page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র তামাশা — ইন্টারনেটে ভাইরাল (ভিডিও)

একজন অস্কারজয়ী অভিনেতা কি সামান্য তামাশা করলেও তা ইন্টারনেটে প্রকাশিত হতে হবে?

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ও জোনাহ হিলের বন্ধুত্ব অনেক দিনের। মার্টিন স্করসিসের আলোচিত ছবি ‘উলফ অব ওয়ালস্ট্রিটে’ও তারা বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সেই ছবিতে বন্ধু হিসেবে তাদের দুজনের বিভিন্ন উদ্ভট কর্মকাণ্ড দেখানো হয়েছে।

২০১৬ এর আগস্টের শুরুর দিকে ডি ক্যাপ্রিও ও জোনাহ হিলের তামাশা করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি কয়েক সপ্তাহ আগের। ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে ম্যানহাটনে।

ভিডিওতে দেখা যায় জোনাহ হিলকে দেখে ডি ক্যাপ্রিও জোনাহ হিলের পাগল ভক্তের মত আচরণ করছেন। ডি ক্যাপ্রিও চিৎকার করছেন এবং জোনাহ হিলের মুখের উপর তার সেল ফোন নাড়ছেন।

পাপারাজ্জিরা ডি ক্যাপ্রিওকে ফলো করে পুরো ঘটনাটিই দূর থেকে ভিডিও করে ইন্টারনেটে আপলোড করে দেয়।

dcap-321

ডি ক্যাপ্রিও ও জোনাহ হিল।

নতুন একটি ইন্টারভিউতে জোনাহ হিল এ ব্যাপারে কথা বলেছেন।

হিল বলেছেন, আমি মারাত্মক ভয় পেয়েছি।

হিল স্বীকার করেছেন প্রথমে তিনি বুঝতেও পারেন নি আসলে কত বেশি লোক ভিডিওটি দেখেছে।

তিনি বলেন, আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হবে, আমার বন্ধু আমাকে রাস্তাঘাটে মারাত্মক ভয় পাইয়ে দিতে পেরেছে এবং এতে আমি দারুণ কিছু করে ফেলেছি।… এটা মজার। এটা সুন্দর একটা মুহূর্ত ছিল।

হিল বলেছেন, এই ভিডিওর জনপ্রিয়তা দেখে তার ডি ক্যাপ্রিও’র জন্য খারাপ লেগেছে।

ডি ক্যাপ্রিও তার একটা ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট মুহূর্তে খুবই নির্দোষভাবে তার বন্ধুর সাথে তামাশা করছিলেন। কিন্তু তিনি যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেলেব্রিটিদের একজন, তাই তিনি পাপারাজ্জিদের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজের স্বাভাবিক জীবন যাপনও করতে পারেন না, আশেপাশে ইতস্তত ঘুরতেও পারেন না।

হিল বলেন, তার জীবন… কখনো কখনো আমার খারাপ লাগে যে তিনি ইতস্তত ঘুরতে বা বন্ধুর সাথে কৌতুক করতেও পারেন না, এটা সারাবিশ্বে সংবাদ হয়ে যায়। তাকে  সম্ভবত ফলো করা হচ্ছিল এবং তিনি এটা বুঝতেও পারেন নি।

এই ঘটনাটি নিয়ে হিল স্বীকার করেছেন, এটা দুর্দান্ত ছিল। আমার আসলে কারো সাথে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল না। আমি কাজ বাদ দিয়ে কফি খেতে গেছিলাম, সম্ভবত আমার ফোনে ইন্সটাগ্রাম বা ই-মেইল চেক দেখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি দৌড়ে আসেন, এবং আমাকে ভয় পাইয়ে দেন, এটা খুব মজার ছিল। আমার হার্ট আসলেই থেমে গেছিল। কারণ এটা আসলেই একটা আক্রমণ ছিল।

দুজনের তামাশা করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ‘উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ ছবির শুটিং এর সময় হিল কীভাবে ডি ক্যাপ্রিওর পিছনে লেগেছিলেন তা ২০১৩ সালে প্রকাশ করেছিলেন হিল।

হিল জানিয়েছিলেন, সিনেমাতে আমাদের দুজনের কয়েকটা মারামারির দৃশ্য ছিল। তিনি যেহেতু আমার চেয়ে আকারে বড়, শক্তিশালী, তিনি আমাকে ছয় মাস ইচ্ছামত মেরেছেন।

আমি তখন মনে মনে ভাবতাম, এই লোককে আমার জায়গামত ধরতে হবে। কী করা যায়?

সিনেমার একটা খুব ইমোশনাল দৃশ্যে আমরা সুশি খাচ্ছিলাম, স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তার বলার কথা ছিল, তুমি কি লাস্ট পিস-টা খেতে চাও?… আর আমি বলব যে হ্যাঁ, এবং আমি সেটা খেয়ে ফেলব। কিন্তু আমরা যখন প্রথম টেক নিই, তিনি বলেন, তুমি কি লাস্ট পিস-টা খেতে চাও? আর আমি বলি, না, তুমিই এটা খাও।

ফলে এই সুশি খাওয়ার দৃশ্যটি তার একশ বার করতে হয়েছিল। বার বার তার এটা করতে হচ্ছিল আর আমি ভাবছিলাম, এই হল আমার প্রতিশোধ। এই দৃশ্যের শুটিং শেষে, ভোর হয়ে যায়, তিনি মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলেন, আর সবাই জিজ্ঞেস করছিল, লিও, আপনি ঠিক আছেন তো?

২০১৪ সালে হিল ও ক্যাপ্রিও দুজনেই একসাথে আরো একটি ছবি সাইন করেছেন। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই সিনেমার কাহিনী। ১৯৯৭ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার পত্রিকায় ম্যারি ব্রেনারের আর্টিকেল ‘দ্য ব্যালাড অব রিচার্ড জুয়েল’ থেকে সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে আটলান্টায় সামার গেমসের সময় জুয়েল নামের এক সিকিউরিটি গার্ড একটি সন্দেহজনক ব্যাগ চিহ্নিত করেছিল, পরে দেখা যায় সেই ব্যাগে ছিল তিনটা পাইপ বোমা। সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্ক গ্রাউন্ড থেকে লোকজনদের সরিয়ে নিয়ে এবং অনেক লোককে হতাহতের হাত থেকে বাঁচিয়ে জুয়েল জাতীয় হিরো হয়ে যায়। কিন্তু পরে এই ঘটনায় জুয়েল সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত হয়।

এই ছবিতে জোনাহ হিল জুয়েলের ভূমিকায় অভিনয় করবেন এবং ডি ক্যাপ্রিও অভিনয় করবেন একজন আইনজীবির ভূমিকায়। সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার পর কীভাবে মিডিয়াকে মোকাবিলা করতে হবে সে ব্যাপারে জুয়েলকে এই আইনজীবী গাইড করে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক