page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

বোমা হামলার ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে নিজের মৃত্যুর অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ রায়হান

সিরিয়ায় একটি ব্যস্ত মার্কেটে বোমা হামলার পরে ধরে নেওয়া হয়েছিল তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তিনি ফিরে এসে দেখলেন নিজের ফিউনারেল চলছে।

তার নাম মোহাম্মদ রায়হান। তিনি দামাস্কাসের নিকট দউমা শহরের একটি বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলেন ১৬ আগস্ট, ২০১৫, রবিবারে। তখন সরকারী দল সেখানে শেল নিক্ষেপ করে।

এতে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। এদের মধ্যে অনেক নারী এবং শিশুও ছিল।

douma-4

দউমায় সরকারী দলের শেল নিক্ষেপ।

রায়হান বাজার থেকে বাড়ি না ফেরায় তার বাড়ির লোকজন বিশ্বাস করেছিল নিহতদের মধ্যে সেও রয়েছে।

কিন্তু, এই ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরে ১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার রায়হান আহত অবস্থা থেকে জেগে ওঠে। সে ধ্বংসস্তূপের বাইরে আসে এবং তার বাড়িতে ফেরে। তার সারা শরীরে, চুলে এবং দাড়িতে তখন ধূলা লেগেছিল।

মিডল ইস্ট আই পত্রিকার মতে, রায়হান তার আহত হওয়ার তৃতীয় দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে বসেন এবং তার ফিউনারেলের একেবারে শেষ সময়ে উপস্থিত হন।

লোকাল কো অর্ডিনেশন কমিটি অব সিরিয়ার পূর্ব ঘউটা শাখা তার এই ঘটনাটির রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারা বিরোধী পক্ষের নেটওয়ার্ক। তাদের ফেসবুক পেজে ছবিতে দেখা যাচ্ছে রায়হান তার পরিবারের সদস্যদের সাথে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা হাস্যোজ্জ্বল, অথচ ছবি নেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই অর্থাৎ রায়হান পৌঁছার কিছুক্ষণ আগেই তার শোকার্ত ছিল।

raihan-57

রায়হান তার আহত হওয়ার তৃতীয় দিনে ওঠে এবং তার ফিউনারেলের একেবারে শেষ সময়ে উপস্থিত হয়।

রায়হানের এই ঘটনাটি একটু আলাদা মনে হলেও লন্ডন ভিত্তিক সিরিয়ান মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে সিরিয়াতে এখন এই ধরনের ঘটনা অনেক ঘটছে।

এই একটিভিস্ট গ্রুপের পরিচালক রামি আবদুর রহমান বলেছেন, অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, অর্থাৎ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে, এবং পরে বের হয়ে আসে। শিশুদের সাথে এটা প্রায়ই ঘটে। আমি শুনেছি, তিন বছরের একটি শিশুর জন্য তার পরিবার শোক করছিল এবং পরে তাকে ধ্বংসস্তূপে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

বিরোধী পক্ষের নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এই হামলায় সিরিয়ান সেনাবাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ছয়টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল।

জাতিসংঘের সবচেয়ে সিনিয়র মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা স্টিফেন ও’ব্রিয়েন বলেছেন, দুই পক্ষ থেকেই নাগরিক জীবনের প্রতি এরকম অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ এবং বিমান হামলায় অনেক মানুষ নিহত হওয়ার রিপোর্ট দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন।
সিরিয়ার সরকারী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তার আগের সপ্তাহে মধ্য দামাস্কাসে মর্টার হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার জবাবে এই হামলা করা হয়েছে।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক