page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

“মানুষজন বলল হ্যাঁ এটা তো গল্প হইছে, তো আমি বুঝলাম হ্যাঁ, গল্প বোধহয় এরকমই।”—কাসাফাদ্দৌজা নোমান

সাঈদ রূপু: আপনার এই বইমেলাতে কী বই আসছে?

কাসাফাদ্দৌজা নোমান: আমার প্রথম উপন্যাস—’জীবন বৃত্তান্তে নেই’। দেশ প্রকাশনী থেকে আসছে। এর আগের বছর অামার প্রথম বই প্রকাশ পেয়েছিল জাগৃতি থেকে—অদ্ভুত তুমিহীনতায় ভুগছি

সাঈদ: লেখালেখিতে কীভাবে আসা?

কাসাফাদ্দৌজা: লেখালেখিতে আসা হইছে আসলে পড়ালেখা ফাঁকি দেওয়ার জন্য। মানে পড়তাম, হোমওয়ার্কের পাশাপাশি খাতার ভিতর টুকটাক লেখা, মানে আসলেই পুরাটাই ফাঁকিবাজি। এরপর মনে হলো, না আমিও হয়তো এক দুই লাইন লিখতে পারি। এই ভাবে এই ভাবে। মানে কোনো ইচ্ছা করে না, হুট করেই।

সাঈদ: আপনার উপন্যাসের থিমটা কী, কেন্দ্রীয় ইয়েটা কী, মানে কী নিয়ে লিখছেন?

কাসাফাদ্দৌজা: তিনটা তরুণের গল্প। তরুণ বা যুবক, পোড় খাওয়া, হতাশ। জীবনে অনেক কিছু করতে চেয়েছিল কিন্তু করতে পারে নি। এমন একটা পজিশানে চলে গেছে যে এ্খান থেকে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের জন্য। বা্ তাদের জীবনের বৈচিত্র হারিয়ে গেছে। তাদের আর কিছুই করার নাই আসলে। এমন অবস্থায় তারা একটা সিদ্ধান্ত নেয় যে এমন কিছু একটা করবে যাতে তারা ব্যাক করতে পারে।

boimela-logo-2016

সাঈদ: এটা কোন সময়ে, মানে তাদের…?

কাসাফাদ্দৌজা: এই সময়কার।

সাঈদ: না না, যেই গল্পগুলা ইয়ে করছেন যেমন তারা কি স্টাডি করতেছিল বা…?

কাসাফাদ্দৌজা: না তাদের প্রত্যেকেরই পড়ালেখা শেষ, জীবনে কিছু করার বয়স, পরিবার সমাজ যে অবস্থায় দেখতে চায় তাদেরকে, তারা আসলে সেই অবস্থায় ছিল না। ফ্যামিলি তার ছেলেকে যে অবস্থায় দেখতে চায় সে সেইখানে নেই। যেখানে আছে সেখানে আবার সে সন্তুষ্ট না। এইসব জটিলতা আর কি। এইসব জটিলতা নিয়েই গল্পটা।

সাঈদ: শেষ পর্যন্ত এর সমাপ্তিটা কীভাবে হইছে?

kasafadduza-b3কাসাফাদ্দৌজা: শেষ পর্যন্ত সমাপ্তিটা আসলে সমাপ্তি হয় নি। তারা যেই ঘটনাটা ঘটাতে চেয়েছিল আসলে তারা ঘটাতে পারে নি। কারণ তাদের সাহস ছিল না অথবা বুদ্ধির দৌড় কম ছিল। অথবা তারা জীবনকে আসলে ওভাবে দেখে নি। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা হয়তো উপলব্ধি করছে যে আমাদের আসলে ফিরে আসা উচিত। আমরা এটা করলে কি সত্যি কিছু  হবে। এই একটা ধোঁয়াশা অবস্থায় মানে কোনো সমাধান হয় নি আসলে।

সাঈদ: কবে আসছে এই বইটা?

কাসাফাদ্দৌজা: আজকে সন্ধ্যায়।

সাঈদ: আজকে আসছে। তো এই বইটা যে লিখছেন, এটা কত দিন যাবৎ লিখছেন?

কাসাফাদ্দৌজা: এইটা লেখা শুরু করছি আমি জুনে। জুনে না সরি, মে জুন এরকম সময়। তো কিছুদূর আগানোর পর আমার বাবা মারা যায়। এর পরে দীর্ঘ সময় আমি ব্লকড ছিলাম, কিছুই লিখি নি। লিখবো ভাবছিলাম। লাস্ট নভেম্বরে আমি আবার ওই যেখান থেকে শেষ করেছি ওইখান থেকে আবার শুরু করি। এই তো এই জানুয়ারি পর্যন্ত, নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারি পর্যন্ত তিনমাস।

সাঈদ: আচ্ছা, আপনি উপন্যাস লিখবেন এই মনস্থিরটা কীভাবে করলেন?

