রাজধানী থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ঘুরে আসা যায় এমন একটা জায়গা খুঁজছিলাম। এক বন্ধু বলছিল ঢাকার দোহারের মৈনট ঘাটের কথা। পদ্মার পাড়ে নাকি  ইলিশ খাওয়া যায় শস্তায়। আমার ইচ্ছা ছিল ঘাটে গিয়ে ইলিশ খাবো আর একত্রে অনেক ইলিশ দেখবো।

৫ এপ্রিল, বুধবার (২০১৭) গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার থেকে সকালে রওনা দিলাম । যমুনা  পরিবহনে করে কেরাণীগঞ্জ, বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলি, নবাজগঞ্জ দিয়ে দৃশ্য দেখতে দেখতে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাই মৈনট ঘাটে। চোখে পড়ল পদ্মা আর দুই পাশে বিশাল চর।

গুগল ম্যাপে মৈনট ঘাট।

রাস্তার পাশে একটা হোটেলে বসে সিঙ্গারা খাচ্ছিলাম।  এ সময় একটা মজার ঘটনা ঘটলো। এক লোক দুইটা সিঙ্গারা কিনলেন। দুই পা এগিয়েই আবার ফিরে এসে বললেন যে সিঙ্গারা কেটে দিতে হবে। হোটেলওয়ালা বললেন, সিঙ্গারা কেটে বিক্রি করি না। কোন জায়গায় দেখছেন যে সিঙ্গারা কেটে বিক্রি করে!  লোকটি বললেন, “দেখছি সব  জায়গায়ই বিক্রি করে।” তাদের মাঝে কিছুটা তর্ক হলো। এক পর্যায়ে লোকটা সিঙ্গারায় কামড় দিতে দিতে চলে গেলেন।  আমরা পানির দিকে এগোলাম। ঘাটে ব্যাপারিদের পেয়াজ আলুর বস্তা পড়ে আছে। লোকজন যে যার মতো ব্যস্ত। কেউ আড্ডা দিচ্ছে, কেউ হিসাব করছে।

ঘাটে ছোট ছোট টং দোকান আছে। আর আছে ভাতের হোটেল। ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য মৈনট ঘাটের আশপাশে কোনো হোটেল বা রিসোর্ট এখনও হয় নাই। তাই মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য এখনও স্বাভাবিক।

নানাবয়সী মানুষ চরের পাশে ঘুরছে। কেউ গোসল করছে। আমরা দুই বন্ধু নেমে ছিলাম গোসল করতে। লোকজন আমাদের সতর্ক করলো, দেখেশুনে নামতে। জায়গায় জায়গায় নাকি চোরাবালি আছে, মানুষও মারা গেছে।

নদীতে সূর্যাস্ত দেখে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ বাস ধরলাম।

  পদ্মার চরে  বাদাম ক্ষেত

পাড়ভাঙা পদ্মা 

কিশোরদের  লাফালাফি

মাছ ধরছে জেলেরা

পদ্মার পাড়ে বিশ্রাম 

বৃষ্টিশেষে নদীর পাড়ের রাস্তা

পদ্মার মাঝে চর জাগছে

সূর্য ডুবছে, চরের পাশে বেঁধে রাখা নৌকা

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।