ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে স্বামীর সাথে সাগর তীরের একটি গ্রামে বেড়াতে যাওয়া এক নারীকে ঘিরে, সাগরের তীরে এসে এই নারী জীবন ও আবেগের প্রতি আবার আকর্ষণ অনুভব করে।

কিন্তু কোনো মানুষই আমাকে স্রোতের মত নড়াতে পারে নি
আমার সাধারণ জুতা ভেসে গেছে
এবং আমার অ্যাপ্রোন ও আমার বেল্ট
এবং আমার অন্তর্বাসও ভেসে গেছে
এবং সে আমাকে এমন করেছে যেন খেয়ে ফেলবে
সম্পূর্ণভাবে একটি শিশিরবিন্দুর মত…

এমিলি ডিকেনসনের ‘বাই দ্য সী’ শিরোনামের এই কবিতাটি প্রকাশিত হোক বা না হোক, ব্র্যাড পিট এবং অ্যানজেলিনা জোলির নতুন ছবির নাম নেওয়া হয়েছে এটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।

ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে স্বামীর সাথে সাগর তীরের একটি গ্রামে বেড়াতে যাওয়া এক নারীকে ঘিরে, সাগরের তীরে এসে এই নারী জীবন ও আবেগের প্রতি আবার আকর্ষণ অনুভব করে।

বিয়ের পর অ্যানজেলিনা জোলি এবং ব্র্যাড পিটের প্রথম ছবি হতে যাচ্ছে এটি। এর আগে এই দম্পতিকে প্রথম ও শেষবারের মত অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ২০০৫ সালে মি. অ্যান্ড মিসেস স্মিথ ছবিতে।

এই ছবিতে জোলি শুধু অভিনয়ই করছেন না, তিনি এটির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং ছবিটি প্রযোজনা ও পরিচালনাও করছেন। সম্প্রতি এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিতে প্রথমবারের মত এই রোমান্টিক ছবিটির স্থিরচিত্র এবং বিস্তারিত খবর প্রকাশ পেয়েছে। যদিও এখনো ছবিটি সম্পর্কে বেশিরভাগ তথ্যই গোপন রাখছে তারা।

২৩ আগস্ট ২০১৪ তে পিট এবং জোলি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের প্রেম চলছিল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। এই ছবিটি চিত্রায়নে গিয়ে তারা তাদের হানিমুনের কাজটিও সেরে ফেলেছেন। ছবির কাহিনীতে অবশ্য দেখা যায় সে দম্পতির বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে।

২.

ছবিটির কাহিনী ১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি ফ্রান্সের পটভূমিতে। জোলির চরিত্রটির নাম ভ্যানেসা। সে একজন সাবেক নৃত্যশিল্পী এবং তার স্বামী রোলান্ড আমেরিকান লেখক। রোলান্ডের চরিত্রটিই করছেন ব্র্যাড পিট। তারা যখন একসাথে দেশটি ভ্রমণ করে তখন মনে হয় তারা পরস্পরের কাছে থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু যখন তারা সাগরতীরের শান্ত একটি শহরে আসে তখন তাদের এখানকার প্রাণবন্ত কয়েকজন অধিবাসীর সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়, যেমন একটি বারের দারোয়ান (ওয়ার হর্স এবং এ প্রোফেট-এর অভিনেতা নিয়েলস আরেস্ট্রাপ), এবং হোটেল মালিক (দি কুক, দি থিফ, হিজ ওয়াইফের অভিনেতা রিচার্ড বোহরিঙ্গার)।

এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে দেওয়া বক্তব্যে জোলি বলেন, আমি “বাই দ্য সী ১৯৭০ এর পটভূমিতে স্থাপন করেছি কারণ এই সময়টা রঙিন এবং মোহনীয়ই নয়, এই সময়টা সমসাময়িক জীবনের অনেক ক্ষোভ দূরে সরিয়ে দেয় এবং চরিত্রগুলি যে আবেগের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে সেই আবেগের প্রতি গুরুত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ করে।”

সামাজিক মাধ্যমে জোলি বলেন, আরেকভাবে বলা যায়, জীবনের সাথে সম্পর্কিত থাকার বা জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার অনেকগুলি পদ্ধতি ছাড়াই এই সময়টিতে আপনার দৈনন্দিন জীবন থেকে পালানো সম্ভব ছিল।

আর, সমুদ্রতীরের এইসব অধিবাসীদের মধ্যে এই পরিবারের একত্র হওয়ার মাধ্যমে অতীতের কিছু আনন্দময়, কিছু দুঃখের স্মৃতি উঠে আসে। এবং এই দম্পতি নিজেদের গল্পের ভিতর দূরে সরে যায়, তারা একে অপরকে যেভাবে দেখত তা বদলাতে থাকে।

৩.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত জোলির আনব্রোকেন ছবি ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তে মুক্তি পাওয়ার পরে এটি মুক্তি পাবে। এটি জোলি পরিচালিত তৃতীয় ছবি। পরিচালক হিসেবে অ্যানজেলিনা জোলির অভিষেক হয়েছিল ২০১১ সালে ইন দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড অ্যান্ড হানি ছবি দিয়ে।

ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ব্যানারে ছবিটি মুক্তি পাবে। এখনো পর্যন্ত মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয় নি। স্টুডিওর চেয়ারম্যান ডোনা ল্যাংলে বলেছেন জোলির স্ক্রিপ্ট দেখে পছন্দ হয়েছে বলেই তিনি ছবিটি নির্মাণে সম্মত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি চমকিত হয়েছিলাম যে সে এবং ব্র্যাড এরকম সাহসী একটি প্রচেষ্টা পর্দায় আনতে চেয়েছে এবং দর্শকদেরকে একটি প্রাণবন্ত, আবেগী ভ্রমণে নিয়ে যাচ্ছে। এই ভ্রমণে মুহূর্তের পর মূহূর্ত আবেগী করে তোলে এবং এটি আশ্চর্যজনকভাবে সময়ের উর্ধ্বে।

পিট জোলির সাথে সিনেমাটি সহ প্রযোজনা করছেন। ছবির অন্যান্য কর্মীরা হলেন, সম্পাদক প্যাট্রিসিয়া রোমেল (দি লাইভস অব আদারস এ কাজ করেছেন), প্রোডাকশন ডিজাইনার জন হাটম্যান (আনব্রোকেন এ কাজ করেছেন) এবং কস্টিউম ডিজাইনার এলেন মিরোজনিক (ওয়াল স্ট্রিট: মানি নেভার স্লিপস এ কাজ করেছেন। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হলেন ক্রিস ব্রিগহাম (ইনসেপশন এর নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন), হলি গলিন (আনব্রোকেন এ নির্বাহী প্রযোজক) এবং মাইকেল ভিয়েইরা (আনব্রোকেন এ নির্বাহী প্রযোজক)।

মাইকেল হানেকে’র দি হোয়াইট রিবনের জন্য অস্কারে মনোনীত চিত্রগ্রাহক ক্রিশ্চিয়ান বার্জার বলেছেন তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাই দ্য সীতে প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করবেন। তিনি তার উদ্ভাবিত ‘সিনে রিফ্লেক্ট লাইটিং’ সিস্টেমে কাজ করবেন। এই পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক আলোকে রিফ্লেকটর বা প্রতিফলকের মাধ্যমে একটি চ্যানেলে নিয়ে আসা হয়, এর ফলে আলোর এই চ্যানেলটি একধরনের ঘনিষ্ঠ এবং কম দূরবর্তী মনে হয় এমন পরিবেশ তৈরি করে।

তিনি এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে বলেন, এই পদ্ধতিটি পরিচালক এবং অভিনেতাদের সেটে কাজ করার পদ্ধতি বদলে দেয়, এবং সে কারণে এই ছবিটি সময় এবং পরিবেশ বদলে বাড়িয়ে দিয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে মাল্টায় ছবির শুটিং শুরু হয়েছে। ২০১৪ এর নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছবিটির শুটিং চলবে।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য