তখন এমন একটা ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল যে, একে অপরের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে মানবজাতি বুঝিবা নিজেদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে।

না। সর্বনাশের ঘড়ির কাঁটা পেছালেন না বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীরা।

‘ডুমসডে ক্লক’ বা কেয়ামতের ঘড়ির সময় এখনও রাত বারোটা বাজতে তিন মিনিট বাকি রাখা হলো, আগের মতোই।

বুলেটিন অব অ্যাটোমিক সায়েন্টিস্ট-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়েছে তো কী হয়েছে, ওদিকে উত্তর কোরিয়া যে হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়ে বসে আছে!

hboms4
১৯৪৬ সালে বিকিনি অ্যাটল-এ আমেরিকার পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পরীক্ষণ। বিস্ফোরণে ২ মিলিয়ন টন পানি ও বালি উৎক্ষিপ্ত হয় আকাশে, যা ৬০০০ ফুট উঁচু, ২০০০ ফুট প্রশস্ত ও ৩০০ ফুট পুরো একটি কলাম তৈরি করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরমাণু যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়। তখন এমন একটা ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল যে, একে অপরের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে মানবজাতি বুঝিবা নিজেদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। সেই কেয়ামতের ক্ষণ কত দূরে সেটা মাপতে ‘ডুমসডে ক্লক’ নামক একটা কাল্পনিক ঘড়ির ধারণা চালু করেন একদল পরমাণু বিজ্ঞানী। প্রতিবছর দুনিয়াবাসীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়, কেয়ামত কতটা নজদিক।

বুলেটিন অব অ্যাটোমিক সায়েন্টিস্ট-এর সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাত বারোটা বাজতে তিন মিনিট (থ্রি মিনিটস টু মিডনাইট) মানে (কেয়ামত) খুব নজদিক, অত্যন্ত নজদিক।’

বিবৃতিতে জানানো হচ্ছে, বুলেটিনের সায়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি বোর্ড সময় নির্ধারণে সর্বশেষ যে বৈঠকে বসেছিল, তাতে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। কাঁটা যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটা কোনো সুসংবাদ নয়। কেননা এ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর দিকে বিশ্বের মনোযোগ নিবদ্ধ করতে কোনো ভূমিকাই পালন করছেন না বিশ্বনেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তি আর প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনের বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার নতুন পরমাণু পরীক্ষার কথা তো বলা হয়েছেই, সেই সাথে সিরিয়া নিয়ে রাশিয়া আর আমেরিকার মধ্যে নতুন করে টানাপড়েন, ইউক্রেনে সংকট ইত্যাদির কথাও বলা হয়েছে। তার মানে ভালোয়-মন্দে কাটাকুটি।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য