page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবী আসলে দুটি গ্রহের যোগফল

চাঁদ কীভাবে গঠিত হয়েছে এ নিয়ে গবেষণারত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে একটা ছোট গ্রহ পৃথিবীতে মুখ থুবড়ে পড়লে চাঁদ তৈরি হয়।

তারা বলেছেন, এই সংঘর্ষ এত মারাত্মক ছিল যে ‘থেইয়া’ নাম দেওয়া যে গ্রহাণুটি পৃথিবীকে আঘাত করেছিল সেটি পৃথিবী ও চাঁদের সাথে একত্রিত হয়ে যায়।

সৌর জগতের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ থেকেই চাঁদের সৃষ্টি—এই ধারণা নতুন নয়। কিন্তু অতীতে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন থেইয়া গ্রহটির সাথে পৃথিবীর পাশ থেকে সংঘর্ষ হয়েছে এবং আলাদা হয়ে এটি চাঁদে পরিণত হয়েছে। এখন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণা দল বলছে থেইয়া গ্রহাণুটি আসলে সংঘর্ষ হওয়ার পর পৃথিবী থেকে আলাদা হয় নি।

moon-stone-1

চাঁদের পাথর হাতে ইয়াং ও সঙ্গীরা।

পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া চাঁদের পাথর

উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া চাঁদের পাথর

এই বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য অ্যাপোলো মিশনে চাঁদ থেকে আনা সাতটি পাথর এবং পৃথিবীর ম্যান্টল স্তরের ৬টি ভলকানিক পাথর বিশ্লেষণ করে দেখেছে গবেষক দলটি।

তারা খুঁজে দেখছিলেন পাথরগুলির অক্সিজেন আইসোটোপ কোন ধরনের। অর্থাৎ তারা পাথরের অক্সিজেন পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা গুণছিলেন। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের সৌর জগতের প্রতিটি গ্রহের অক্সিজেন আইসোটোপের রেশিও আলাদা, এটা দেখে বোঝা যেতে পারে এই পাথরগুলির উৎস আসলে কী।

যেমন, পৃথিবীর শতকরা ৯৯.৯ ভাগ অক্সিজেন ০-১৬, অর্থাৎ প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণুতে ৮ টি প্রোটন ও ৮ টি নিউট্রন আছে। তবে পৃথিবীতে ০-১৭ ও ০১-১৮ ধরনের অক্সিজেনও আছে। ০-১৬ ও ০-১৭ অক্সিজেনের মধ্যকার অনুপাত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলতে পারেন পাথরগুলি ও অন্যান্য উপাদান কোথা থেকে এসেছে।

আগের অনুমানের মত যদি থেইয়া আসলে পাশ থেকে এসে পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে থাকে ও চাঁদের সৃষ্টি করে তাহলে চাঁদ আসলে পুরোটাই থেইয়ার উপাদান দিয়ে গঠিত। এবং সেক্ষেত্রে চাঁদ ও পৃথিবীর পাথরের অক্সিজেন আইসোটোপের অনুপাত আলাদা হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেছে আসলে তা না।

গবেষণা দলটির প্রধান অ্যাডওয়ার্ড ইয়াং বলেছেন, চাঁদ ও পৃথিবীর অক্সিজেন আইসোটোপগুলির মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য দেখি নি। সেগুলি একই।

তাছাড়া, এই গবেষণার ফলাফল ২০১২ সালের একটি হাইপোথিসিসের দিকে ইঙ্গিত করে। সেই হাইপোথিসিসে বলা হয়েছিল, থেইয়া আর পৃথিবীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল, পাশাপাশি সংঘর্ষ হয় নি, এবং তারা একত্রে মিশে বর্তমান পৃথিবীর রূপে আছে।

ইয়াং বলেছেন, চাঁদ ও পৃথিবী উভয়ের মধ্যেই থেইয়া মিশে গেছে, এবং বিলীন হয়ে গেছে। এই কারণেই আমরা চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে থেইয়ার একই বৈশিষ্ট্য দেখি।

আমরা এখনো থেইয়া সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। ইয়াং এবং তার দল মনে করে থেইয়া গ্রহাণুটি আসলে আকৃতিতে পৃথিবীর সমানই ছিল, আবার অনেকে মনে করেন এটি আকৃতিতে মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি ছিল।

কিন্তু ইয়াং বলেছেন, প্রমাণ আছে যে থেইয়া আসলে বড় হচ্ছিল, আর এটি যদি সংঘর্ষের পর টিকে থাকত তাহলে এটি নিজেই একটি গ্রহতে পরিণত হত।

আমাদের পৃথিবী কীভাবে গঠিত হয়েছিল সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিচ্ছে এই গবেষণাটি। এটি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের পৃথিবীতে পানি কীভাবে এসেছে সে সম্পর্কেও কিছুটা ইঙ্গিত করে এই গবেষণা। যদি থেইয়ার সাথে সংঘর্ষ হয়ে থাকে তবে পৃথিবীতে পানি থাকলেও তা ছিটকে যাওয়ার কথা। আর তা যদি আসলেই ঘটে থাকে, এর দশ মিলিয়ন বছর পরে ছোট ছোট গ্রহাণুর সংঘর্ষের মাধ্যমে পানি আবার পৃথিবীতে ফিরে এসেছে।

এটা কিছুটা দুঃখের যে আরেকটা গ্রহকে বিলীন করে দিয়ে পৃথিবী আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। তবে এটা ভেবে আমরা মুগ্ধ হতে পারি যে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ঘটানোর জন্য পৃথিবীকে এত সব দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে।

ইউটিউব ভিডিও


The formation of the Moon

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক