এমবিসি আরব দুনিয়ার প্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেল।

এমবিসি—দি মিডল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার, আরব দুনিয়ার লাখ লাখ টিভিদর্শককে ১০টি টিভি চ্যানেল দিয়ে পুরো রোজার  মাস উৎসবমুখর করে রাখে। বেশিরভাগ অনুষ্ঠান, ধারাবাহিক নাটক, কমেডি ইত্যাদি ধর্মনিরপেক্ষ মেজাজের। এতে বিনোদন, সমাজ বাস্তবতায় থাকা নানা প্রকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি বিষয়বস্তু থাকে।

ibrahi-1
দি মিডল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টারের চেয়ারম্যান ওয়ালিদ বিন ইব্রাহিম আল ইব্রাহিম।

সৌদি ধনকুবের ওয়ালিদ বিন ইব্রাহিম আল ইব্রাহিম এমবিসি গ্রুপের মালিক। নাসির আল খেলাইফি গ্রুপটির চেয়ারম্যান এবং সাম বারনেট সিইও। এতে আবদুল আজিজ বিন ফাহদের বেশিরভাগ শেয়ার। এমবিসি আরব দুনিয়ার প্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেল।

পঁচিশ বছর আগে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে দুবাই মিডিয়া সিটিতে হেড কোয়ার্টার স্থানান্তর হয়। এমবিসির স্লোগান “উই সি হোপ এভরিহোয়ার।”

abudhabi-theke-1

এবার তারা ২৫তম রোজা মাসে পৌঁছল। তাই ২০টিরও বেশি বিনোদন প্রোগ্রামে জমজমাট। এমবিসি ১ এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘রামেজ এলআব বিন্নার’—মানে ‘রামেজের আগুন দিয়ে খেলা’। মিসরীয় টিভি তারকা, সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা রামেজ জালাল অনুষ্ঠান সঞ্চালক। প্রতিদিন তিনি একজন তারকা মাপের কাউকে হাজির করেন সাক্ষাৎকার নিতে।

একটি বিলাসী হোটেল ভবনে সাক্ষাৎকার শুরু করেন নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। রামেজ অন্য কক্ষ থেকে মনিটরে দেখে দেখে সহকর্মীদের নির্দেশ দেন। অতিথির উদ্দেশে নানা রসকথা বলেন। “হুম টাইটফিট হইয়া সাক্ষাৎকার দিতে আইছেন! একটু পরে জ্বালাইয়া বারবিকিউ বানামু।”

আলাপ শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় নির্দেশ দেন—”স্পার্ক ওয়ান।” সাথে সাথে সাক্ষাৎকার নেয়ার কক্ষে বিজলি স্পার্ক করে ভয়ঙ্করভাবে। সবাই থতমত খায়।

antonio-2
এনটোনিও ব্যানডারাসের সাক্ষাৎকার নিচ্চেন রামেজ জালাল।
ramez-2
রামেজ জালাল।

আবার নির্দেশ, “স্মোক।” ধোঁয়া ছড়ায়। কক্ষের সবাই ভয়ে দাঁড়ান। তখন আবার মূল দরজার সামনে বড় স্পার্ক এবং ধোঁয়া বাড়ে।

রামেজ ওপাশ থেকে বলেন, “সবুর করো, দেখাচ্ছি মজা।” তিনি দ্রুত অগ্নিনির্বাপক টিমের ইউনিফর্ম মাস্ক লাগিয়ে ওয়ারলেসে হেলিকপ্টারকে দালানের উপরে আসার নির্দেশ দিয়ে, কয়েকজন নিয়ে দ্রুত আসেন ফায়ার এক্সিটিংগুইশারসহ। তারপর গলিপথে সিঁড়িতে তারা যেদিকে যায় সেদিকে স্পার্ক—আগুন।

নির্বাপক টিম নিভাতে নিভাতে তাদের নিয়ে আগায়। একটা ভীতিকর অবস্থার মাঝে আছাড়-বিছাড় খেয়ে চীৎকার কান্নাকাটির ভেতর দিয়ে ভবনের ছাদে ওঠেন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সবাই। অতিথি কারো হাঁটু ছিলে, কেউ ঠোঁটে মুখে আঘাত পায়। হেলিকপ্টার মাথার উপর আসে। তখন ভবনের উপরে তিন দিক থেকে বিস্ফোরণ আবার। সবাই ছাদে লুটিয়ে পড়ে। হেলিকপ্টার চলে যায়। রামেজ মাস্ক খোলেন। অতিথিকে জিজ্ঞেস করেন, “আর ইউ অকে?” জবাব পান “অকে।” সবাই উঠে হাততালি দেন। অতিথি অবাক।

সব অতিথি প্রথমে এমন বিপদজনক কৌতুক সহজভাবে নিতে পারেন না। কেউ কেউ, নারী পুরুষ উভয়, রেগেমেগে রামেজকে মারতে উদ্যত হন। ধাক্কা মেরে ফেলে দেন, থাপ্পড় মারেন। রামেজ বিচক্ষণ, সামাল দেন হাসতে হাসতে। তার উপস্থাপনা, অভিনয় তেজোদীপ্ত।

এই অনুষ্ঠানে একদিন আসেন স্পেনিশ অভিনেতা হলিউড তারকা এনটোনিও ব্যানডারাস। তাকে আনার জন্যে দেড় লক্ষ ইউএস ডলার দেয়া হয়। তিনি ভবনের ছাদে পৌঁছার পর প্রথমে হতবাক হন। দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক হন। রামেজ জানান, “লক্ষ লক্ষ আরব এই এপিসোডের অপেক্ষায় ছিল, এখন দেখছ, আমরা তোমাকে ভালবাসি।”

zud-3
ধারাবাহিক নাটক ‘জুদ’।

আরেকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘জুদ’। ওটা অনেকটাই ‘স্টার জলসা’র ধারাবাহিক ‘মায়ার খেলা’র মতো। পারিবারিক ফ্যাসাদ। গৃহকর্তার দ্বিতীয় বউ কীভাবে প্যাঁচ করে স্বামীর বাড়ি দখল করে, স্বামীকেই বের করে দেয়। স্বামী আধা পাগল অবস্থায় প্রথম স্ত্রীর বাপের বাড়িতে আশ্রয় পায়।

উল্লেখ্য, রমজানে এবার এমবিসির কেবল একটি ধারাবাহিক ধর্মীয় বিষয়ে, যেখানে আলেমে আলেমে হিংসা ও মতলববাজি ইত্যাদি উঠে আসে।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য