নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ায় সে। তার প্রেমিকের মায়ের বাড়িতেও সে আশ্রয় নেয়।

ইজরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ-এ প্রকাশিত তথ্য মতে, সামি কারা নামের এক ব্যক্তি তার ১৭ বছরের মেয়ে হেনরিয়েটকে খুন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। জেলে থাকা একজন মুসলিম ছেলের সাথে তার সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় এ রকম সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।

মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে হেনরিয়েট পুলিশের কাছে তার মায়ের নামে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করে। তার পরিবার বেশ কয়েকদিন যাবৎ এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তার ওপর নানা ধরনের নির্যাতন করে আসছিল। সেসব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ায় সে। তার প্রেমিকের মায়ের বাড়িতেও সে আশ্রয় নেয়।

সামি কারা

তার প্রেমিকের মা’কে তার পরিবার থেকে হুমকি দেয়া হলে সে সেখান থেকেও বেরিয়ে আসে। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তার মা ও একজন আত্মীয় তার সাথে এক বান্ধবীর বাসায় সাক্ষাৎ করে। পুলিশের একজন অফিসার তাকে সাহায্য করতে আসলেও সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানায় হেনরিয়েট। এরপর রাত তিনটার দিকে তার বাবা এসে তাকে মারধোর করেন।

১১ জুন, ২০১৭ তারিখে পুলিশদের আহ্বানে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে হেনরিয়েট। সমাজকর্মীরা তাকে পূর্ণ সাহায্য এবং ভরণপোষণের সুযোগ দিলেও তা গ্রহণ করে নি সে। তারপর ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে হেনরিয়েট। পরদিন তার হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন পার্টিতেও অংশগ্রহণ করে।

১৩ জুন তার প্রেমিকের জেলখানার ক্যান্টিন অ্যাকাউন্টে ১১৩ ডলার জমা দেয় হেনরিয়েট। এরপর বাসায় এসে এক আত্মীয়কে জানায়, ওই সপ্তাহেই তার বয়ফ্রেন্ড ছাড়া পাবে এবং তার সাথে বিয়ে করার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে সে। এরপর তার বাবাকে খবর দেওয়া হলে তিনি হেনরিয়েটকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন।

তদন্তের সময় তার মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার বাবা এই ঘটনায় অনেক অপমানিত বোধ করেছিলেন এবং তা তাদের পরিবারে সম্মানের প্রতি এক বিশাল অবমাননার বিষয়।

হত্যার আগের রাতে পুলিশের রেকর্ড করা কথোপকথন থেকে জানা যায়, সামি কারা মেয়ের ব্যাপারে তার স্ত্রীকে বলছিলেন, “ওর কথা ভুলে যাও! তাকে ধরার জন্য আমাদের আর এক পয়সাও খরচ করা ঠিক হবে না। সে আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই না। তাকে চাবুক দিয়ে পেটানো দরকার। তারপর কুকুরের মতো ছুঁড়ে ফেলতে হবে।”

হেনরিয়েটের বাবা সামি কারা’কে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন নাই। তার অতীতে মাদক পাচার ও সম্পদ বেদখলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে।