page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

মিতুখালাকে সারাজীবন ধরে মনে আছে

তখনও রাদিয়ার সঙ্গেই আমার প্রেম। প্রেম বলতে, কখনও ‘ভালোবাসি’ বইলা উঠতে পারি নাই, কিন্তু প্রেম যে সেটা বিভিন্নভাবে বোঝা যায়। যথা, আমিও যেমন একদিনের জন্য ছাইড়া আসা এলাকা নাজির রোডে না গিয়া থাকতে পারতাম না, তেমনি সেও কি আর পারত, জানালার সামনে না আইসা থাকতে! ফলে প্রেম।

কিন্তু কিছু সমস্যা তৈরি হইল। যেমন, এলাকার অনেকেই ব্যাপারটা টের পাইয়া গেল—মুরুব্বি গোছের অনেকে। ওর বাবা একদিন সরাসরি আমারে তাদের গেটের ভিতর ঢুকতে মানা করল। বল আসলেও বলল যেন অন্য কেউ আইসা নিয়া যায়। আর সেদিনই ওদের বাসা আর আমাদের খেলার মাঠের মাঝখানে—আইয়ুবের দোকানের সামনে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমারে আটকাইল। কমিশনার আতাউল হক অশ্রুর হইয়া কাজ করত তারা। জিগাইল, আমার বাসা কই।

গাজী ক্রস রোড।

বাসা গাজী ক্রস রোডে তো নাজির রোডে কী প্রতিদিন?

tanimlogo2

কয়েকদিন হইল ওই এলাকায় গেছি, আগে আমরা এখানেই থাকতাম। বন্ধুবান্ধব সব তো এখানে। তাই আসি।

যেই এলাকায় গেছোস, ওইখানকার নতুন বন্ধুবান্ধব খুঁইজা নিবি, বুঝছোস? এদিকে যেন আর না দেখি।

কিন্তু কেন! এটা তো কেউ মানা করতে পারে না, যার যেখানে ইচ্ছা সে সেখানে যাবে—এটাই নিয়ম।

নিয়ম পুটকি দিয়া ঢুকানো হবে। বাইর হ, দৌড়া।

মানে কী!’—আমার মুদ্রাদোষ ছিল যে কোনো বিস্ময়ে ‘মানে কী মানে কী’ বলা। বারবার সেটাই বলতেছিলাম আমি। আর তাতে বিরক্ত হইয়া নুর ইসলাম ভাই আমার কলার ধইরা ফেলল। অথচ এই নুর ইসলাম ভাই আমারে ব্যক্তিগতভাবেও চিনত। যেটা কিনা অন্যরা চিনত না। বিস্ময়ে হতবাক হইয়া গেলাম। কেননা তার আগ পর্যন্ত আমি ভাবতেছিলাম যে, নুর ইসলাম ভাই-ই আমারে এই বিপদ থেইকা হয়ত রক্ষা করবে। তার বদলে কলার চাইপা ধরল। আর বলল, অমুক মিয়ার (ছদ্মনাম) মাইয়ারে ডিস্টাব করছ—আমরা দেখি না ভাবোছ!

আমি বললাম, দেখেন ব্যাপারটা সেরকম না’—আর মুহূর্তেই নুর ইসলাম ভাইয়ের চওড়া হাতের পাঁচ কেজি ওজনের একটা থাপ্পড় আমার তৎকালীন নরমসরোম গালে আইসা পড়ল। খুবই অপমানিত বোধ করলাম। কান্না আসতেছিল তাই—”আচ্ছা আমি যাই”—বইলা ওদের সামনে থেকে সরতে চাইলাম আমি।

মনে থাকবে তো? আর যেন না দেখি…।

বাসায় ফিরতে পথে রেললাইন পড়ে। আর সন্ধ্যার পর পর বেশ অন্ধকারও। অপমানে বাকরুদ্ধ হইয়া আমি বইসা থাকি রেললাইনে। ভাবি, কালকে তাহলে কীভাবে দেখা হবে রাদিয়ার সাথে!

অন্য সময় পিছু নেওয়ার এ যাত্রা রাদিয়াদের বাসার গেট বা জিলানী ভাইয়ের দোকানের সামনে থেকে শুরু হইলেও সাইকেল নিয়া পরের দিন আমি গিয়া দাঁড়াইলাম মদিনা বাসস্ট্যান্ডে (যেহেতু সেটা নাজির রোড এলাকার বাইরে)। আর খুব যত্ন কইরা প্রতিটা রিকশার দিকে লক্ষ্য রাখলাম—রাদিয়া যেন মিস না হইয়া যায়। হইল না। কিন্তু হায়—রিকশায় রাদিয়ার পাশে বইসা আছে রাদিয়ার আব্বু! তার ব্যাপারে আগের দিনের ঘটনায় আমার মেজাজ খারাপ হইয়া ছিল। ফলে সে থাকা সত্ত্বেও রিকশার পিছু নিলাম। আর রিকশা ওভারটেক করতে করতে তাকে উদ্দেশ্য কইরা বললাম, “শ্বশুর আব্বা!” আর শ্বশুর আব্বার তাতে কী প্রতিক্রিয়া হইল—সেদিক না ফিইরা আমি আগেই গিয়া মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিলাম। অবশ্য একটা গোপন জায়গায়। অনেকগুলা কলমি গাছের পেছনে। সাইকেলটারে ক্ষেতের মধ্যে শোয়াইয়া রাখলাম—যেন দেখা না যায়।

মূল রাস্তাতেই রাদিয়ারে নামাইয়া দিয়া রাদিয়ার আব্বু চইলা গেল। আর আমি কলমি ফুলেরে মাইক হিসেবে ব্যবহার কইরা ডাক দিলাম, রাদিয়া!

তোমার খবর আছে, জানো? আব্বুকে কী বললা তুমি—আমি শুনলাম, ভাগ্যিস আব্বু শোনে নাই!

আমি একটু হতাশই হইলাম, শোনে নাই?

উঁহু, দেখেও নাই তোমারে। কিন্তু আমি ভয় পাইতেছিলাম, আর কিছু করো কিনা—সেটা ভেবে।

আর কী করব, কালকে নেতাকর্মীদের দিয়া আমারে হুমকি দেওয়াইছে তোমার আব্বু। আমার নাজির রোডে ঢোকা বন্ধ।

সর্বনাশ!

“হ্যাঁ, এমনকি ওরা আমারে মাইরধরও করছে। এই দেখ, গাল ফুলাইয়া দিছে মাইরা।”—আমি খানিকটা গর্বিত যে, প্রেমের জন্য মাইর খাইতে হইল, বন্ধু তোমায় ভালোবাইসা!… কিন্তু রাদিয়া খুবই মন খারাপ করল। আর বলল, “এলাকায় আসবা না তাহলে?”

অবশ্যই আসব। একটু সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।

শোনো, আমার ছোটখালা আসছে চিটাগাং থেকে, মিতু খালা। পরশুদিন খালার সাথে আমিও চিটাগাং যাব কয়েকদিনের জন্য। তুমি এ কয়দিন আর না আসো তাহলে।

পরশু? কখন, কোন ট্রেনে?

সকালে। মেঘনা এক্সপ্রেস।

স্টেশনের একটা খাম্বার আড়াল থেকে রাদিয়ার আব্বু আর রাদিয়ার সম্ভাব্য ছোটখালাকে ফলো করতে থাকি। কিন্তু রাদিয়াকে চোখে পড়ে না। আরও কয়েকজন বোরকা পরা ছিল। ফর্সা একটা ছেলে ছিল, সে কার কী হয়—জানি না। আরও যে কয়েকজন ছিল, তাদের মধ্যে কোনওটা রাদিয়া হইলেও হইতে পারে। হয়ত অন্য কালারের বোরকা পরাইছে—ভাবি আমি। খালা ছিল বোরকা মুক্ত। রাদিয়া তার এই খালার কথা বলছিল বিভিন্ন সময়। ভার্সিটিতে পড়ে, অনেক নাকি ভালো, রাদিয়ার আইডল ইত্যাদি।

ট্রেন আসলে ব্যস্ত ভঙ্গিতে ওরা সবাই সামনের দিকে দৌড় শুরু করল। আমি পেছন দিকের একটা বগিতে গিয়া উঠলাম। সবাইরে ট্রেনে তুইলা দিয়া রাদিয়ার আব্বু যখন স্টেশনের গেট দিয়া বাইর হইয়া যাচ্ছে—টিকেট কালেক্টররা তারে ট্রেনের যাত্রী ভাইবা টিকেট চাইয়া বসল। মাত্রই চলতে শুরু করা ট্রেনের দরজায় দাঁড়াইয়া সে দৃশ্য দেইখা আমি হেভি মজা পাইলাম। আর দোয়া করলাম, খোদা! টিকেট না কাটার অপরাধে লোকটার যেন জেল হয়!