কাসাফাদ্দৌজা: উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। ইভেন গতবার যে গল্পের বই বের করেছি গল্প লেখারও পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। আসলে আমার কিছুই লেখার পরিকল্পনা ছিল না। একটা জিনিস লিখলাম—মানুষজন বলল হ্যাঁ এটা তো গল্প হইছে, তো আমি বুঝলাম হ্যাঁ, গল্প বোধহয় এরকমই। মানে আমি যেগুলো পড়েছি ওগুলোর মতো না। তারপর কবিতা লিখলাম—মানুষ বলল হ্যাঁ, এরকমই কবিতা, কবিতা এরকমই হয়।

সাঈদ: মানে আপনার নিজেস্ব কোনো ইয়ে নেই যে আপনি এটাকেই গল্প বলবেন বা এটাকেই উপন্যাস বলবেন বা কবিতা বলবেন? মানুষ যেটা বলছে সেইটাকেই আপনি বিশ্বাস করছেন, এটা লেখক হিসেবে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কাসাফাদ্দৌজা: বিষয়টা এমন না, বিষয়টা এমন না। বিষয়টা হলো আমি একটা ঘটনা লিখলাম,  হ্যাঁ, আমি একটা ঘটনা লিখে আপনাকে দিলাম। আপনি বললেন, গল্পটা সুন্দর।আমি তখন বুঝলাম, হ্যাঁ, এটাকে বোধহয় গল্প বলে। এটা ২০০৬/৭-এর কাহিনী, তখন আমি কিছুই লিখতাম না। আমি লিখতাম হচ্ছে ওই প্রথম আলোর আলপিন বা যুগান্তরের ছোট ছোট রম্য। যেগুলা আসলে গল্প বলা যায় না বা কিছু বলা যায় না। ওই অবস্থা থেকে আমি তারপর যখন আমি চিনলাম হ্যাঁ মানুষ এটাকে গল্প বলে, আমি বুঝলাম যে গল্প এরকমই হয়। তারপর আমি পড়াশুনা শুরু করলাম। আমি দেখলাম যে… এর আগে পাঠক হিসেবে পড়েছি। আমি যখন লিখার আগে একটা বই পড়তাম আমি বইটা আনন্দের জন্যেই পড়তাম, পাঠক হিসেবে। বইয়ের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ঘটনাগুলা, শব্দের কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, উপমার কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে বা কাহিনী বিন্যাস কীভাবে হচ্ছে, কাহিনী পাল্টাচ্ছে কীভাবে, এগোচ্ছে কীভাবে—এগুলা খেয়াল করতাম। একট মুভি দেখার মতো করে দেখতাম। এখন ব্যাপারটা এরকম না। এখন আমি হয়তো একটা লাইন তিন চারবারও পড়ি। চমকাই, আবার হতাশ হই, শব্দগুলো বুঝি, ভাষা বোঝার চেষ্টা করি। তো আমার মনে হয় ওখান থেকেই ধীরে ধীরে উপন্যাস লেখার চিন্তাটা আসা। কারণ গল্প মানেই হচ্ছে আসলে জীবনের একটা ছোট্ট ঘটনা। উপন্যাসও হয়তো ছোট্ট ঘটনা। কিন্তু অনেক বেশি ডিটেইল। আমার মনে হয় আর কি। একটা সার্বিক জীবন, একটা জীবনবোধ একটা উপন্যাসে উঠে আসে।

সাঈদ: আচ্ছা, যেহেতু আপনি ঔপন্যাসিক তো আপনি কোন ঔপন্যাসিকের বই পড়তে পছন্দ করেন?

কাসাফাদ্দৌজা: এটা কঠিন প্রশ্ন, কোন ঔপন্যাসিকের বই পড়তে পছন্দ করি। আমি শহীদুল জহিরের বড় ভক্ত। আমি আহমদ ছফার ভক্ত। আমি হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত। আমার সবার পড়তেই ভাল্লাগে। অল্প কিছু রাইটারের হয়তো ভালো লাগে না, কিন্তু বেশির ভাগই ভাল্লাগে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ভাল্লাগে, সমরেশ ভাল্লাগে।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ৬/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।