page contents
Breaking News

রসায়নে ২০১৭ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হল যে কারণে

৪ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে রসায়নে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বায়োকেমিস্ট্রির একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য তিনজন বিজ্ঞানীকে এবার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সুইজারল্যান্ডের জ্যাক দুবোচেট, জার্মানির জোয়াচিন ফ্র্যাঙ্ক ও স্কটল্যান্ডের রিচার্ড হেন্ডারসন। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে nobelprze.org ওয়েবসাইটে যে প্রেস রিলিজ প্রকাশিত হয় তার বাংলা অনুবাদ এখানে থাকছে।

অনুবাদ: আশরাফুল আলম শাওন


 

রসায়নে ২০১৭ সালের নোবেল প্রাইজ

জ্যাক দুবোচেট, জোয়াচিন ফ্র্যাঙ্ক, রিচার্ড হেন্ডারসন  

প্রেস রিলিজ

৪-১০-২০১৭

 দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী অব সায়েন্সেস ২০১৭ সালে রসায়নে তিনজন বিজ্ঞানীকে নোবেল প্রাইজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা হলেন

সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লস্যানে’র
জ্যাক দুবোচেট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির
জোয়াচিন ফ্র্যাঙ্ক

এবং

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজির
রিচার্ড হেন্ডারসন

“বায়োমলিকিউল বা সপ্রাণ জীবদেহের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জৈব-অণুর আণবিক গঠনের স্পষ্ট ত্রিমাত্রিক ছবি তুলতে পারার প্রযুক্তি—ক্রাইয়ো ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপিতে অবদান রাখার জন্য”

 

কুল মাইক্রোস্কোপ টেকনোলজি প্রাণরসায়নে বিপ্লব ঘটিয়েছে

খুব শীঘ্রই হয়ত আমরা পারমাণবিক রেজ্যুলেশনে জীবনের জটিল যন্ত্রাংশগুলির ডিটেইলড ছবি দেখতে পাব। বায়োমলিকিউলের বা জৈব-আণবিক গঠনের ছবি তোলার কৌশলকে সহজ ও উন্নত করেছে ক্রাইয়ো-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপি। এই ক্রাইয়ো-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপি তৈরির জন্য ২০১৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে জ্যাক দুবোচেট, জোয়াচিন ফ্র্যাঙ্ক ও রিচার্ড হেন্ডারসনকে। এই পদ্ধতির কারণে প্রাণরসায়ন নতুন একটি যুগে প্রবেশ করেছে।

কোনো কিছু বোঝার জন্য ছবি একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। সাধারণভাবে মানুষের চোখে ধরা পড়ে না এমন জিনিসকে সফলভাবে দৃশ্যমান করার কারণে প্রায়ই বৈজ্ঞানিকভাবে বিশাল অনেক সাফল্য আসে। তবে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণরসায়নের মানচিত্রে শূন্যস্থান বেশি, কারণ প্রাণের বেশিরভাগ আণবিক যন্ত্রাংশগুলির ছবি তৈরি করা বিদ্যমান প্রযুক্তির জন্য কঠিন ছিল। ক্রাইয়ো-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপি এইসব কিছু বদলে দিয়েছে। গবেষকরা এখন জৈব-অণুগুলির ছবি তুলতে পারেন এবং আগে কক্ষনো দেখা সম্ভব হয় নি এমন প্রক্রিয়াগুলিকে দেখতে পারেন। এই প্রযুক্তি জীবনের রসায়ন মৌলিকভাবে বোঝার জন্য এবং ওষুধ তৈরির জন্য অবধারিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকদিন ধরে মনে করা হত যে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ শুধুমাত্র মৃত বস্তুর ছবি তোলার জন্য ভালো কাজ করে, কারণ শক্তিশালী ইলেক্ট্রন রশ্মি বায়োলজিক্যাল উপাদানগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু, ১৯৯০ সালে রিচার্ড হেন্ডারসন ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে অ্যাটমিক রেজ্যুলেশনে প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক ছবি তুলতে সক্ষম হন। এই সাফল্য এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা প্রমাণ করেছিল।

জোয়াচিন ফ্র্যাঙ্ক এই প্রযুক্তিটিকে সাধারণভাবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি একটি ইমেজ প্রসেসিং মেথড তৈরি করেন, এই মেথড ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে তোলা অস্পষ্ট দ্বিমাত্রিক ছবিগুলিকে বিশ্লেষণ করে এবং একটি ঝকঝকে ত্রিমাত্রিক ছবিতে পরিণত করে।

জ্যাক দুবোচেট ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপিতে পানি যোগ করেন। তরল পানি ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের ভ্যাকুয়ামে বাষ্পীভূত হয়, এর ফলে বায়োমলিকিউলগুলি নষ্ট হয়ে যায়। ১৯৮০ এর দশকের প্রথম দিকে দুবোচেট এই পানিকে কাচের মত উপাদানে পরিণত করতে সফল হন—তিনি খুব দ্রুত এই পানিকে ঠাণ্ডা করেন, এতে কোনো বায়োলজিক্যাল স্যাম্পলের চারপাশে এই পানি তরল অবস্থায়ই কঠিন পদার্থের মত স্থির হয়ে যায়। এর ফলে কোনো ভ্যাকুয়ামের মধ্যেও কোনো বায়োমলিকিউল তার প্রাকৃতিক আকার লাভ করতে পারে।

এই আবিষ্কারগুলিকে অনুসরণ করে, ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের প্রত্যেকটি নাট ও বোল্টকে যথাযথভাবে ঠিক করা হয়েছে। ২০১৩ সালে সেই আকাঙ্ক্ষিত অ্যাটমিক রেজ্যুলেশনের ছবি পাওয়া যায়, এবং এখন গবেষকরা নিয়মিতভাবে বায়োমলিকিউলের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে থাকেন। গত কয়েক বছরে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ তৈরি করা প্রোটিন থেকে জিকা ভাইরাসের সারফেস পর্যন্ত, সবকিছুর ছবি দিয়ে বৈজ্ঞানিক সাহিত্য পরিপূর্ণ হয়েছে। প্রাণরসায়ন এখন বিস্ফোরণের গতিতে উন্নতি করছে এবং উত্তেজনাময় এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

জ্যাক দুবোচেট

জ্যাক দুবোচেট ১৯৪২ সালে সুইজারল্যান্ডের অ্যাইজলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জেনেভা ও ইউনিভার্সিটি অব বাসেল থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লসানে বায়োফিজিক্স বিষয়ে অনারারি প্রফেসর এর দায়িত্ব পালন করছেন।

ওয়েবসাইট: www.unil.ch/dee/en/home/menuinst/people/honorary-professors/prof-jacques-dubochet.html

জোয়াচিম ফ্র্যাঙ্ক

জোয়াচিম ফ্র্যাঙ্ক ১৯৪০ সালে জার্মানির সেইগেনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে জার্মানির টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োফিজিক্স ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ওয়েবসাইট: http://franklab.cpmc.columbia.edu/franklab/

রিচার্ড হেন্ডারসন

রিচার্ড হেন্ডারসন ১৯৪৫ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজিতে প্রোগ্রাম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ওয়েবসাইট: www2.mrc-lmb.cam.ac.uk/groups/rh15/

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

আশরাফুল আলম শাওন
আশরাফুল আলম শাওন

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জন্ম টাঙ্গাইলে। পড়াশোনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এ।

Leave a Reply