ফেনী-চট্টগ্রাম রেল সেকশন (ছবি. লেখক, ২০০৯)

ফেনী-চট্টগ্রাম রেল সেকশন (ছবি. লেখক, ২০০৯)

যদিও স্টপেজ নাই, কোনও এক অনির্ধারিত কারণে ট্রেন চিনকি আস্তানা স্টেশনে থামল। এরমধ্যে আমি আর সাহস কইরা ট্রেনের ভিতর দিয়া রাদিয়াদের বগি খুঁজতে যাই নাই। কিন্তু ট্রেন থামার পর নাইমা জানালাগুলির দিকে সতর্ক দৃষ্টি খোলা রাইখা প্লাটফর্ম ধইরা হাঁইটা হাঁইটা সামনের দিকে যাওয়া ধরলাম। অবশেষে দেখাও পাইলাম রাদিয়ার আদর্শ—বিশিষ্ট মিতু খালার—জানালায় ভাঁজ করা হাত ফালাইয়া রাইখা ওই হাতের মধ্যে থুতনি বসাইয়া রাখছিল সে। ফর্সা ছেলেটারে কোথাও দেখলাম না। তাই কাছে গিয়া জিগাইলাম, “রাদিয়া কই? ওর না যাওয়ার কথা আপনার সাথে?” আর সে তো টের পাইল—আমি কে। বলল, “আরে তুমি এখানে!”

হ্যাঁ। ফেনী থেকেই ট্রেনে উঠছি। আপনাদেরকে ফলো করতেছি।

ওয়াও! কিন্তু রাদিয়া তো শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে না আমাদের সঙ্গে।

বলেন কী!—অযথাই আসলাম তাহলে?

হা হা, তুমি নিচে কী করো, উইঠা আসো—অসুবিধা নাই।

আমি অর্ধেক বিশ্বাস আর বাকি অর্ধেক অবিশ্বাস নিয়া ট্রেনে উইঠা তার সিটের ধারে যাই। বলি, “আপনার অন্য লোকেরা কই?”

আর বইল না। সবার টিকেট ‘চ’ বগিতে, দুইটা পড়ছে ‘জ’-তে। রাদিয়া থাকলে আমার পাশেই বসত। সে যেহেতু নাই, এখন তুমি বসো।

আমি বসলাম। বললাম, ফর্সা ছেলেটারে এখানে পাঠাইয়া দিতেন? আপনি একা হইলেন কেন?

বলল, ধুর, বোরিং সবগুলা—আমি নিজে থেকেই চলে আসছি।

ভালো করছেন। কিন্তু ট্রেন তো আবার ছাইড়া দিল। আমি তাহলে চিটাগাং যাইয়া কী করব?

রাদিয়া থাকলে কী করতা?

রাদিয়া থাকলে ট্রেনে ওর সঙ্গে কথা বলতাম সুযোগ পাইলে। আর চিটাগাং পর্যন্ত গিয়া আবার ফেনী ফেরত আসতাম।

হুম ভালো আইডিয়া। তো ও না থাকা সত্ত্বেও তো সেটা করা যায়—আমার সঙ্গে কথা বলো?

আচ্ছা।

তুমি সিক্সে পড়ো?

হুম।

জানো আমি খুব মজা পাইছি, তোমরা এত কম বয়সেই প্রেম করো দেখে!

আমার বয়স কম না। মানে বয়স কম হইলেও আমি বড়দের মতই।

ওরেব্বাবাহ তাই! তুমি থাকবা আমার সঙ্গে কয়দিন?

কোথায়!

চট্টগ্রামে। আমাদের বাসায় না অবশ্য। আমি তোমার থাকার ব্যবস্থা করব।

তারপর?

তারপর তোমার সঙ্গে আড্ডা দিব ক্যাম্পাসে। ঘুরতে নিয়ে যাব। সমুদ্র দেখছো কখনও? তোমাকে সমুদ্রও দেখাব না হয়?

না। বাসায় মাইর দিবে। আমি যে চট্টগ্রাম যাই—কেউ জানে না। আজকে দিনের মধ্যেই আবার ফিরতে হবে। স্কুল টাইমের আগেই।

তুমি স্কুল পালাইয়া আসলা?

হুম।

বই খাতা কই?

