page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

“ব্রেইনটাকে ডিস্টার্ব করবে না, কিন্তু ভালো লাগবে ওরকম লেখার দিকে বোধহয় মানুষ একটু টার্ন করছে।”—ফারজানা করিম

সাদ রহমান: আপনার নামটা একটু জানতে চাই।

ফারজানা করিম: আমি ফারজানা করিম, চ্যানেল আইতে আছি, লাস্ট তেরো বছর ধরে। আমার বেসিকটা হচ্ছে লেখালেখি করা। তো অনেক বছর লেখালেখি করার পরে গত বছর থেকে আমার কিছু বই পাবলিকেশনে চলে এসেছে। তো গতবার এসেছে আমার একটি কাব্যসমগ্র—‘পাখি পৃথিবী’। আর এ বছর এনেছি একটি উপন্যাস, উপন্যাসটির নাম হচ্ছে ‘রুদ্মিলার চিঠি’। আর এটাই সেই ‘রুদ্মিলার চিঠি’। রুদ্মিলা নামের একটি মেয়েকে ঘিরে টোটাল উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী থেকে বইটি এসেছে।

সাদ: উপন্যাসটার প্লট কোন জায়গাকে কেন্দ্র করে?

ফারজানা: উপন্যাসটাতে আমি তেমন কোনো রাজনৈতিক বা সেরকম কোনো প্লট আমি ব্যবহার করি নি। এখানে একটি ফ্যামিলি, একটা পরিবার, সেই পারিবারের একটা মেয়ে তার মাকে হঠাৎ হারিয়ে ফেলে। এবং হারিয়ে ফেলার পর—সে মেয়েটি মায়ের সাথে সবচে বেশি এটাচড ছিল—এবং এর পরবর্তীতে ওর লাইফটা এলোমেলা হয়ে যায়। এবং এছাড়া ওর আরো একজন প্রিয়জনকে ও হারায়। তো এই দু’জন প্রিয়জন ওর লাইফ থেকে চলে যাওয়ার পর ওর যে বিধ্বস্ত জীবনটা, এবং পরবর্তীতে ওর কী হয়। এটা তো বই পড়লেই জানা যাবে। এখন আমি পুরোটা বলবো না। তো এটাই বেসিক প্লট ছিল।

boimela-logo-2016

সা্দ: উপন্যাসটার প্লট। আমি জিগাশ করছিলাম যে, কোন জায়গাকে কেন্দ্র করে। ঢাকা বা ঢাকার বাইরে বা দেশের বাইরে।

ফারজানা: এটা ঢাকা। বাংলাদেশকে ঘিরে।

সাদ: কোন শ্রেণী, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত?

ফারজানা: এরা, এরা উচ্চমধ্যবিত্ত।

সাদ: হায়ার মিডল ক্লাস?

ফারজানা: হ্যাঁ, হায়ার মিডল ক্লাস। এবং পুরান ঢাকায় ওদের নিজস্ব বাড়ি আছে, ওখানে ওরা থাকে। ছোটবেলা থেকেই ওখানেই বর্ন এন্ড ব্রট আপ, ওখানেই প্রেম। এই।

সাদ: এই বইটার আগে আপনার আর কী কী বই আসছে?

farzana-k-boi

প্রকাশক: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী। প্রচ্ছদ: জয় কর্মকার।

ফারজানা: এই বইটার আগে আমার একটাই কাব্যগ্রন্থ এসেছে। ‘পাখিপৃথিবী’ নাম। ওখানে আটষট্টিটা কবিতা নিয়ে আমার বইটি এসেছে। এছাড়াও, আমি বেসিক্যালি কবিতা আবৃত্তি নিয়ে কাজ করি। কবিতা আবৃত্তি নিয়ে আমার অলরেডি দু’টো এলবাম বেরিয়ে গেছে। একটা হচ্ছে ‘পুতুল’। ওটা… ওটাও আমার নিজের লেখা কবিতা নিয়ে। আমার আর তাহসিন রেজা, ডুয়েট। আর আরেকটা হচ্ছে, ‘শুধু তোমার জন্য’। এটা এপার বাংলা এবং ওপার বাংলা দুপার বাংলার। বাংলাদেশ এবং কলকাতা, দু’টো মিলে বেরিয়েছে, ‘শুধু তোমার জন্য’ এই এলবামটা।

সাদ: কবিতায় সাধারণত আপনে কী ধরনের কথা বলেন?

