মনে হচ্ছিল একটা সজ্জিত গ্রামে ঢুকেছি।

টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকে দেখি জাদুঘর জাদুঘর মনে হচ্ছে না।

আমরা অবশ্য দুই নাম্বার গেট দিয়ে ঢুকেছি। সেটা পরে বুঝতে পেরেছি। কেমন জানি পার্ক টাইপের। অনেক খোলা জায়গা গাছপালা। দূরে দূরে লাগানো কাপড়ের দোকান। কোনোটা টিনের, কোনোটার মেঝে পাকা।

মনে হচ্ছিল একটা সজ্জিত গ্রামে ঢুকেছি।

একটু সামনে হেঁটে দেখি একজন গাছ থেকে নারকেল পাড়ছে। গাছের ছায়া দোকানের ভেতরও পড়েছে। বিভিন্ন কালারের ও ডিজাইনের শাড়ি। মনে হচ্ছিল সস্তায় কেনা যাবে। তবে শাড়ি কিনতে আমরা যাই নি। তাই দরদামও করা হয় নি। সেখানে শাড়ির দাম সস্তা এই আন্দাজটা আসল ছোট বেলা মনে করতাম যেখানে বেশি জিনিস পাওয়া যায়, সেখানে জিনিসের দাম সস্তা।

পরিবেশ ভালোই লাগছে তবে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। অনেক রোদ ছিল। ছোট ছোট বেশ কিয়েকটি পুল দেখলাম বিভিন্ন কালার করা। ঢোকার সময় দারোয়ান বলছিল জায়টা অনেক বড়। ১৫০ বিঘা আয়তনের, ভিতরে যান ভাল লাগবে।

যাই হোক আমরা হাঁটছি। একপাশের লেকে লাল শাপলা ফুটে আছে। লোকজন বড়শি দিয়ে মাছ ধরছে। এক লোক কুঠার দিয়ে গোড়া কোপাচ্ছে নারকেল গাছের। আবার কয়েক জন বসে পেয়ারা-টেয়ারা বিক্রি করছে।

বিশ্রাম নেয়ার জন্য একটা জায়গায় বসলাম। দেখি এক বাউল একতারা নিয়ে গান গাইছে। বেশ ভালো গান গায়। কয়েকটা ছবি নিলাম তার। ভিডিও করেছি কিছু অংশ।

তখনো জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করি নি। আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। নিজেদের ছবি তোলার জন্য পোজ দিলে দেখি চেনা যায় না। তাই আর ছবি তুললাম না।

বিশ্রাম শেষে ঢুকলাম লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের ভেতরে । বিভিন্ন স্থানে লেখা—ছবি তোলা নিষেধ। তবে সবাই ছবি তুলছে। যে যার মত করে পারছে। আমিও কয়েকটা ক্লিক করলাম, কিন্তু কাচের রিফ্লেকশনের কারণে ছবি ভাল আসে নাই।

সেখানে গ্যালারিগুলিতে পুরনো দিনের কাঠ খোদাই মুখোশ, গ্রামীণ লোকজীবনের পরিবেশ, বাদ্যযন্ত্র, পোড়ামাটি, তামা-কাসা-পিতল  ও লোহার তৈরি নিদর্শন দেখতে পেলাম। তাছাড়া বড় বড় লোকজ অলংকারও ছিল।

ইতিহাস থেকে জানতে পারি ১৯৭৫ সালে ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ের পানাম নগরীর একটি পুরনো বাড়িতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৮১ সালে এটি স্থানান্তর করা হয় পুরানো সর্দার বাড়িতে।

এর দূরুত্ব ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার।  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ১ কিলোমিটার ভিতরে। প্রতিবছর মেলা হয় এখানে। ১৯৯৬ সালে শুরু হয় কারুশিল্পীদের প্রদর্শনী।

ঘুরতে ঘুরতে বেশ কয়েক জনের ভাস্কর্য দেখতে পেলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ভাস্কর্য, শহীদ শেখ রাসেলের ভাস্কর্য।

একটি পুল—আরো এমন অনেক পুল রয়েছে সব কটিই বাহারি রঙ করা

বিশ্রামের  জায়গা ও নাগরদোলা

দোকান

লেকের ভিতর লাল শাপলা, দূরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন কয়েকজন

নারকেল গাছের গোড়া কোপাচ্ছেন

লোক ও কারুশিল্প যাদুঘরের একাংশ

টিনের দোকান

পেয়ারা বিক্রেতা পোজ দিতে চাইছিলেন, আমি বললাম আপনি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন

ভেতরের রাস্তা

লিচু গাছের নিচে কাপড়ের দোকান

বাঁশ দিয়ে তৈরি নৌকা

পুকুর

বড় সরদার বাড়ি

বড় সরদার বাড়ি যা ঈসা খা জমিদার বাড়ি হিসাবে পরিচিত

পাশ থেকে প্রধান গেট

দূর থেকে জাদুঘর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য

একতারা হাতে বাউল

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ভাস্কর্য

কাঠের পালঙ্ক, সিন্দুক

লোকজ অলংকার

গ্যালারির একাংশ

লেকের মাঝে টিলায় কংক্রিটের বাঘ, পাশে নৌকাঘাট

গাছের ছায়া

লেকের পাড়ে বিশ্রাম

মেয়েটি পা ভেজানোর জন্য বাঁশের মাচায় বসেছে

কমেন্ট করুন

মন্তব্য