page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

“মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে ফাইটটা দিতে হবে।” — শ্বেতা শতাব্দী এষ

দ্বিতীয় দশকের কবি শ্বেতা শতাব্দী এষ জন্মের পর থেকেই থ্যালাসেমিয়া রোগে ভূগছেন। থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য যেই বিপুল পরিমাণে অর্থের দরকার হয়, সেই অর্থ জোগাড়ের লক্ষে শ্বেতা ও তার শুভানুধ্যায়ীরা একটি ফান্ড রাইজিংয়ের কাজ আরম্ভ করেন। ইন্টারভিউটিতে এই ফান্ড রাইজিংয়ের পদ্ধতি ও অগ্রগতি নিয়ে আলাপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শ্বেতার বর্তমান অবস্থা, তিনি কীভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেইসব ব্যাপারও তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

শ্বেতা শতাব্দী এষের সাক্ষাৎকার ২০১৭

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: সাদ রহমান


সাদ রহমান

কী অবস্থা এখন বর্তমানে, কীভাবে টাইম কাটতেছে আপনার?

শ্বেতা শতাব্দী এষ

টাইম কাটতেছে, এখন তো জবে যেতে পারতেছি না। সারাদিন হয়ত বই পড়ি, মুভি দেখি, গান শুনি, রেস্টে থাকি আর কি।

সাদ

জানছি আপনি এখন অসুস্থ আছেন, থ্যালাসেমিয়া আপনার অসুখটার নাম। বলবেন এটা কেমন?

শ্বেতা

থ্যালাসেমিয়া একটা জিনগত রক্তরোগ। মা-বাবা দুইজনই যদি এই রোগের বাহক হয়, তাহলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ার পেশেন্ট হয়, এটা হচ্ছে ৮০ পার্সেন্ট, আর ২০ পার্সেন্ট হচ্ছে সন্তান ক্যারিয়ার হয়েও জন্ম নিতে পারে। যেমন আমার বড় বোন, সে হচ্ছে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। কিন্তু সে পেশেন্ট না। কিন্তু আমি পুরাপুরি পেশেন্ট হয়েই জন্ম নিছি। মা-বাবার মধ্যে একজন যদি ভালো থাকে, মানে বাহক না হয়, তাহলে হয়ত বাচ্চাটা ক্যারিয়ার হবে, কিন্তু অসুস্থ হবে না।

সাদ

বুঝতে পারছি। আপনি এই ব্যাপারটা অবগত হইলেন কবে, আপনার মধ্যে এটা আছে, মানে টের পাইলেন কবে?

শ্বেতা

আমার জন্মের পর থেকেই দেখা যাইত জ্বর থাকত। বিভিন্ন টেস্ট করা হত। হয়ত অষুধ খাওয়ার পরে ভালো হইত, আবার জ্বর আসতেছে। খাওয়া হলো কোনো একটা খাবার, আমি সাথে সাথে বমি করে দিতাম।

ওইভাবে চলতে চলতে চার-পাঁচ মাস বয়সের দিকে ভালোভাবে ডাক্তার দেখানোর পরে, ঢাকাতে সিএমএস হসপিটাল আছে না একটা? মানে আর্মিদের যে হসপিটালটা, ওইখানে টেস্ট করার পরে প্রথম এই রোগটা তারা আমার ছয়মাস বয়সে রিকগনাইজ করল যে, হ্যাঁ, এইটা থ্যালাসেমিয়া। বাচ্চাকে প্রতি মাসে ব্লাড দিতে হবে। এবং ব্লাড নেওয়ার পরে শরীরে, ব্লাডের তো তিনটা সেল থাকে—শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা, লোহিত কণিকা—তো লোহিত কণিকা অতিরিক্ত বাইরে থেকে নেওয়ার ফলে, আমার তো দরকার শুধু হিমোগ্লোবিন, এইভাবে তো আমার আয়রনটাও ঢুকতেছে, আয়রনটার দরকার নাই পেশেন্টের। আয়রনটা হয় কী, বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয় শরীরের। সারা শরীরেই—লিভার, প্লীহা, হাড়, সব জায়গাতেই জমা হয়। তো, ওই অতিরিক্ত আয়রন বের করার জন্য আমার ব্লাড নেওয়ার পাশাপাশি ইনজেকশন নিতে হইত। আর মুখে খাওয়ার অষুধ সেটা কিছুদিন হইছে আবিস্কার হইছে, এর আগ পর্যন্ত আমাকে ইনজেকশনই নিতে হইত। হয়ত সপ্তাহে চারটা করে আমি ইনজেকশন নিচ্ছি, এমন।

“সেই আমি।”—শ্বেতা শতাব্দী এষ

সাদ

ফাইনালি, ইদানিং বড় ভাবে চিকিৎসা কবে শুরু করলেন, মানে দরকার হইল। ওই ইনজেকশন নিতেন, এর বাইরে।

শ্বেতা

এর বাইরে হচ্ছে ২০০৯ সালে, ২০০৯ সালে অতিরিক্ত আয়রনের জন্য আমার প্লীহা কেটে ফেলা হয়। সেটা হচ্ছে পিজিতে। মানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হসপিটালে। প্লীহাটা কেটে ফেলার পরে, প্লীহা তো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। মানে অ্যান্টি বডি, সেটা আমার থাকল না। তো এর পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের জটিলতা আস্তে আস্তে দেখা দিতে লাগল। যেমন জন্ডিস হওয়া, বা লিভার ইফেক্টেড হয়ে গেল।

এখন আয়রনগুলো পুরাটাই লিভারে জমা হচ্ছে আর লিভারটা বড় হয়ে যাচ্ছে। আমার বোন-এর যে মিনারেল ডেনসিটি থাকে, সেটা অনেক কমে গেছে। যেমন আমি হাঁটতেই পারতেছি না। আমার মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর পরই আমি ইউপিএলে ঢুকছিলাম, জবে। ইউপিএলে ঢোকার পরে আমি তিন মাস জবে গেলাম, অফিস করতাম। দুইটা বাস বদলায়া আমাকে—গুলশানে অফিস ছিল—ওইখানে যেতে হত মিরপুর থেকে। তো এই যে বিপুল পরিমাণে জার্নি, জার্নির কারণে আমার শরীর একবারেই ভেঙে গেল। এবং এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে একদম চূড়ান্ত মাত্রায় অসুস্থ হয়ে গেলাম। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম ঊনিশ দিন। তারপরে প্রাইভেট মেডিকেলে। এখন ডাক্তার টোটালি আমাকে বেড রেস্টে থাকতে বলছে।

সাদ

আপনি কোন ডাক্তারদের সঙ্গে এখন যোগাযোগ করতেছেন? মানে কাদের সাজেশন নিতেছেন।

শ্বেতা

আমি প্রথমে দেখাইতাম ডাক্তার মঞ্জুর মোর্শেদকে। উনাকে আমার কথা বললে উনি ভাল বলতে পারবেন। উনি আগে পিজিতে প্রাকটিস করতেন। এখন মনে হয় রিটায়ার করছেন। তো উনি এখন পুরান ঢাকাতে যে আজগর আলী হসপিটাল, ওখানে বসেন। উনি পরে রেফার করলেন, প্লাস আমি ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হলাম ফেব্রুয়ারিতে, তো ঢাকা মেডিকেলের অধ্যাপক, হেমাটোলজি ডিপার্টমেন্টের উনি মনে হয় প্রধান, ডাক্তার অখিলরঞ্জন বিশ্বাস, এখন উনার কাছে যাচ্ছি। উনি থ্যালাসেমিয়া স্পেশালিস্ট, প্লাস হচ্ছে বোন-এরও স্পেশালিস্ট।

সাদ

উনার কী বক্তব্য এখন আপনার ব্যাপারে?

শ্বেতা

উনি পরবর্তীতে বিভিন্ন টেস্ট করতে দিলেন, মানে হসপিটাল থেকে রিলিজ পাওয়ার পরে উনাকে যখন আমি প্রাইভেটলি দেখাইতে গেলাম, মিরপুর ১০-এ আলোক নামে একটা হসপিটাল আছে, ওখানে উনি বসেন। তারপরে বিভিন্ন হাড়ের পরীক্ষা, বোন মিনারেল ডেনসিটি, পরে লিভার পরীক্ষা, এসব কিছু করার পরে উনি বললেন যে, এখন অবস্থা খুবই খারাপ। আপাতত জব-এ যেতে পারব না। রেস্টে থাকতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয়, শুধু তো থ্যালাসেমিয়াই আমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই, আদার অসুখগুলাও ঘিরে ধরছে, এই অবস্থায় আমাকে একটা টোটাল ট্রিটমেন্টের ভিতর দিয়ে যেতে হবে।

সাদ

সেটা কী বলছেন উনি?

শ্বেতা

সেটা হচ্ছে, হাড়ের যে মিনারেল, এটা যদি আমি ঠিক না করতে পারি, তাহলে হাঁটতে পারব না হয়ত। পারমানেন্টলি ড্যামেজড হয়ে যাবে। লিভার সিরোসিস হয়ে যাবার সম্ভাবনাও আছে আমার, যেহেতু লিভারটা অনেক ইফেক্টেড হয়ে গেছে আয়রনের কারণে। এবং হার্টের যে কী অবস্থা, এটা বাংলেদেশে টেস্টই হয় না। শুধু লিভারের টেস্টটা হয় ইবনে সিনাতে। তাও সেটা অনেক টাকা নেয়। তো হার্টের টেস্টটা হয় না। সেটা ইন্ডিয়াতে হয়। তো এইসব কিছু কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ইন্ডিয়াতে যাব, ভেলোরে। এবং এখানের ডাক্তাররা, মানে অখিলরঞ্জন বিশ্বাস ও আরো যে ডাক্তাররা, উনারা সবাই বললেন যে, কোলকাতা আর বাংলাদেশের ট্রিটমেন্ট প্রায় একই রকম। গেলে ভেলোরে যাওয়াই ভাল।

সাদ

তো এখন ওখানে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, নাকি টেস্টটা, যেটার কথা বললেন, সেটার জন্য।

শ্বেতা

নির্দিষ্ট বলতে, ওখানে মূলত আদার যে সমস্যাগুলো। থ্যালাসেমিয়ার জন্য তো আমরা হেমাটোলজি বিভাগে যাবই। পরবর্তীতে আমার যে হরমোনাল আরো কিছু প্রবলেম হইছে, হাড়ের যে অর্থপেডিক্স, লিভারের গ্যাস্ট্রলজি, এ সমস্ত কিছুর চেকআপ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং তারা যে ট্রিটমেন্টটা দেয়, সেগুলো ইয়ে করার জন্যই আমরা যাচ্ছি।

সাদ

কবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আপনাদের?

শ্বেতা

যাব তো সতেরো তারিখ, সকালের ট্রেনে আর কি, মৈত্রী এক্সপ্রেস যেটা। কোলকাতায় যাব। ওখান থেকে।

সাদ

তো ওই জায়গায় যাওয়ার জন্য এবং চিকিৎসা করার জন্য আপনাদের কেমন টাকা লাগতে পারে, কোনো ধারণা আছে?

শ্বেতা

এটার ধারণা আসলে, হসপিটালে ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। ওখানে আরো দুই তিনটা হসপিটাল, যেমন টাটা মেমোরিয়াল, তারপরে পরশ হসপিটাল নামে আরেকটা হসপিটাল আছে, এবং সিএমএস, যেটাতে আমরা এখন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিছি, এই রকম দুইতিনটা হসপিটালের সাথে যোগাযোগ করা হইছে। ওরা কোনো ধারণাই দিতে পারতেছে না। কেউ বলে হয়ত যাওয়ার পরে সাত-আট লাখ টাকা লাগতে পারে। ওখানে থাকা খাওয়া সব কিছু মিলায়ে, এটা আসলে বলা যাচ্ছে না। আসলে আমার ট্রিটমেন্টটা সারা জীবন নিতে হবে। আমি যতদিন বেঁচে থাকব আমাকে এই রক্তও নিতে হবে, প্লাস আদার যেই সমস্যাগুলো, ওগুলোকেও আমার ফেইস করে যেতে হবে। এটা তো আসলে এমন না—ক্যান্সার হইল, আট দশটা কেমো নিলাম, ভাল হয়ে গেলাম অথবা মারা গেলাম। এই রকম ডিজিজ না। এই ডিজিজটা আমি জন্মের পর থেকে ফাইট দিয়ে আসতেছি, এবং মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে ফাইটটা দিতে হবে।

সাদ

এখন আর কী জিনিসটা বড় আকার ধারণ করছে।

শ্বেতা

এখন অনেক কমপ্লিকেটেড হয়ে গেছে আর কি।

সাদ

আচ্ছা, আমি ফেসবুকে কিছু পোস্ট দেখছি। ৩০ লাখ টাকার কথা লিখছেন কেউ কেউ।

শ্বেতা

হ্যাঁ, ৩০ লাখ টাকার ব্যাপারটা হইছে কী, ওইখানে গিয়ে তো আমাদের ট্রিটমেন্টটা করতে হবে। ওইখানে যে খরচটা হল, সেটা হইল। এবং পরবর্তীতে কত টাকা লাগবে, সেটার অ্যামাউন্টটা বলা যাচ্ছে না। আমার প্রতিমাসে অষুধ, ইনজেকশন, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রক্ত সঞ্চালন, এইসব কিছু মিলায়ে এখন ৩০ হাজার টাকার উপরে লাগে। এই বিপুল পরিমাণে টাকা, প্রত্যেক মাসে আমার মনে হয় না কোনো ফ্যামিলির পক্ষেই, আমাদের মত মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির বেয়ার করা সম্ভব। যেই টাকা থাকবে ট্রিটমেন্ট করানোর পরে, আর যদি দশ-পনেরো লাখ টাকা থেকে যায়, সেটা হচ্ছে আমার ট্রিটমেন্টের জন্য ওই ফান্ডটা রাখা হবে। এবং ওই টাকাটা দিয়ে পরবর্তীতে সবসময় আমি যেন, আজীবন ট্রিটমেন্টটা চালায় নিতে পারি। এইটার জন্য আর কী, মানে ওদেরকে কী বলব, সাপোর্টার হিসাবে থাকা।

সাদ

এই টাকাটা ম্যানেজ করার জন্য আপনারা কী কী প্রক্রিয়া নিতেছেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছেন।

শ্বেতা

এটা তো আসলে, আমি যখন বাংলা বিভাগে পড়ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখন আমার টিচার মেহের নিগার ম্যাডাম, উনি আমার ফান্ডের ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগ নেন। এবং তখন একটা কনসার্টও করা হয় টিএসসিতে। ওইখান থেকে কিছু টাকা আসছিল, খুবই কম। এখন ম্যাডাম দেশে না থাকার কারণে, উনার খুবই ক্লোজ ফ্রেন্ড হচ্ছে কাবেরী গায়েন ম্যাডাম। আমার বড় বোন কাবেরী গায়েন ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করার পরে ম্যাডাম একটা লেখা দিলেন, লেখাটা ‘উইমেন চ্যাপ্টার’ নামে একটা অনলাইন পোর্টালে প্রথমে ছাপা হল। তারপর ম্যাডাম তার টাইমলাইনেও লেখাটা দিলেন। এরপরে এটা ফেসবুকে সবার নজরে আসে। বিশেষ করে যারা কবি, তারপরে আর্টিস্ট, শিল্পসাহিত্যের জগতে যারা আছেন, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, তাদের নজরে আসল।

এরপরে আর কাউকে আমাদের বিশেষ করে কিছু বলার দরকার হয় নাই। কারণ কাবেরী গায়েন ম্যাডামের যে পোস্টটা, ওইখানেই ডিটেইল সবকিছু ছিল। আমার বর্তমান অবস্থা ওইখানে ডিটেইল দেওয়া ছিল। তো এর পরবর্তীতে উনারা সবাই আগায় আসেন। যেমন কবি রুহুল মাহফুজ জয়, হাসান রোবায়েত—উনারা বইমেলার আয়োজন করেন। এখন চিটাগাংয়ে বইমেলা হচ্ছে। রংপুরে হচ্ছে ফান্ড কালেকশনের কাজ। তারপরে নির্ঝর দা, রাজীব দা, বিধান দা, উনারা আর্ট এক্সিবিশনের কথা বলতেছেন। তারপরে ফরিদ কবির ভাই, সবাই মিলে আমার পাশে, আমার পরিবারের পাশে এমনভাবে এসে দাঁড়ালেন, এখন আর আমরা একা না। এখন আর এই ফান্ড রাইজিংয়ের কাজটা আমাদের একার বিষয় হয়ে নাই, এখন মনে হচ্ছে যেন উনাদের সবার একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াইছে।

সাদ

এর ভিতর দিয়ে আপনারা কোনো ঝামেলা বা ডিফিকাল্টিস ফেইস করছেন? আমি ফেসবুকে কিছু পোস্ট দেখছি।

শ্বেতা

ঝামেলা বলতে আমাদের দেশের যারা আছেন, তারা তো সবকিছুই জানেন। এবং আমাদেরকে সবাই মোটামুটি ভালোভাবে চেনে। কারণ এখানে তো আমরা কম দিন ধরে আমরা আছি, এ রকম না। আমাদের জন্মই এই দেশে। এবং কবিতার জগতে মোটামুটি সবাই চেনে আমাদেরকে। বিশেষ করে আমার ‘আয়েশা ফয়েজ পুরষ্কার’ পাওয়াটা, এটা সবার নজরে আসছে। আর ছোটবেলা থেকেই আমি যেহেতু অসুস্থ, সেই কথাটা আমার বন্ধুরা সবাই জানত, আমার ডিপার্টমেন্টের ফ্রেন্ডরা। সবার মাধ্যমে এই জিনিসটা তো আর অপ্রকাশিত নেই কিছু। কিন্তু ইন্ডিয়ান দুই একজন কবি, যারা কোনো কিছু না জেনে, জানার চেষ্টাও না করে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করতেছেন। শুধু আমার বা আমার বোনের প্রতিই যে তাদের মন্তব্য, তা না। আমার জন্য যারা কাজ করতেছে, বাংলাদেশের এই তরুণ কবিমহল, তাদেরকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করতেছেন যে, এরা নেশাখোর। ফান্ডের টাকা দিয়ে, তারা নেশার জন্য টাকা তুলতেছে। এই ধরনের, এটা কী বলবো, মানসিক বিকারগ্রস্ত কথাকে এই দেশের কবিরা পাত্তা দিচ্ছে না।

সাদ

আপনি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উনাদের কিছু করবার আছে কিনা, উনারা জানেন কিনা, বা উনারা কোনো ইনিশিয়েটিভ নিছেন কিনা?

শ্বেতা

এখানে আমার জন্য যিনি কাজ করেছিলেন, মেহের নিগার ম্যাডাম, উনি দেশে থাকলে হয়ত ডিপার্টেমেন্টের পক্ষ থেকে কিছু করা সম্ভব হইত। কিন্তু এখন ডিপার্টমেন্টে এই কথাগুলো উত্থাপন করার মত কেউ নেই। বা আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে, বা কারো মাধ্যমে এই কথাগুলো ডিপার্টমেন্টে যাচ্ছে না, এই কারণেই তারা কোনো উদ্যোগ নিতেছে না।

সাদ

আচ্ছা, আপনারা এই পর্যন্ত, যদি জানান ভালো হয় আর কি, কী পরিমাণ টাকা আপনারা পাইছেন?

শ্বেতা

আমরা কাবেরী গায়েন ম্যাডামের লেখাটা দেয়ার আগে হচ্ছে আমার এক বন্ধু আমাকে একলাখ টাকা দিছেন। আরেক লাখ টাকা অন্য আরেকটা জায়গা থেকে আমরা পেয়েছি। এই দুই লাখ ছিল। আর ম্যাডামের লেখাটা পাওয়ার পরে বিভিন্ন ভাবে, বিকাশে বা আদার্স, কেউ সরাসারি দিয়েছেন, এভাবে আমাদের সাড়ে চার লাখ টাকার মতো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এইটুকু আর কি।

সাদ

আপনি ১৭ তারিখ যাইতেছেন তাহলে ইন্ডিয়ায়?

শ্বেতা

হ্যাঁ, ১৭ তারিখ আপাতত যতটুকু হইছে, এটা নিয়েই যাচ্ছি। পরবর্তীতে যা লাগবে, আশা করতেছি এখান থেকেই এরমধ্যে জোগাড় হয়ে যাবে। এবং পাঠানো সম্ভব হবে।

১১ জুন ২০১৭

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

কালচার

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।

Leave a Reply