ফারজানা: কবিতায় আমি সবসময়ই একটু প্রকৃতি, প্রেম, ভালোবাসা এই ব্যপারাগুলোকে প্রাধান্য দেবার চেষ্টা করেছি। এখনো পর্যন্ত আমি কবিতার মধ্যে আমি রক্তপাত বা খুব বেশি কদর্যতা অথবা খারাপ দিকগুলো কম তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি পজেটিভ দিকগুলো বেশি লেখার চেষ্টা করেছি।

সাদ: আপনার দুইটা বই অলরেডি বের হয়ে গেল। তো কবিতার বইয়ের পরে এবার যে উপন্যাস বের করলেন, উপন্যাসে আসার কী কারণ?

ফারজানা: আসলে কবিতা আমার লেখা হয়। কবিতাটা আমার প্রাণ। এটার উপর আমার চর্চা হয় খুব বেশি। উপন্যাসটা আমি ওরকম একটা ঘটনা, আমার প্রায় দেখা ঘটনা। আমার মনে হচ্ছিল, আমি লিখতে পারব। আমি চেষ্টা করলে লিখতে পারব। সেই চেষ্টাটা করলাম, লিখতে লিখতে হয়ে গেল।

সাদ: তাহলে তো এটা আপনার বাস্তব জীবনের একটা অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসা?

ফারজানা: অনেকটা। হ্যাঁ, যেকোনো লেখার মধ্যেই তো মোটামুটি আমরা বাস্তব জীবনটাকে একটু ফোকাস করার চেষ্টা করি।

সাদ: তো আপনার প্রিয় উপন্যাসিকের নাম জানতে চাইলে?

ফারজানা: আমার প্রিয় উপন্যাসিক তো অনেকেই আছেন। এখন এই মুহূর্তে যদি বলি, তাহলে আমার, বুদ্ধদেব দা, আমার খুব প্রিয়। শীর্ষেন্দু, আমার খুব প্রিয়। যাদের লেখা পড়ে, বিশেষ করে শীর্ষেন্দুর লেখা পড়ে আমি… এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং আমি সবচে বেশি, মানে ‘একটু উষ্ণতার জন্য’ এ্ই বইটি, এখানে প্রকৃতির সাথে উনি যে প্রেম দেখিয়েছেন, তারপর এরকম আরো বেশ অনেকগুলো বই আছে। ‘মানবজমিন’। বেশ কিছু বই আছে, যেগুলো… এই বইগুলো পড়ার পরে আমার কেবলই মনে হতো এগুলো কীভাবে লেখে? এরকম মনে হতো।

সাদ: যেই ক্ষেত্রটা আপনি বললেন সেটার থেকে এখনের জায়গা তো বিশাল ডিসটেন্স। বা এই সময়ের লেখাগুলা আপনার কেমন লাগে—উপন্যাস বা কবিতা?

ফারজানা: লেখা তো চেইন্জ হয়েছে। দেখুন, এখন তো ফেসবুকের যুগ। এখন ইমেইল-জিমেইল এগুলোর যুগ। তো এখন লেখার মধ্যে ওই টাচটা অনেক বেশি আসবে। এখন মানুষ বইয়ের চেয়েও অনেক বেশি অনলাইনে পড়ে নিতে আগ্রহী বেশি। এজন্যই, সো এখন লেখার মানটাও এমন হয়ে যাচ্ছে যে, খুব বেশি ডিপে আর মানুষ যেতে চায় না। এখন মানুষ একটু সহজ করে, সহজ কথায়, যেটা মানুষকে পাজল্‌ড্‌ করবে না, ব্রেইনটাকে ডিস্টার্ব করবে না, কিন্তু ভালো লাগবে ওরকম লেখার দিকে বোধহয় মানুষ একটু টার্ন করছে। সেদিক থেকে হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলো জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে এটা একটা বিশাল রিজন যে উনার লেখাগুলো মধ্যে একটা সরলতা আছে, সহজ একটা ভাব আছে যেটা মানুষ পছন্দ করে। তো এটা ভালো, ভালো দিক।

সাদ: আপনার ভালো লাগে কিনা?

ফারজানা: হ্যাঁ, আমার ভালো লাগে। আমি যেহেতু এখনো মাত্র শুরু করেছি, উপন্যাসটা। সো আমার শুধু ভালো লাগার ব্যাপারটাই আমি শেয়ার করতে চাচ্ছি। খারাপ লাগার কোনো কিছু এই মুহূর্তে আমি শেয়ার করতে চাচ্ছি না। আমি আরো পড়ি, আমার আরো অনেক জানতে হবে।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ৯/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।