বিং এর কাছে পয়েন্টও নাই। ফলে সে বিজ্ঞাপন স্কিপ করতে পারে না।”

সে আবার এক্সারসাইজ সাইকেল চালাইতে থাকে। এবার সে বেশি পরিশ্রম করে পয়েন্ট জমায়। জমাইতে জমাইতে আবার একটি হটশট টিকেট মূল্যমানের সমান পরিমাণ টাকা করে ফেলে। সে টিকেট কিনে। তার চাকু সাইজের কাচ লুকাইয়া সাথে নিয়া যায় পারফরমেন্স দেখাইতে। সে একটা অদ্ভুত নাচ নাচে। এবং হঠাৎই কাচ বার কইরা নিজের গলায় ধরে আর বলে, শো বন্ধ করলে আমি এইটা গলায় দিয়া নগদে সুইসাইড করব। আমার কথা তোমাদের শুনতে হবে। আমারে কথা বলতে দিতে হবে।

বিচারকেরা শেষমেশ রাজি হয়।

বিং তার প্রতিবাদী ভাষণ দেয়। সে বলে সিস্টেম কীভাবে দাস বানাইয়া রাখছে, মানুষগুলা কীভাবে খারাপ হইয়া উঠছে, এর থেকে মুক্তি দরকার ইত্যাদি।

তার ভাষণ শুইনা বিচারকদের শরমিন্দা হবার কথা ছিল। কিন্তু এক বিচারক ধূর্ত, সে বলে, আরে এইটা ত দারুণ পারফরমেন্স! এমন আর কেউ হটশটে দেখাইছে কি? ইত্যাদি নানা প্রশংসা কইরা বলে এসবেরও দরকার আছে।

বিচারক বিংরে অফার দেয় একটা নিজের চ্যানেলের, যেখানে বিং একটা শো করবে, গলায় চাকু ধইরা প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভাষণ হবে এর কন্টেন্ট। এবং বিং, যে প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে আসলেই প্রতিবাদ জানাইতে আসছিল, সে লোভে পইড়া যায় ও অফার গ্রহণ করে।

আরো পড়ুন: ‘দি অ্যাকিউজড’—ধর্ষিতা, ধর্ষক ও দর্শক

পরে দেখানো হয় যে বিং তার শো’তে গলায় কাচের টুকরা ধইরা প্রতিবাদী মুখভঙ্গিতে সিস্টেমের বিরুদ্ধে কথা বলে। এরপর কাচটারে একটা বাক্সে রাখে। এবং দেখা যায় সে একটি সেলে আছে যা তার আগের সেল থেকে একটু বড়। বিং এর সত্যিকার প্রতিবাদ এইভাবে বিনোদনের বস্তুতে পরিণত হইয়া উঠে।

অ্যাকিউজড ফিল্মের রেইপ সিনের রেইপ ফ্যান্টাসি বিনোদন বস্তু হিসেবে ছড়াইয়া যাওয়া ফিফটিন মিলিয়ন মেরিটস এর বিং এর প্রতিবাদের বিনোদন হইয়া যাবার মতোই প্রায়। তবে পার্থক্যও আছে। যেমন বিং এর সিদ্ধান্ত ছিল তার নিজের নেয়া। কিন্তু অ্যাকিউজড এর ক্ষেত্রে ঐ রেইপ সিন ছড়াইয়া দেন নাই তার স্রষ্টারা। মূলত, আমি এখানে মাধ্যমটার ব্যাপারে বলতে চাই। যে ডিজিটাল মাধ্যম তার ব্যর্থতা এটা যে তারে কাটা যায়, এবং কেটে এক অংশ আলাদা করে পুরা বস্তু যে জিনিসের বিরুদ্ধে ঐ জিনিসের বিনোদনেই তারে ব্যবহার করা যায়।

আমি রেইপ ফ্যান্টাসি যাদের আছে তাদের সবাইরে দোষ দিচ্ছি না বা বলছি না তাদের ফ্যান্টাসি খারাপ বা ভালো; কারো প্রাইভেট চিন্তাসুখে নৈতিক আপত্তি দান আমার এখতিয়ারের বাইরেরই বিষয়। এদের সবাই অবশ্যই রেইপ করার মানসিকতা কখনোই রাখেন না, এবং হয়ত রেইপের বিরুদ্ধে বাস্তবে। কিন্তু এটা অবশ্যই বলা যায় যে, বাস্তব লাইফের রেইপিস্ট প্রথমত একজন রেইপ ফ্যান্টাসিওয়ালা লোক।