page contents
Breaking News

বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে আলাপ

আমেরিকার কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি বিজনেস স্কুল এ বছর (২০১৭) জানুয়ারির ২৭ তারিখে বিজনেস ম্যাগনেট বিল গেটস এবং ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে একটা প্রশ্নোত্তর ইভেন্টের আয়োজন করে। সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব চার্লি রোজ ছিলেন আয়োজনের সঞ্চালক। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্ন করেন দুই অতিথিকে। একই প্রশ্নের উত্তরে দু’জন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলেন। কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর শুধু একজনই দিয়েছেন।

গেটস ও বাফেট তাদের ২৫ বছরের বন্ধুত্ব, ব্যবসা, দানশীলতা, বিশ্বস্বাস্থ্য, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুবাদ: আয়মান আসিব স্বাধীন

বন্ধুত্ব, ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কথোপকথন

প্রশ্ন: একজন আরেকজনের ব্যাপারে কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি অবাক করে আপনাদের?

ওয়ারেন বাফেট

ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আমাদের দুইজনের যে অনেক ব্যাপারেই মিল আছে—শুরুতে এটা বুঝতে পারার পর বেশ অবাক হয়েছিলাম। বিল অবশ্য একটা কম্পিউটার বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলেন আমার কাছে। ওই একবারই হয়ত তিনি কোনো জিনিস বিক্রি করতে পারেন নাই। যদিও কম্পিউটার আমার জীবনকে আপাদমস্তক পালটে দেয়। কিন্তু বিলের কৌতূহলে বিন্দুমাত্র কমতি আসত না।

বিল গেটস

আমার খুবই আশ্চর্য লাগত যে, একজন ইনভেস্টর হিসাবে পৃথিবী সম্পর্কে এতটা ব্যাপক ধারণা রাখেন ওয়ারেন। তিনি শুরুতেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হেই, আইবিএম এত বড় একটা কোম্পানি! মাইক্রোসফট তো কোম্পানি হিসাবে অনেক ছোট; তাহলে আপনারা বেশি ভাল করবেন কী হিসাবে? আইবিএম-ই বা আপনাদেরকে সফটওয়্যারের এই খেলায় হারাতে পারবে না কেন?” আমি কিন্তু প্রতিদিনই চিন্তা করতাম, আমাদের কী কী বাড়তি সুযোগ-সুবিধা আছে? সেগুলি দিয়ে কী করা উচিৎ আমাদের? অথচ কেউ আমাকে এই প্রশ্নটা আগে জিজ্ঞেস করে নাই।

তারপর আমরা সফটওয়্যারের অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলাপ করলাম। এই অর্থনীতির জায়গাটা খুবই ভিন্নধর্মী ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার—ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এসবের সাথে তিনি নিজেকে মেলাতে পারতেন। আর আমি ব্যাংকিং বুঝতে পারতাম না। কীভাবে একজন আরেকজনের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যায় তা মাথায় ঢুকত না। তিনি খুব পরিষ্কারভাবে সেসব বোঝাতে পারতেন। ফলে আমি এমন একজনকে খুঁজে পেলাম যার চিন্তাভাবনার অবকাঠামো এতটা সমৃদ্ধ যে—যেসব জিনিস আমি জানার জন্য মুখিয়ে থাকতাম—সেগুলি তিনি সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতেন আমাকে। আবার যে জিনিসগুলি আমাদের কাছে নতুন লাগত, সেগুলি নিয়ে হাসাহাসিও করতাম আমরা।

তার বিনয় এবং রসবোধই তাকে এতটা অবিশ্বাস্যভাবে তুলে ধরেছিল আমার কাছে। উনি নিজের কাজ অনেক উপভোগ করেন ও সেই আনন্দ অন্যদের সাথে ভাগাভাগিও করে নেন। আর আমি যখন বোকার মত কোনো প্রশ্ন করি, যে প্রশ্ন হয়ত আগে আরো ৫০ বার তাকে করা হয়েছে, তখনও তিনি সুন্দর করে উত্তর দেন।

প্রশ্ন: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোন ব্যাপারগুলি নিয়ে আপনারা সবচাইতে চিন্তিত এবং আশাবাদী?