একখানে, একটা দোকানে একজনের কাছে রাইখা আসছি।

আর স্কুল ড্রেস?

ব্যাগেই। আমি আসলে ওই দোকানের একটা চিপায় দাঁড়াইয়া ড্রেস চেঞ্জ করছি।

ট্রেন চট্টগ্রাম পৌঁছানোর অনেক আগেই মিতু খালা আমার ব্যাপারে মুগ্ধ হইয়া পাগলপ্রায় অবস্থায় পৌঁছায়। কোন এঙ্গেলে তার মুগ্ধতা, সেইটা বুইঝা নিয়া আমিও সেই এঙ্গেলেই তাকে মুগ্ধ করতে থাকি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এমন অনেক ঘটনা বা কাহিনীর অবতারণা করি যেগুলি বানোয়াট।

মিতু খালাকেও আমার মনে ধরে। এবং আমি এটাও ভাবি যে, বয়স আরেকটু বেশি হইলে হয়ত তার সঙ্গেই আমার কিছু হইতে পারত! কিন্তু এমন ভাইবা বসার কারণে মুহূর্তেই আমার মধ্যে অপরাধবোধের জন্ম হয়। এবং সেইটাও আমি তার সঙ্গে শেয়ার করি। আর একটু বিরক্তি প্রকাশ করি, “ওরা এত হুজুর ফ্যামিলি যে, প্রেম করাটাই মুশকিল। তারচেয়ে বরং আপনি ভালো ছিলেন। জানেন আমার হঠাৎই মনে হইল আপনার সঙ্গেই আমার প্রেম! মনে হওয়ার পর থেকে খুব খারাপ লাগতেছে।”

যথারীতি এ ব্যাপারটাও তার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হইল এবং, বরং সে, তার প্রেমে পড়ায় খারাপ লাগার কী আছে—তা জানতে চাইল।

না মানে আমি তো ফাইনালি রাদিয়ারে ভালোবাসি।

ফাইনালি কারে যে ভালোবাসতে হয় কিছুই বলা যায় না—বুঝছো!

হইতে পারে সে আমার সঙ্গে মজা করতেছিল সিরিয়াস ভঙ্গিতে এইসব বলার মধ্যদিয়ে। কিন্তু তখন তো সেসব আর বুঝি না অত। ফলে চিনকি আস্তানা এলাকায় উত্থাপিত তার প্রস্তাবটার ব্যাপারে একটা সেকেন্ড থট দিই।

আচ্ছা, আমি যদি থাকি কয়েকদিন। কই থাকব?

ওমা, তোমার না স্কুল টাইমের মধ্যে ফেরত যাইতে হবে!

হু। কিন্তু এমনিই, বলেন না, থাকলে কই থাকতাম?

তুমি সাইদুলের সঙ্গে ওর বাসায় থাকতে পারতা।

সাইদুল কে?

সাইদুল হলো বুঝছো না?

না তো।… মানে সাইদুল আপনার, মানে ইয়ে?

“হা হা… হ্যাঁ, আমার ইয়ে!

ghor p 8 c

চট্টগ্রাম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

আর কী। হুদাই। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর বুকে একটা বিশিষ্ট ছ্যাঁকা—যা না খাইলেই পারতাম—খাইয়া বসলাম। মেজাজ খারাপ লাগল। আর এ সন্দেহও হইল যে, মিতু খালা যদি এসব কথা রাদিয়ারে বইলা দেয়—সে-ই বা আমার ব্যাপারে কী ভাববে! আত্মধিক্কারে জর্জরিত হইলাম। এখন এমন একটা উপায় বাইর করা দরকার, যাতে অন্তত রাদিয়া এসবের কিছু জানতে না পারে। আমি বললাম, “দেখেন খালা, আপনি রাদিয়ার আইডল। আমি চাই রাদিয়াও আপনার মত হইয়া উঠুক।”

এতে সে একটু বেতবা খাইল। আমারে বলল, “শোন ছেলে, রাদিয়ার সঙ্গে তোমার কিছুই হবে না। বললা না ওরা হুজুর ফ্যামিলি? আসলেও তাই। এইট নাইনে উঠলেই দেখবা বেশি বেতন পাওয়া একটা ছেলের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি তখন? এইট নাইনেরই একটা ছেলে হইয়া থাকবা। বুঝছো? তার চেয়ে নিজের মত কইরা বড় হইতে থাকো, ফাঁকে একটু যদি আমারেই ভালোবাসলা তো বাসলাই—অসুবিধা কী? এখন আসো আমরা ট্রেন ট্রেনে হাঁটি। কখনও হাঁটছো সবটা ট্রেনে!”