বাফেট

আমেরিকা এগিয়ে যাবে। আপনি যদি এই দেশের গত ২৪০ বছরের ইতিহাস দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন এখানে কত রকমের মিরাকল ঘটেছে। আমি তো বলব যে, বিশ্বের ইতিহাসে সবচাইতে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সেই শিশু, যে আজকে এই দেশে জন্ম নিচ্ছে। ১৯৪২ সালের এপ্রিলে ১১ বছর বয়সে আমি নিজের প্রথম স্টক কিনেছিলাম। তখন ওটার ডাউ ছিল ১০০। অল্প সময় পরেই তা ২০,০০০ হয়ে গেল। সেই সময়টুকুতে নিশ্চয়ই ভাল কিছু হয়েছিল; আর সামনেও সে রকম আরো অনেক কিছু হবে।

গেটস

আমার আশাবাদ অনেকটা এই কারণে যে, আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তি ভাল এবং গবেষণার কাজে মোটামুটিভাবে দুই দলেরই সমর্থন আছে। আর তাই স্বাস্থ্য খাত বা অন্য যে খাতই হোক, আমি মনে করি প্রত্যেক বছরেই আমরা এইসব ক্ষেত্রে নতুন অনেক সাফল্যের দেখা পাব।

এখন এই প্রশাসন বেশ নতুন হওয়ায় তাদের বাজেটে কী কী জিনিস প্রাধান্য পাবে, তা আমরা ঠিক জানি না। যেমন বিদেশী ত্রাণ আমাদের বাজেটের অনেক ছোট একটা অংশ, প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন ডলারের মত। কিন্তু তার মানে প্রতিবার যখন নতুন নেতৃত্ব আসে, আমাদেরকে লাভের ক্ষেত্রগুলি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে দেখাতে হয় যে—সবকিছু ঠিক জায়গাতেই ব্যয় করা হয়েছে।

আমি মনে করি, এই রকম একটা বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে প্রচুর জোর দিতে হবে আমাদের। এইচআইভি সচেতনতার জন্য প্রেসিডেন্টের ‘পেপফার’ এবং সেই সাথে ‘ম্যালেরিয়া ইনিশিয়েটিভ’ এর মত চমৎকার সব কর্মকাণ্ড ধরে রাখার জন্য এক্সিকিউটিভ ব্র‍াঞ্চ ও কংগ্রেসের বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। এসব কিন্তু প্রেসিডেন্ট বুশের সময়ে শুরু হয়েছিল। কাজেই কর্মক্ষেত্রে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় প্রশাসনের সাথেই ভাল সম্পর্ক আছে আমাদের ফাউন্ডেশনের।

প্রশ্ন: ব্যর্থ হবার ভয় ঠিক কীভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন আপনারা?

গেটস

আমি আসলে সৌভাগ্যবান, কারণ আমি হাই স্কুলে ওঠার সাথে সাথেই ওখানে কম্পিউটার নিয়ে আসা হয়। কম্পিউটারে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি আমি। আমার মুগ্ধতার জন্যে ব্যাপারটাকে কখনোই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় নাই আমার কাছে। বরং কম্পিউটারের প্রতি আমার পাগলামিকে আমি শখ হিসাবে দেখতে থাকি। ঝুঁকি নেওয়াকে সবসময়ই দারুণ একটা কাজ মনে হয় আমার; বিশেষ করে যুবক বয়সে—বিভিন্ন জিনিস পরখ করে দেখা, তেমন জনপ্রিয় না এমন কাজে শুধু নিজের আগ্রহের জন্য হাত দেওয়া—এ রকম ঝুঁকিই তো নিতে হয়।

বাফেট

ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়ার দরকার নাই। আমি হার্ভার্ডে ভর্তি হতে পারি নি, ওরা নেয় নাই আমাকে। আমার জীবনের সবচাইতে সেরা ঘটনা ওইটাই ছিল। অনেক ভাল জিনিসই আমাদের সাথে ঘটে যা শুরুতে ভাল বলে মনে হয় না। ঘাবড়ায় যাওয়ার কিছু নাই।

আর বার বার পেছনে তাকিয়ে কোনো জিনিস নিয়ে আফসোস করবেন না। এগিয়ে যেতে থাকেন, কারণ সামনে এমন অনেক কিছুই পাবেন যাতে ব্যর্থতাগুলির কথা আর মনে থাকবে না। শুধু এগোতে থাকেন আপনি।

প্রশ্ন: যদি নতুন করে সবকিছু শুরু করার সুযোগ দেওয়া হত, তাহলে আপনারা কোন ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতেন? এখনকার সময়ে কোথায় নিজেদের ব্যবসা শুরু করতেন আপনারা?

বাফেট

আমি একই কাজই করতাম। কারণ অন্য কিছু করতে গেলে আমার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ-ত্রিশ বছর বয়স থাকতে অনেক মজা করেছি আমি। এখন আমার বয়স ৮৬ আর আমি এখনো মজাই করে যাচ্ছি। তাই ছাত্রদেরকে সবসময় বলি—আপনার যদি কোনো চাকরির প্রয়োজন না থাকত, তাহলে আপনি যে কাজটা করতেন, সে রকমই একটা চাকরির সন্ধান করেন।

ঘুমের মধ্যে হাঁটার মত করে নির্লিপ্তভাবে জীবন কাটাবেন না। “আমি এইটা করব, ওইটা করব, শুধু বয়স বাড়ার অপেক্ষা করছি”—এ ধরনের কথা বলবেন না একদমই। ব্যাপারটা এমন যেন আপনি বুড়ো বয়সে সেক্স করার আশায় অপেক্ষা করে যাচ্ছেন। নেহাতই পাগলামি। এ রকম চিন্তাভাবনা একদমই ভাল না।

গেটস

আমার হার্ডকোর সায়েন্স খুবই পছন্দের। এই জায়গাটায় অনেক অসাধারণ ক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। আমি এখনো কম্পিউটার সায়েন্সই বেছে নিতাম, কারণ বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে অনেক গভীরভাবে কাজ করা হচ্ছে।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকার যদি ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে আপনাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসতেন, আপনাদের জবাব কী রকম হত?

বাফেট

এই দেশের ভিত্তিই ইমিগ্রেশন। আমরা আজকে এখানে বসে আছি কারণ, ১৯৩৯ সালের আগস্ট মাসে সম্ভবত আমেরিকার ইতিহাসের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে দুইজন ইহুদী ইমিগ্র্যান্ট সই করেছিলেন। লিও জিলার্ড এবং আলবার্ট আইন্সটাইন—এই দুই ইমিগ্র্যান্ট সরাসরি জার্মানি থেকে এসে (জিলার্ড তার আগে এসেছিলেন হাঙ্গেরি থেকে) প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জানান, জার্মানরা একটা পারমাণবিক বোমা বানাতে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের খুব দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এর ফলেই শুরু হল ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’।

ওই দুই ইমিগ্র্যান্ট না থাকলে আমরা আজকে এই রুমে বসে থাকতে পারতাম কিনা কে জানে। অভিবাসীরা এই দেশে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আপনি যে কোনো দেশের দিকেই তাকান না কেন, সব দেশ থেকেই আমেরিকায় অভিবাসীরা এসে তাদের সম্ভাবনাগুলিকে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন; যা তারা নিজেদের দেশে থেকে করতে পারেন নি। আর আজকের আমরা তারই প্রোডাক্ট।

প্রশ্ন: স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের ব্যাপারে আপনাদের পরামর্শ?