ট্রেন চিটাগাং স্টেশনে থামার পর বাকিদের বাসায় যাইতে বইলা মিতু খালা আমার সঙ্গে থাইকা গেল। আমারে ফেনীর দিকের কোনও একটা ট্রেনে তুইলা দিয়া পরে সে যাবে—এমন জানাইল ওদের। ফর্সা ছেলেটা কিছুই বলল না। সে যে কার কী হয়—শেষ পর্যন্তও জানতে পারলাম না।

বিচ্ছিন্নভাবে স্টেশনে দাঁড়াইয়া থাকা একটা বোগাস বগিতে বইসা আমরা আরও অনেক কথা বললাম। মিতু খালার ভাষায়, ‘আড্ডা দেওয়া’। বলতে গেলে, ওইটাই ছিল আমার সচেতনভাবে কারও সঙ্গে প্রথম ‘আড্ডা দেওয়া।’

আপনার সঙ্গে আবার দেখা হবে কীভাবে?

জানি না! আর হয়ত হবে না, তাতে কি খুব বেশি ক্ষতি?

আমার খারাপ লাগবে। কিন্তু আমি কি রাদিয়ার সঙ্গে দেখা করব না আর?

তোমার ইচ্ছা। তবে আমার মনে হয় ওইটার কোনও ভবিষ্যৎ নাই। এমনি বন্ধুত্বই ভালো।

দুপুরে স্টেশনের বাইরে নিয়া আমারে ভাত খাওয়াইল সে। নিজেও খাইল। বলল, “সাইদুল খুব আশেপাশেই কোথাও আছে। তবু ওকে আসতে বলি নাই কেন জানো?”

কেন?

যাতে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ তৈরি না হয়—হা হা… “ধুর, উনাকে আসতে বললেই পারতেন!”

মোটেও না। আমি তো প্রেমই করতেছি তোমার সঙ্গেও। ওকে আসতে বললে হয়, বলো?

চট্টগ্রাম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

চট্টগ্রাম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

আমি শরম পাই। আর খুব যত্ন কইরা—শব্দ না করে, মুখ বন্ধ রেখে ভদ্রভাবে ভাত খাইতে থাকি। আমার মনে হয়, মিতু খালাকে কেন আমি খালা বলে ডাকতেছি! রাদিয়ার খালা মানে কি সেজন্য আমারও খালা হইতে হবে নাকি!

আমি বললাম, “মিতু। তোমাকে আমার সারাজীবন মনে থাকবে।” মিতু খালা ফিক কইরা হাইসা দিয়া বলল, “আর তোমাকে আমি কালকেই ভুলে যাইতে পারি!”

তাতে আমার একটু মন খারাপ হয় বটে, কিন্তু তাতে কী—আবার স্টেশনে ঢুকতে ঢুকতে আমি তারে এই স্টেশনেরই পাশের রেলকলোনিতে থাকে—এমন এক মেয়ের প্রতি আমার অতীত দুর্বলতার গল্প শোনাইতে থাকি। “বুঝছো, ওর নাম ছিল প্রিয়াঙ্কা—গোলগাল দেখতে। হিন্দু যদিও, তবু তারও প্রেমে পড়ছিলাম। ঘুম হইত না…।”

 

তানিম কবিরের আরো লেখা

About Author

তানিম কবির
তানিম কবির

জন্ম ফেনী জেলার পরশুরাম-বিলোনীয়া এলাকায়। কবিতা ও গল্প লেখেন। প্রকাশিত কবিতার বই তিনটি, ‘ওই অর্থে’ (শুদ্ধস্বর ২০১৪), ‘সকলই সকল’ (শুদ্ধস্বর ২০১৫) ও 'মাই আমব্রেলা' (আদর্শ ২০১৬) এবং একটি গল্পের বই 'ইয়োলো ক্যাব' (ঐতিহ্য ২০১৬)। সম্পাদনা করেন দৈনিক ভোরের পাতার সাপ্তাহিক সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘চারুপাতা’। এর আগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ ও প্রিয়.কমে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রকাশিতব্য বই, ‘ঘরপলায়নসমূহ’ (ফেব্রুয়ারি ২০১৭) ফেসবুক পেজ: Tanim Kabir (Writer)