গেটস

এতে কোনো সন্দেহ নাই যে, ভাল মানের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জিডিপি থেকে স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত অংশ দিন দিন বাড়াতে হবে। বর্তমানে তা এমনিতেও যথেষ্ট বেশি। তবে এখনো ১৮ শতাংশের মত কার্যকারিতার ঘাটতি আছে। যতই দিন যাচ্ছে, আমরা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট আর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মত পদ্ধতি উদ্ভাবন করছি। ফলে নানান দিকে থেকে মানুষের উপকার হচ্ছে। কাজেই সব মিলিয়ে আমাদের আরো বেশি সম্পদের প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার জন্যে সরকারি সম্পদ থাকতে হবে আরো বেশি।

এই সমস্যাগুলি সমাধান করা বেশ কঠিন কারণ আমাদের সামর্থ্যেও যেমন ঘাটতি আছে, তেমনি খরচের দিকেও লক্ষ রাখতে হয় আমাদের। আমি সবসময়ই কোনো সমস্যাকে সরল একটা লেন্স দিয়ে দেখার চেষ্টা করি এভাবে যে—উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব। এখানেও নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করে খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে। অথবা আলজাইমার’সের মতো রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভব হলে—যা আমরা এখনো করতে পারি নাই—দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার বাড়তি খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি নির্মূলের ব্যাপারে আমাদের অগ্রগতি অন্যান্য ব্যাধির তুলনায় কম। কৌশলগত ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ওষুধ তৈরি করা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার কাজে মার্কেটকে ঠিকমত ব্যবহার করতে পারলে আমি মোটামুটি আশাবাদী যে, আমরা উন্নতি করতে পারব। কিন্তু সেই জন্যে আমাদের অনেক দামি জিনিসের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে আমাদের খরচ বাড়বেই।

আমি আসলেই আশা করি যেন কোনো এক পর্যায়ে দেশের সেরা প্রতিভাদেরকে তাদের সাফল্যের বিপরীতে যথাযথ সম্মাননা ও উদ্দীপনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা ঠিকমত সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায় দেশের মানুষের মাঝে প্রচণ্ড অসন্তোষ কাজ করছে। কিন্তু তারপরও তারা বলেই যাচ্ছে “লেস গভর্নেন্স, মোর গভর্নমেন্ট”। আমার মনে হয় না দেশের জনগণকে এই জটিলতার ব্যাপারে যথেষ্ট ধারণা ও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যাতে করে তারা এখনো সঠিক সমাধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

প্রশ্ন : আপনারা দু’জনই বিদেশে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু আমেরিকার ভেতরেই তো অনেক সমস্যা রয়েছে। এখানেও গরিব মানুষ আছে, অসুস্থ লোকজন আছে। বাইরের দেশের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে আমাদের নিজেদের সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করা উচিৎ। এটা নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী রকম?

বাফেট

আমার নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা এইরকম যে—প্রতিটা প্রাণের মূল্য সমান। আপনার কাছে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার থাকলে আপনি কিন্তু আমেরিকার চাইতে বরং তার বাইরের অনেক মানুষের জন্য আরো অনেক কিছু করার সুযোগ পাবেন। বিশ্বের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষের চেয়ে এদেশের ৩২ কোটি মানুষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ আছে। কাজেই আপনি আমেরিকার বদলে বিশ্বের অন্য জায়গাগুলিতে বুদ্ধিমানের মত ডলার বিনিয়োগ করতে পারলে তাতে মানুষের উপকার হবে বেশি।

আমি যেহেতু ওমাহা থেকে এসেছি, তাই মানুষজন জানতে চায়, আমি ওমাহার জন্য বেশি বেশি খরচ করি না কেন। আমি ওইখানে বড় হয়েছি; ওমাহা আমার জন্য সবকিছু করেছে। হ্যাঁ, আমি এসব স্বীকার করি ঠিকই।

তবে শেষ পর্যন্ত যদি আপনার কাছে খরচ করার মত ডলার থাকেই, তাহলে সেই অর্থ আমেরিকার বদলে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বুদ্ধিমানের মত বিনিয়োগ করতে পারলে মানুষের জীবনকে আরো বেশি স্বচ্ছন্দ করে তোলা যাবে। এজন্য মানুষ আমার সমালোচনা করলেও তাতে সমস্যা নাই, কারণ এটাই আমার বিশ্বাস।

গেটস

বাইরের দেশের মানুষদের সাহায্য করার ব্যাপারে নজর দিলে দেখা যায়, আমেরিকার বাজেটের ০.৮ শতাংশ বিদেশী ত্রাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা আসলেই উপযুক্ত ও করণীয় কিনা তা নিয়ে সামনের বছরগুলিতে আরো আলোচনা করা হবে। তবে স্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এর যথেষ্ট উপযোগিতা আছে।

বাজেটের ২০ বা ৩০ শতাংশ বিদেশে ব্যয় করা উচিত কিনা তা নিয়ে আলোচনা করতে পারলে অনেক ইন্টারেস্টিং হত। আমাদের ফাউন্ডেশন সবসময় একই রকম উদ্যোগের ব্যাপারে ইনভেস্ট ও কো-ইনভেস্ট করে এসেছে, যেমন পোলিও। আর এ রকম সিদ্ধান্তের জন্যই আমাদের এই প্রক্রিয়া দিন দিন আরো স্মার্ট এবং লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা এটাই ধরে রাখতে চাই এবং আশা করছি নতুন বিশ্বে তা আরো প্রাধান্য পেতে থাকবে।

প্রশ্ন: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে আপনারা শিক্ষণীয় কিছু জানতে পেরেছেন কী? কোনো লাইফ লেসন?

বাফেট

অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। আপনি যাদের সাথে চলাফেরা করেন, শেষ পর্যন্ত তাদের দেখানো পথেই আপনাকে হাঁটতে হয়। কাজেই আপনার চাইতে ভাল অবস্থানে আছেন—এমন মানুষদের সাথে সম্পর্ক ধরে রাখা উচিৎ। আর আমাদের বেশিরভাগ মানুষের জন্যই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল—আপনার স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে কাকে বেছে নিচ্ছেন আপনি। অবশ্য এটা সবার জন্য প্রযোজ্য না।

আরো পড়ুন: ‘হাসি ও শেখার ২৫ বছর’: ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে বিল গেটস 

আপনি নিজেকে যেমনটা দেখতে চান, তেমন মানুষের সাথেই আপনার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তার দেখানো রাস্তায় আপনি হাঁটবেন। আর তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে মূল্যবান ব্যক্তি আপনার জীবনসঙ্গী। এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমি জোর দিয়ে শেষ করতে পারব না। আপনার কথাই ঠিক—জীবনে চলার পথে আপনার বন্ধুরাই আপনাকে গড়ে তোলে। তাই ভাল কিছু বন্ধু বানান আর সারাজীবনের জন্য তাদেরকে ধরে রাখেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, যাদেরকে আপনি পছন্দের পাশাপাশি শ্রদ্ধাও করেন—এমন মানুষরাই যেন আপনার বন্ধু হয়।

গেটস

কিছু বন্ধু আসলেই আপনার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনেন। সে রকম বন্ধুত্বের ব্যাপারে আমাদের সবারই মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আবার কিছু বন্ধু এমন থাকে যারা আপনার প্রতিটা কাজে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে। এ রকম অন্তরঙ্গতাও অনেক চমৎকার।

মেলিন্ডা ও অন্যান্য বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, তাদেরকে সময় দেওয়াটা আমার জন্য কতটা জরুরি। কেননা প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করার জন্য সবসময় আপনি তৈরি থাকেন এবং আপনার প্রয়োজনে থাকেন তারা।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

আয়মান আসিব স্বাধীন
আয়মান আসিব স্বাধীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
বই : সিনে-লয়েড (২০১৭, চৈতন্য)

Leave a Reply